ভেন্ডি দিয়ে নাইলোটিকা মাছের সুস্বাদু রেসিপি

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

আজকে আপনাদের সাথে আমি একটা রেসিপি শেয়ার করে নেবো। এই রেসিপিটা গতকাল তৈরি করেছিলাম। এই রেসিপিটা ভেন্ডি দিয়ে তৈরি করেছিলাম আর সাথে ছিল বড়ো নাইলোটিকা মাছ। এই মাছের পিচগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন মাছটা কত বড়ো ছিল। এই ধরণের নাইলোটিকা মাছগুলো অনেক সুবিধা আছে একটাতেই দুই বেলার খাওয়া হয়ে যায় ৪ জন মানুষের। আর আমাদের পরিবারে যেহেতু ৪ জন তাই বেশি লাগে না। আর এই মাছগুলো টেস্ট হয় ভালো যেকোনো তরকারিতে দিলে। ভেন্ডির সাথেও অনেক টেস্ট হয়েছিল। এই ভেন্ডিগুলো পুরানো ভেন্ডি, এখনো বাজারে নতুন ভেন্ডি উঠে পারিনি। অনেকদিন ভেন্ডি খাওয়া হয় না, তাই বাজারে ভেন্ডি দেখে খেতে ইচ্ছা হচ্ছিলো তাই খানিকটা কিনে এনেছিলাম। তবে এখন যে ভেন্ডিগুলো উঠছে সেগুলো তরকারি দিয়ে খেতে ভালো লাগবে, আবার ভাজা করেও ভালো লাগবে। কিন্তু ভর্তা করে খেলে তেমন ভালো লাগবে না, কারণ ভর্তা একমাত্র ভালো লাগে জালি ভেন্ডিগুলো। গতদিন মা কিছুটা ভাতে দিয়েছিলো কিন্তু গোলার পরে খেতে তেমন একটা ভালো লাগেনি আমার কাছে। যাইহোক এই ভেন্ডির তরকারিটা নাইলোটিকা মাছ দিয়ে খেতে বেশ সুস্বাদু লেগেছিলো। এখন এই রেসিপিটার মূল উপকরণের দিকে চলে যাবো।


✠প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:✠

დউপকরণ
পরিমাণდ
ভেন্ডি
২০০ গ্রাম
গোল আলু
৫ টি
পেঁয়াজ
২ টি
কাঁচা লঙ্কা
১৪ টি
গোটা জিরা
পরিমাণমতো
সরিষার তেল
পরিমাণমতো
লবন
৫ চামচ
হলুদ
৪ চামচ
জিরা গুঁড়ো
১ চামচ


ভেন্ডি, গোল আলু, পেঁয়াজ


কাঁচা লঙ্কা, সরিষার তেল, লবন, হলুদ, জিরা গুঁড়ো


✔এখন রেসিপিটা যেভাবে প্রস্তুত করলাম---


☀প্রস্তুত প্রণালী:☀


❖নাইলোটিকা মাছটি বাজার থেকে কাটিয়ে নিয়ে এসেছিলাম এবং পরে বাড়ি এনে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়েছিলাম। এরপর ভেন্ডিগুলো সব কেটে নেওয়ার পরে জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে রেখেছিলাম।

❖গোল আলুগুলোর খোসা ভালোভাবে ছালিয়ে নিয়েছিলাম। এরপর আলুগুলো কেটে ছোট ছোট পিচ করে নেওয়ার পরে জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়েছিলাম।

❖পেঁয়াজ দুটির খোসা ভালোভাবে ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে নিয়েছিলাম এবং পরে ধুয়ে নিয়েছিলাম। এরপর কাঁচা লঙ্কাগুলোও কেটে নেওয়ার পরে ধুয়ে রেখেছিলাম।

❖কেটে রাখা নাইলোটিকা মাছগুলোর পিচে ২ চামচ লবন এবং ১.৫ চামচ হলুদ গুঁড়ো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর মাছের গায়ে ভালোভাবে মিক্স করে নিয়েছিলাম।

❖একটি প্যানে সরিষার তেল দেওয়ার পরে তাতে লবন-হলুদ মাখানো মাছের পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর ভালো করে ভাজা হয়ে আসলে তুলে রেখেছিলাম।

❖অন্য আরেকটি কড়াইতে অল্প তেল দিয়ে আলুর পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর ভালো করে ভেজে তুলে নিয়েছিলাম।

❖আলু ভাজার পরে কড়াইতে আরেকটু তেল দিয়ে পেঁয়াজ দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর ভেজে নেওয়ার পরে তুলে রেখেছিলাম।

❖পেঁয়াজ ভাজার পরে কড়াইতে সরিষার তেল এবং তাতে গোটা জিরা দিয়ে একেবারে কেটে রাখা ভেন্ডি সব দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে ভেজে রাখা আলুর পিচগুলো সব দিয়ে দিয়েছিলাম।

❖আলু দেওয়ার পরে তাতে কাঁচা লঙ্কা এবং ভাজা পেঁয়াজ দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে স্বাদ মতো লবন আর হলুদ গুঁড়ো দিয়ে দিয়েছিলাম।

