বৃষ্টির দিনগুলো ( পর্ব ১১ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "বৃষ্টির দিনগুলো" গল্পের একাদশ পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো মেঘলার বাবা ধীরে ধীরে একটি ডায়েরি তার হাতে তুলে দিল, নীল রঙের ডায়েরি। সে সঙ্গে সঙ্গেই চিনতে পারল। এটা মেঘলার নিজের ডায়েরি, তার বাবা বলল- ও এটা তোমার জন্য রেখে গিয়েছিল। সে অবাক হয়ে ডায়েরিটা হাতে নিল আর বললো- আমার জন্য? তার বাবা বলল- হ্যাঁ। ও বলেছিল, একদিন যদি তুমি আসো, তাহলে যেন এটা তোমাকে দিয়ে দিই। তার হাত/পা কাঁপছিল। সে ডায়েরিটা বুকে চেপে ধরল। সেদিন আর সেখানে বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি, বাইরে তখন মুষলধারে বৃষ্টি। সে ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরছিল, কোনো ছাতা ছিল না কাছে।
তবুও বৃষ্টির হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা সে করেনি। কারণ সেই বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় সে যেন মেঘলার উপস্থিতি অনুভব করছিল, সেই রাতে তার ঘুমও আসেনি। ঘরের আলো নিভিয়ে জানালার পাশে বসেছিল সে। সামনে মেঘলার ডায়েরি, অনেকক্ষণ সাহস পাচ্ছিল না খুলতে।অবশেষে গভীর শ্বাস নিয়ে প্রথম পাতা খুলল।সেখানে ছোট্ট করে লেখা ছিল- যদি তুমি এটা পড়ো, তার মানে আমি তোমার সামনে বসে নেই।কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি তোমার কাছ থেকে দূরে চলে গেছি। তার চোখ ভিজে উঠল, সে পড়তে শুরু করল। ডায়েরির পাতা গুলোতে ছিল অসংখ্য দিনের গল্প। তাদের প্রথম দেখা, প্রথম ফোনালাপ।
প্রথম একসঙ্গে বৃষ্টি দেখা, প্রথম অভিমান, প্রথম হাসি, সবকিছু। প্রতিটি ঘটনার কথা সে লিখে রেখেছিল। কখনও বিস্তারিত, কখনও মাত্র দু-এক লাইনে। একটি পাতায় লেখা ছিল- আজ ওর সঙ্গে নদীর পাড়ে বসেছিল। ও বুঝতে পারে না, ও কথা বললে আমার মন কতটা শান্ত হয়। আরেকটি পাতায়- আজ ও অসুস্থ ছিল। ও জানে না, ওর ফোন বন্ধ পেয়ে আমি কতটা ভয় পেয়েছিলাম।আরও একটি পাতায়- আজ ওর চোখের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, ও কিছু বলতে চায়। কিন্তু বলল না, আমিও বললাম না। হয়তো কিছু কথা নীরবতাতেই সুন্দর। সে পড়তে পড়তে কেঁদে ফেলল। কারণ প্রতিটি পাতায় সে বুঝতে পারছিল, মেঘলা তাকে কতটা ভালোবাসত।
আর সেও তাকে। তবুও তারা কেউ কাউকে সেই কথাটা সময়মতো বলতে পারেনি। ডায়েরির শেষের দিকের পাতাগুলো ছিল সবচেয়ে কঠিন।সেখানে মেঘলা তার অসুস্থতার কথা লিখেছিল।হাসপাতালের দিনগুলো, চিকিৎসার কষ্ট, অজানা ভবিষ্যতের ভয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কোথাও কোনো অভিযোগ ছিল না, কোনো রাগ ছিল না, কোনো হতাশা ছিল না। বরং প্রতিটি পাতায় ছিল জীবনকে ভালোবাসার কথা। এক জায়গায় সে লিখেছিল- মানুষ ভাবে, মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো চলে যাওয়া। আমার মনে হয়, সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো প্রিয় মানুষদের রেখে যাওয়া। আরেক জায়গায়- যদি আমি না থাকি, তবুও আমি চাই ও যেন জীবনকে ভালোবাসে।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


