শেষ ট্রেনের যাত্রী ( পর্ব ১ )
| হ্যালো বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে একটি গল্প শেয়ার করে নেবো। এই গল্পটির নাম হলো "শেষ ট্রেনের যাত্রী"। রাত প্রায় ১১ টার কথা। একদিন রাকেশ নামের এক যুবক ট্রেনে করে কোথাও যাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু সে ট্রেনের টিকিট কাটলে তার রাত ১১ টা ২০ তে একটি ট্রেনের টিকিট দেয়। আর ট্রেনটি ছাড়বে গঙ্গারামপুর নামের একটি স্টেশন থেকে। গঙ্গারামপুর স্টেশনটি অনেক ছোট এবং একদম শান্ত কোলাহলহীন। এই স্টেশন থেকে তেমন বেশি একটা ট্রেন ছাড়ে না বললেই চলে, দিনে ২-৩ টি ট্রেন যায় এখান থেকে। আর এটি একদম শহরের শেষ প্রান্তে অবস্থিত একটি স্টেশন। কিন্তু এই রাতটা খুবই আলাদা, কারণ বছরের একটিমাত্র দিনেই এই দিনটা আসে।
এখানে স্টেশন মাস্টার হঠাৎ লক্ষ্য করলেন একটি যুবক তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে বসে আছে। হাতে হ্যান্ডব্যাগ এবং ভালো পোশাক পড়ে আছে, তো স্টেশন মাস্টার ভাবে যুবকটি হয়তো কোথাও ঘুরতে যাচ্ছে, কিন্তু বিষয় হলো, এতো রাতে সে স্টেশনে কি করছে। এখন তো কোনো ট্রেন নেই এই স্টেশন থেকে! স্টেশন মাস্টার কিছুটা অস্থিরতা বোধ করতে লাগে, বিষয়টা সে বুঝতে পারছে না। স্টেশন মাস্টার এগিয়ে গিয়ে যুবককে জিজ্ঞাসা করলো-এই দিকের শেষ ট্রেন তো রাত ১০ টায় চলে গিয়েছে, আপনি কোথায় যাবেন বা কারো জন্য কি অপেক্ষা করছেন? যুবকটি অর্থাৎ রাকেশ স্টেশন মাস্টারকে বললো যে-এখনো শেষ ট্রেন তো আসেনি আর সেটার জন্যই অপেক্ষা করছি।
স্টেশন মাস্টার অবাক হয়, কারণ সে স্টেশন মাস্টার, আর সেই জানেনা রাত ১০ টার পরে কোনো ট্রেন আছে কিনা। যুবক পাল্টা জবাবে স্টেশন মাস্টারকে বললো-আপনিই জানেন না এই ট্রেনের বিষয়ে, কিন্তু আজ ঠিক রাত ১১ টা ২০ মিনিটেই একটি ট্রেন আছে আর তার টিকিটও আমার কাছে আছে। তবে এই ট্রেনটি শুধু একবার অর্থাৎ বছরে একবারই আসে। স্টেশন মাস্টার যুবকের কথা শুনে হাসতে লাগলেন, কারণ তার কাছে মনে হয়েছে এই যুবকটি কোনো পাগল বা ব্রেনে সমস্যা আছে। কারণ সেই স্টেশন মাস্টার আর সেই জানে না বা তার স্টেশনের কোনো লিস্টেই এই ট্রেনের নাম নেই। যুবকটি আর কিছু না বলে সামনের দিকে তাকিয়ে ট্রেনটির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কিছুক্ষন পর অর্থাৎ একদম ১১ টা ২০ বাজতেই হুইসেল দিয়ে ট্রেন আসার শব্দ শোনা গেলো।
স্টেশন কেঁপে গেলো যেন কিছুক্ষনের জন্য আর হালকা হাওয়া বয়ে গেলো স্টেশনের উপর দিয়ে । এরপর দূরের থেকে ট্রেনের আসার আলো দেখা গেলো। স্টেশন মাস্টার তো ভীষণ ভাবে অবাক হয়ে যায়, যে কি হলো বিষয়টা! তিনি বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন-এই ট্রেন তো--এই ট্রেন তো--স্টেশনের কোনো সময়সূচিতে এমন সময়ের কোনো ট্রেনের নামের উল্লেখ নেই। তিনি আবারো অফিসে দৌড়ে গিয়ে ভালো করে দেখলেন, কিন্তু না, কোনো ট্রেন নেই। ততক্ষনে সেই যুবক ট্রেনে উঠে পড়ে এবং দরজাটা আপনাপনি বন্ধ হয়ে গেলো। আর এর কিছুক্ষন পর মুহূর্তেই ট্রেনটা অদৃশ্য হয়ে গেলো। স্টেশন মাস্টার যেন নিজেই পাগল হয়ে গেলো এই দৃশ্য দেখে। সে শুধু মাথা চুলকোতে থাকে আর চুপ করে সেখানেই দাঁড়িয়ে চিন্তায় পরে গেলেন, যে কিভাবে এটা সম্ভব আর ট্রেনটা গেলোই বা কোথায়!....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |



Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.