❖মশলাগুলো উপাদানের সাথে ভালোভাবে মিক্স করে নিয়েছিলাম। এরপর তাতে পরিমাণমতো জল ঢেলে দিয়েছিলাম।

❖জল দেওয়ার পরে তরকারিটা ভালো করে ফুটিয়ে নিয়েছিলাম এবং আলু আর ভেন্ডি সেদ্ধ করে নিয়েছিলাম। এরপর সেদ্ধ আলুগুলো তরকারির থেকে একটি পাত্রে তুলে নিয়েছিলাম এবং হাতা দিয়ে চেপে ভালো করে গলিয়ে নিয়েছিলাম।

❖আলু গলানোর পরে তরকারিতে ভেজে রাখা নাইলোটিকা মাছের পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর কিছুক্ষন ফুটিয়ে নেওয়ার পরে গলিয়ে রাখা আলুর অংশটা দিয়ে দিয়েছিলাম।

❖গলানো আলুর অংশটা দেওয়ার পরে তরকারির সাথে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম এবং তরকারিটা ভালোভাবে হয়ে আসার জন্য দেরি করেছিলাম।

❖তরকারির ঝোলটা ঘন এবং কমে আসলে আমার তরকারিটা হয়ে গেছিলো। এরপর চুলা অফ করে তাতে জিরা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছিলাম এবং তরকারিটা পরিবেশনের জন্য একটি পাত্রে তুলে নিয়েছিলাম।

রেসিপি বাই, @winkles

শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

Sort:  
 3 years ago 

ভেন্ডি দিয়ে নাইলোটিকা মাছের সুস্বাদু রেসিপি তৈরি করেছেন দাদা। এই রেসিপিটি খুবই সুস্বাদু মনে হচ্ছে। আসলে আমার লাইলোনটিকা মাছ আমার খুবই প্রিয়। আমি খেতে খুব পছন্দ করি। আর আজকে আপনি এই মজাদার তৈরি করেছেন। আমরা ডেন্ডিকে আমরা ঢেঁড়স বলে থাকি। আর ঢেঁড়স আমার খুবই প্রিয় বিশেষ করে ভর্তা খেতে বেশি পছন্দ করি। আপনি খুবই সুন্দরভাবে আজকে এই রেসিপিটি তৈরি করলেন। তবে বাজারে এখন আমি ডেন্ডি দেখিনি।উঠেছে কিনা তা এখনও জানা হয়নি। আমি বাজারে অনেক দিন হল যায়না।তবে আজকে আপনার রেসিপি দেখে লোভ হচ্ছে ডেন্ডি কিনে ভর্তা রেসিপি তৈরি করব ইনশাল্লাহ। আমাদের সাথে মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

ভেন্ডী ভাজি করে খেয়ে আমার বেশি ভাল লাগে। মাছ দিয়ে কখনো খাওয়া হয়নি। আমাদের বাংলাদেশে এখনও বাজারে ভেন্ডী খুব একটা দেখা যায় না। আমার মেয়ে খুব পছন্দ করে বলে গতকাল একটি দোকানে দেখে দাম জিজ্ঞেস করতে বলে ১২০ টাকা। ঘাড় নুয়ে আস্তে করে চলে এসেছি। আপনার রান্নার প্রণালী এবং পরিবেশন দেখে আমার মনে হচ্ছে নাইলোটিকা মাছ দিয়ে রান্না করলেও বেশ মজার হবে। আমার আলু খুব পছন্দ তাই আপনার প্রায় রেসিপিতে আলু ভেজে ভেঙ্গে দেয়াটা আমার ভাল লাগে। ধন্যবাদ দাদা।

 3 years ago 

দাদা আপনার পোস্টটে ভেন্ডি কি সেটা বুঝতে পারছিলাম না। পরে ছবি দেখে বুঝলাম আসলে আমরা ভেন্ডিকে ঢেড়স বলি।ভেন্ডি দিয়ে নাইলোটিকা মাছের অসাধারণ রেসিপি করেছেন।তবে এবার এখনো ঢেড়স উঠেনি। আর জালি ঢেড়স ভর্তা অনেক মজা।আপনি গোটা জিরা তেলে দেওয়ার জন্য মনে হয় স্বাদ অনেক বেড়ে যায়। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটা রেসিপি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

দাদা নমস্কার
ভেন্টি যে এখনো আপনাদের ওই দিকে পাওয়া যায় শুনে ভালো লাগলো ৷ আসলে আপনাদের ওই দিকে প্রায় বারো মাস শাক সবজি চাষ হয় ৷ আ

যা হোক নাইলোটিকা মাছের নাম আজ প্রথম শুনলাম ৷ সেই সাথে আপনার প্রতিটি রান্নার করার ধাপ ৷ সত্যি বলতে অনেক ভালো লাগলো ৷ আর ফেন্ডি খেতে বেশ ভালোই লাগে ৷
অনেক ধন্যবাদ দাদা এতো সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন ৷

