নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ৭ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের সপ্তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর সে জিজ্ঞাসা করলো- সময়ের রক্ষক? হ্যাঁ, যখন প্রথম দরজা খোলা হয়েছিল, তখন আমরা ভেবেছিলাম শুধু সময়ের একটা স্তর দেখতে পাব। কিন্তু আমরা এমন একটা জায়গায় উঁকি দিয়েছিলাম, যেখানে সময়ের অস্তিত্ব আমাদের পৃথিবীর মতো নয়। ডঃ মুখার্জির কণ্ঠ কাঁপছিল। আর ওরা সেটা পছন্দ করেনি। ঋত্বিকের বুকের ভেতর অস্বস্তি বাড়তে লাগল। বাবা এখন ওদের সঙ্গেই আছে? সম্ভবত।তাহলে সে এখনও বেঁচে আছে? যদি সময় ওখানে থেমে থাকে, তাহলে তোমার বাবার কাছে হয়তো এখনও দশ বছর পার হয়নি।
কথাটা শুনে ঋত্বিকের চোখ ভিজে উঠল। তাহলে সে আমাকে চিনবে? ডঃ মুখার্জি গভীরভাবে তাকাল আর বললো- জানি না। সেই রাতেই বৃদ্ধ তাকে একটা পুরোনো কাঠের বাক্স দেখাল। ভেতরে অসংখ্য কাগজপত্র, ডায়েরি, নকশা আর ফটোগ্রাফ। সবচেয়ে পুরোনো ছবিটা ছিল ১৯৮৪ সালের। ছবিতে প্রফেসর অমিয় দত্তের পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকজন গবেষক। কিন্তু একজনের মুখ কালো কালি দিয়ে কেটে দেওয়া। ঋত্বিক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল- এটা কে? ডঃ মুখার্জি চমকে উঠল। ওর কথা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। সে কে?প্রফেসর অমিয় দত্তের সহকারী, নাম ছিল সৌমেন গুহ। অসাধারণ প্রতিভাবান। কিন্তু সময় নিয়ে গবেষণা করতে করতে মানুষটা পাগল হয়ে গিয়েছিল।
সে বিশ্বাস করত, সময়ের ওপারে এমন একটা শক্তি আছে, যা মানুষের সীমাবদ্ধতাকে শেষ করে দিতে পারে। ঋত্বিক ধীরে ধীরে বলল- তারপর?একদিন হঠাৎ সে নিখোঁজ হয়ে যায়, কেউ আর তাকে খুঁজে পায়নি। পরদিন ভোরে ডঃ মুখার্জি একটা পুরোনো মানচিত্র বের করল আর বললো- চলো। কোথায়? যেখানে সবকিছুর শুরু, অর্থাৎ প্রফেসর অমিয় দত্তের গবেষণাগার। পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর দিয়ে কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর তারা পৌঁছাল। ভাঙা লোহার গেট, মরিচা ধরা সাইনবোর্ড। তাতে লেখা- সময় ও কোয়ান্টাম গবেষণা কেন্দ্র। জায়গাটা বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত।গেটের চারপাশে আগাছা, ভাঙা কাঁচ। মনে হচ্ছে, যেন এখানে সময় সত্যিই থেমে আছে।
এরপর ডঃ মুখার্জি ধীরে ধীরে বলল- দশ বছর পর আমি আবার এখানে এলাম। তারা ভেতরে ঢুকল এবং সেখানে লম্বা করিডোর, দেয়ালে ফাটল।কোথাও পুরোনো কম্পিউটার, কোথাও ভাঙা যন্ত্রপাতি। হঠাৎ ঋত্বিক থমকে গেল। মেঝেতে ধুলো জমে আছে, কিন্তু তার ওপর স্পষ্ট পায়ের ছাপ। খুব সাম্প্রতিক। ডঃ মুখার্জির মুখ শুকিয়ে গেল। কারণ এটা অসম্ভব! এখানে কেউ আসে না।হঠাৎ দূরের একটা ঘর থেকে ধাতব শব্দ ভেসে এল- ঠং...ঠং...ঠং...। ঋত্বিক টর্চ জ্বালিয়ে সামনে এগিয়ে গেল। ঘরের দরজায় লেখা- "প্রধান পরীক্ষাগার"। দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ, কিন্তু ভেতর থেকে যেন কেউ আঘাত করছে। ডঃ মুখার্জির কণ্ঠ কাঁপছে- না...এটা হতে পারে না। দশ বছর আগে আমরা এই ঘরটা সিল করে দিয়েছিলাম।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


