নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ৫ )

in আমার বাংলা ব্লগ5 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000083997.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের পঞ্চম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর ভোরের আলো ফুটতেই ঋত্বিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। যাইহোক, তাকে ডঃ অরিন্দম মুখার্জিকে খুঁজে বের করতেই হবে। তার মা তাকে অনেকবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল। বাবা, এসবের মধ্যে আর জড়াস না, তোর বাবাকে আমি হারিয়েছি।তোকে হারাতে চাই না। ঋত্বিক মায়ের হাত ধরে বলল- দশ বছর ধরে আমরা একটা উত্তর খুঁজছি।যদি বাবা সত্যিই বেঁচে থাকে? মধুমিতা দেবী চোখ মুছে বলল- যদি সে বেঁচেও থাকে, তাহলে সে যে জায়গায় আছে, সেটা হয়তো মানুষের জন্য নয়।ঋত্বিক কিছু বলল না। তার চোখের সামনে শুধু তার বাবার মুখটা ভেসে উঠছিল।

দুদিন পর ট্রেন, বাস আর জিপ বদলাতে বদলাতে সে পৌঁছাল উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলের একটি ছোট্ট গ্রাম "কালিপোখরি"। কুয়াশায় ঢাকা চারদিক, আকাশে মেঘ এবং চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা। যেন সময়ও এখানে ধীরে চলে। গ্রামের মানুষজন খুব একটা কথা বলছিল না। কেউ ডঃ অরিন্দম মুখার্জির নাম শুনে অবাক হচ্ছিল, কেউ আবার চুপ করে যাচ্ছিল। অবশেষে একজন বৃদ্ধ চা-বিক্রেতা ফিসফিস করে বলল- ওই বুড়ো বিজ্ঞানী? হ্যাঁ, সে পাহাড়ের ওপরে পুরোনো চার্চের কাছে থাকে। কিন্তু সন্ধ্যার আগে ফিরে আসবে। সে আবার জিজ্ঞাসা করলো- কেন? বৃদ্ধের চোখে আতঙ্ক। সূর্য ডোবার পরে ওদিকটা ভালো না, কেউ যায় না। যারা গেছে, সবাই আগের মতো ফিরে আসেনি।

বিকেলের দিকে ঋত্বিক পৌঁছাল পাহাড়ের চূড়ায়।পুরোনো কাঠের একটা বাড়ি, চারপাশে পাইন গাছ আর সামনেই ভাঙা একটা চার্চ। দরজায় কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এল- চলে যাও। ঋত্বিক বলল- আমি ঈশান রায়ের ছেলে।দরজার ওপাশে হঠাৎ নীরবতা, কয়েক মুহূর্ত পরে দরজাটা ধীরে ধীরে খুলল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে ঋত্বিক অবাক হয়ে গেল। সত্তর বছরের একজন বৃদ্ধ, সাদা দাড়ি এবং ক্লান্ত চোখ।কিন্তু সেই চোখের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত ভয়। বৃদ্ধ বললো- তুমি... ঈশানের ছেলে?হ্যাঁ, আপনি কি ডঃ অরিন্দম মুখার্জি? বৃদ্ধ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল- অবশেষে ঘড়িটা তোমার কাছেও ফিরে এসেছে। ঋত্বিক স্তম্ভিত। এরপর বললো- আপনি জানতেন?জানতাম, একদিন এটা হবেই। ডঃ মুখার্জি তাকে ভেতরে নিয়ে গেল।

ঘরের দেয়াল জুড়ে পুরোনো ছবি, নকশা, আর অসংখ্য কাগজপত্র। একটা টেবিলের ওপরে রাখা একটি ছবিতে চোখ পড়তেই ঋত্বিক থমকে গেল। ছবিতে তার বাবা আর ডঃ মুখার্জি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে আরও একজন মানুষ। একজন ঘড়ি নির্মাতা। তার নিচে লেখা- "প্রফেসর অমিয় দত্ত, ১৯৮৪"। এরপর ঋত্বিক জিজ্ঞেস করল- উনি কে? ডঃ মুখার্জির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। যে মানুষটা ভুল করে সময়ের দরজা খুলে দিয়েছিল। বৃদ্ধ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল- চল্লিশ বছর আগে আমরা তিনজন মিলে সময় নিয়ে গবেষণা করছিলাম।প্রফেসর অমিয় দত্ত বিশ্বাস করত, মানুষের স্মৃতি আসলে সময়ের আরেকটি স্তর। আর যদি সেই স্তরে প্রবেশ করা যায়, তাহলে অতীত কিংবা ভবিষ্যৎ- দুটোই স্পর্শ করা সম্ভব।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 59292.90
ETH 1557.14
USDT 1.00
SBD 0.42