 3 years ago 

নাইলোটিকা মাছের নাম এই প্রথম জানতে পারলাম দাদা! দেখতে অনেকটা তেলাপিয়া মাছের মতো মনে হচ্ছে, মাছের সাইজও মোটামোটি বড়! এই সময়ে বাজারে ভেন্ডি কচি ভেন্ডি পাওয়া যায়! ভাজি আর ভর্তা করে খেতেও ভীষণ স্বাদের হবে! যাক, নাইলোটিকা মাছের কম্বিনেশন এ ভেন্ডির রেসিপি নিশ্চয় ভালো হয়েছে।

 3 years ago 

ঢেঁড়স ভাজি ভর্তা এবং রান্না সবকিছু খেতে আমার কাছে ভালো লাগে। তবে মাছ দিয়ে রান্না করলেও খেতে খুবই মজা হয়। আপনার নাইলোটিকা মাছ অনেকটা দেখতে তেলাপিয়া মাছের মত। রেসিপিটি দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে খুবই মজা হয়েছে। রান্না করার প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর ভাবে আপনি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন ‌। ধন্যবাদ আপনাকে সুস্বাদু ও আমার পছন্দের একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

দাদা ভাল আছেন আশাকরি। আপনার রেসিপির আজকের মাছ নাইলোটিকা দেখতে একদম তেলাপিয়া মাছের মত। আপনি ঢেঁড়স আর আলু দিয়ে রান্না করলেন।রান্নার ধাপ খুব সুন্দরভাবে উপস্হাপন করেছেন, খুব ভাল লাগলো। ঢেঁড়স খেতে এমনিতেই ভালো লাগে। আর মাছ ভাজায় দিলে তো এর টেস্ট দিগুন হয়ে যায়। মজার এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

আমাদের গ্রাম্য ভাষায় ঢেঁড়স কে অনেকে ভেন্ডি বলে ডাকে। আসলে বেশিরভাগ সময় ঢেঁড়স বলেই ডাকা হয়। আপনার কাছে এই নামটি জেনে সত্যি ভালো লাগলো। আসলে আপনার ভাষার সাথে আমাদের ভাষার অনেক মিল আছে। আর খাবারের রেসিপিগুলোতেও মিল আছে। নরম নরম ঢেঁড়স গুলো ভাতের উপর দিয়ে সেদ্ধ করে ভর্তা করলে খেতে ভীষণ ভালো লাগে। আর সাথে একটু সরিষার তেল দিলে ভর্তাটা খেতে আরো বেশি মজার হয়। নাইলোটিকা মাছগুলো দেখতে অনেকটা তেলাপিয়া মাছের মত লাগছে। আমাদের এখানে লাল লাল প্রজাতির কিছু মাছ পাওয়া যায় সেগুলোকে নাইলোটিকা মাছ বলা হয়। তবে মাছের নাম যাই হোক না কেন মাছ খেতে আমরা সব সময় পছন্দ করি। বিশেষ করে সবজি দিয়ে মাছ রান্না করলে খেতে বেশি ভালো লাগে। দাদা আপনার তৈরি করা রেসিপি দারুন হয়েছে।

 3 years ago 

দাদা,, কবে যে চারজন সংখ্যা থেকে পাঁচজন হবে সেটাই চিন্তা করতে করতে আমি শেষ🙃।ঢ়েড়স কে ভেন্ডি বলেন আমি তো ভেবেছিলাম আবার ভেন্ডি নামের মাছ আবিষ্কার করে আমাদের সাথে রেসিপি শেয়ার করছেন😃😃।আসলেই জালি জালি হলে ভর্তা করলে খেতে ভালো লাগে।যাই হোক ভেন্ডি কিংবা ঢ়েড়স দিয়ে দারুণ একটি রেসিপি তৈরি করেছেন।নাইলোটিকা মাছ খেতে ভালোই লাগে বিশেষ করে কড়া ভেজে। ঢ়েড়স দিয়ে নাইলোটিকা
মাছের এই রেসিপি খেতে বেশ দারুন হয়েছে কালার দেখেই মনে হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর করে দেখিয়েছেন। ধন্যবাদ

 3 years ago 

দাদা,, কবে যে চারজন সংখ্যা থেকে পাঁচজন হবে সেটাই চিন্তা করতে করতে আমি শেষ🙃

কিজানি বলা যায় না , সামনের বছর হয়ে যেতে পারে কিন্তু🤣 ।

 3 years ago 

দাদা ভেন্ডি দিয়ে নাইলোটিকা মাছের মজাদার একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন ৷ যদিও নাইলোটিকা মাছের নামেটা বেশ অচেনা লাগছে ৷ তবে মনে হচ্ছে এটা খেতে খুবই মজাদার এবং সুস্বাদু ৷ যাই হোক ভেন্ডি দিয়ে খুবই সুন্দর ভাবে নাইলোটিকা মাছ রান্না করেছেন ৷ আপনার রেসিপি দেখতে বেশ লোভনীয় হয়েছে ৷ আশা করি খেতেও বেশ মজার হয়েছে ৷ ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য ৷

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.094
BTC 63671.12
ETH 1786.46
USDT 1.00
SBD 0.39