নীল চিঠির প্রতীক্ষা ( পর্ব ৮ )

in আমার বাংলা ব্লগ14 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000080608.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নীল চিঠির প্রতীক্ষা" গল্পের অষ্টম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- আর যদি গিয়ে জানতে পারে, নীলা তাকে আর নিজের জীবনে চায় না? মানুষ অনেক সময় উত্তর পাওয়ার চেয়ে অজানার মধ্যে বেঁচে থাকতে বেশি স্বস্তি পায়। কারণ সত্যি সবসময় সুন্দর হয় না, তবুও অয়ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল, সে যাবে।অপেক্ষা করে করে যে মানুষ এত বছর কাটিয়ে দিতে পারে, সে একবার খুঁজতেও বের হতে পারে।সকালে লাইব্রেরিতে গিয়ে সে কয়েকদিনের ছুটির আবেদন লিখল। এরপর লাইব্রেরির বৃদ্ধ মালিক হরিদাস বাবু অবাক হয়ে বলল- তুমি কোথাও যাচ্ছ অয়ন? অয়ন একটু হেসে বলল- হ্যাঁ, একটু দরকার আছে।

বৃদ্ধ লোকটা চশমার ওপাশ থেকে তার দিকে তাকিয়ে বললো- দেখে মনে হচ্ছে শুধু দরকার না, তার চেয়েও বেশি কিছু। কিন্তু অয়ন উত্তর দিল না এবং বললো- কিছু অনুভূতির ব্যাখ্যা হয় না। সেগুলো শুধু অনুভব করা যায়। দুপুরের দিকে সে বাড়ি ফিরে একটা ছোট ব্যাগ গুছিয়ে নিল। তবে খুব বেশি কিছু নিল না- কয়েকটা জামাকাপড়, কিছু টাকা, আর নীলার সব চিঠি। এই চিঠিগুলো ছাড়া যেন তার যাত্রা অসম্পূর্ণ ছিল। বিকেলের দিকে বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছালে আকাশে আবার মেঘ জমতে শুরু করেছে। বাতাসে বৃষ্টির গন্ধ, অয়ন বেঞ্চে বসে দূরের দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ তার মনে পড়ল নীলার একটা কথা।

একদিন নীলা বলেছিল- মানুষ যদি সত্যি কাউকে ভালোবাসে, তাহলে সে একদিন না একদিন তাকে খুঁজতে বের হবেই। তখন অয়ন মজা করে বলেছিল- আর যদি খুঁজে না পায়? নীলা তখন জানালার বাইরে তাকিয়ে বলেছিল- তবুও খুঁজবে। আজ সেই কথাগুলো অদ্ভুতভাবে সত্যি মনে হচ্ছে। এরপর বাস ছাড়ল সন্ধ্যার একটু আগে, জানালার পাশে বসে অয়ন বাইরের রাস্তা দেখতে লাগল।গ্রামের ছোট ছোট বাড়ি, সবুজ মাঠ, দূরের গাছপালা- সব যেনো ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছিল।মনে হচ্ছিল, সে শুধু একটা জায়গা ছেড়ে যাচ্ছে না। সে তার পুরোনো জীবনটাকেও পিছনে ফেলে যাচ্ছে। এরপর রাত বাড়তে লাগল এবং বাসের ভেতর সবাই প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু অয়নের চোখে যেনো ঘুম নেই।

সে পকেট থেকে নীলার প্রথম চিঠিটা বের করল।যদি কোনোদিন আমি হারিয়ে যাই, তাহলে আমাকে খুঁজতে বের হবেন না… এই লাইনটা পড়ে অয়ন মৃদু হাসল। তবুও সে বের হয়েছে এবং তার চোখের কোণে হালকা জল জমে উঠল। আসলে ভালোবাসা মানুষকে অনেক জেদি করে দেয়।পরদিন সকালে অয়ন পৌঁছাল শান্তিনগরে। একটা ছোট্ট শহর, কিন্তু গ্রামের তুলনায় অনেক ব্যস্ত।রাস্তায় মানুষের ভিড়, দোকানের শব্দ, গাড়ির হর্ন-সবকিছুই তার কাছে নতুন লাগছিল। সে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করল- এখানে কলেজ রোডটা কোথায়? দোকানদার রাস্তা দেখিয়ে দিল। অয়নের বুকের ভেতর ধীরে ধীরে উত্তেজনা বাড়ছিল এবং সে হাঁটতে শুরু করল।.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Sort:  
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 60641.47
ETH 1556.65
USDT 1.00
SBD 0.47