নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ১১ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের একাদশ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- ওরা মানুষের ভয় আর আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া এক চেতনা...ঋত্বিক বিস্ময়ে বাবার দিকে তাকাল। ঈশান রায়ের চোখে জল আর বলতে লাগলো- আমি আর ফিরতে পারব না...কিন্তু তুই পারবি...দরজাটা বন্ধ করে দে। ঠিক তখনই প্রফেসর অমিয় দত্তের ডায়েরির শেষ পাতা বাতাসে উল্টে গেল। একটা লুকানো লেখা ফুটে উঠল। সময়ের দরজা বন্ধ করার একটাই উপায় আছে। যে রক্ত দিয়ে এটি খোলা হয়েছিল, সেই রক্তের উত্তরাধিকারীকেই শেষ কাঁটা থামাতে হবে।
কিন্তু মনে রেখো- সময়কে জয় করা যায় না, শুধু তাকে সম্মান করা যায়। ঋত্বিক ধীরে ধীরে সব বুঝতে পারল, বাবা কেন ফিরে আসতে চায়নি।আর প্রফেসর অমিয় দত্ত কেন নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল। আর সৌমেন গুহ কেন মানুষ থেকে অন্য কিছুর অংশ হয়ে গিয়েছিল। মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল- সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া। সৌমেন হঠাৎ চিৎকার করে উঠল- না! দরজা বন্ধ হতে পারে না! আমরা অমর! আমরা অসীম!আমরা তার কথা শেষ হওয়ার আগেই কালো সত্তাটা তার দিকে তাকাল। এক মুহূর্তের মধ্যে সৌমেনের শরীর কাঁপতে শুরু করল। তার চোখের ভেতর আতঙ্ক ফুটে উঠল- না!
আমাকে ছেড়ে দাও! আমি তো তোমাদের জন্যই, কিন্তু বাকিটা আর শেষ করতে পারল না। পরের মুহূর্তে তার শরীর ধীরে ধীরে ছাই হয়ে বাতাসে বিলীন হয়ে গেল। ডঃ মুখার্জি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সৌমেন...শেষ পর্যন্ত ও নিজেই ওদের বন্দী হয়ে গিয়েছিল। ঋত্বিক নিষিদ্ধ ঘড়িটা হাতে নিয়ে এগিয়ে গেল। অন্ধকার দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। ওপাশে ঈশান রায়, তার মুখে শান্তির হাসি।ভয় পাচ্ছিস? ঋত্বিকের চোখে জল। তোমাকে ছাড়া এত বছর কেটে গেল, বাবা। ঈশান মৃদু হেসে বলল- আমার কাছে তো এখনও মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা। মায়ের খেয়াল রাখিস। আর একটা কথা...কখনও অতীতকে বদলানোর চেষ্টা করিস না। যা চলে যায়, তাকে যেতে দিতে হয়।
এটাই জীবনের নিয়ম। ঋত্বিক আর নিজেকে সামলাতে পারল না। আমি তোমাকে হারাতে চাই না! ঈশানের চোখ ভিজে উঠল- তুই আমাকে হারাসনি। আমি তোকে নিয়েই বেঁচে আছি। যতদিন তুই আমাকে মনে রাখবি...আমি ততদিন বেঁচে থাকব। হঠাৎ কালো সত্তাটা এগিয়ে এল। তার অসংখ্য চোখ, অসংখ্য কণ্ঠ। মানুষ...শেষ সুযোগ...আমাদের সঙ্গে এসো...অমরত্ব...অসীম সময়...সব তোমার হবে...ঋত্বিক চোখ বন্ধ করল। তার মনে পড়ল- মায়ের মুখ, শৈশব, বাবার হাসি, সাধারণ জীবন, অপূর্ণ স্বপ্ন, ব্যথা, ভালোবাসা।এসবই তো মানুষকে মানুষ বানায়, অমরত্ব নয়।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


