নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ৩ )

in আমার বাংলা ব্লগ7 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000083997.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের তৃতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করলো- ঋত্বিক, শুনতে পাচ্ছিস?গলাটা কাঁপছিল। দূরে কোথাও যেন ধাতব কিছুর শব্দ হচ্ছিল আর তার মাঝেই সেই কণ্ঠস্বর।ঋত্বিকের ঠোঁট শুকিয়ে গেল। এরপর বললো-কে... কে আপনি? ওপাশ থেকে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা, তারপর সেই একই কণ্ঠ- আমি... বাবা।ঋত্বিকের বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল। এরপর জিজ্ঞাসা করলো- অসম্ভব! বাবা তো। আমি জানি তুই কী ভাবছিস, কিন্তু সময় নেই।ঘড়িটা খুলিস না, ওটা চালু করিস না। আর এক মুহূর্তও ওই দোকানে থাকিস না। লাইনটা হঠাৎ কেটে গেল। এরপর সে হ্যালো! হ্যালো! বলতে লাগলো।

ফোনের স্ক্রিনে "Call Ended" লেখা ভেসে উঠল। ঋত্বিক তাড়াতাড়ি নম্বরটায় আবার কল করল। এই নম্বরটির কোনো অস্তিত্ব নেই। তার মাথার ভেতর যেন সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল।বাবা! ঈশান রায়, দশ বছর আগে হঠাৎ নিখোঁজ হয়েছিল। পুলিশ খুঁজেছে, সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে, আত্মীয়স্বজন অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। শেষে সবাই ধরে নিয়েছিল, সে আর বেঁচে নেই। তাহলে এইমাত্র ফোনে কথা বলল কে? আর সেই ঘড়ির সঙ্গে বাবার নাম কেন জড়িয়ে আছে? হঠাৎ দোকানের ভেতরের সব ঘড়ি আবার একসঙ্গে টিকটিক করতে শুরু করল। ঋত্বিক দ্রুত কাঠের বাক্সটা তুলে নিল।

বাইরে বেরিয়ে এসে সে দেখল, পুরো গলিটা যেন আগের চেয়েও অন্ধকার হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ আগেও আশেপাশে দু-একজন মানুষ ছিল। এখন পুরো রাস্তা ফাঁকা, সে একবার পিছনে তাকাল। আর তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। যেখানে "সময়ের স্মৃতি" দোকানটা ছিল, সেখানে কোনো দোকানই নেই! পুরো জায়গাটাই বন্ধ। মরিচা ধরা শাটার, ধুলো জমে আছে। পাশের চায়ের দোকানে ছুটে গেল ঋত্বিক আর বললো- কাকু, এখানকার ঘড়ির দোকানটা কোথায় গেল? বৃদ্ধ চা-ওয়ালা অবাক হয়ে তাকাল আর জিজ্ঞাসা করলো- কোন দোকান? এই যে, "সময়ের স্মৃতি"। লোকটা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল- বাবা, তুমি ঠিক আছো তো? ওটা তো প্রায় বারো বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে।

দোকানের মালিকও মারা গেছে।ঋত্বিকের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। কী বলছ! হ্যাঁ, সবাই জানে, ওই জায়গাটা নিয়ে অনেক কথা আছে। রাতে কেউ যায় না। ঋত্বিক আর দাঁড়াতে পারল না। সে দ্রুত নিজের বাড়ির দিকে রওনা দিল। রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। ঋত্বিকের মা, মধুমিতা দেবী, ডাইনিং টেবিলে বসে ছিল। ছেলেকে দেখে বলল- এত দেরি করলি? ফোনও ধরছিলি না। ঋত্বিক কোনো উত্তর দিল না। তার চোখ তখনও সেই পকেট ঘড়ির দিকে। তার মা হঠাৎ ঘড়িটা দেখে থমকে গেল এবং তার চোখ বড় হয়ে গেল আর জিজ্ঞাসা করলো- এটা কোথায় পেলি? ঋত্বিক বিস্মিত অবস্থায় বললো- তুমি এটা চেনো?মধুমিতা দেবীর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Sort:  

Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