পুজো পরিক্রমা ২০২৪: দমদম পার্ক ভারত চক্র পর্ব ২
নমস্কার বন্ধুরা,
গুটি গুটি মন্ডপের মাঝে ঢুকে পড়লাম। মন্ডপে তৈরি হয়েছে একটি তাঁতঘর, যা তৈরি হয়েছে কাঠ, বাঁশ, দড়ি দিয়ে। মন্ডপের ভেতরের আলো আঁধারির খেলাতে জামদানি শাড়ির জটিল নকশা সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে। জামদানির সাথে পুজো মন্ডপে জায়গা পেয়েছে মৃৎশিল্প, কাঠের খোদাই, ও হ্যান্ডলুম কাপড়ের অংশ, যা আদপে বঙ্গের গ্রামীণ বুনন সংস্কৃতিকে তুলে ধরে জামদানির ঐতিহ্যের সাথে। মন্ডপে আরেকটি বড় আকর্ষণ হিসেবে বানানো হয়েছে “কিশোরগঞ্জ কর্ণার”। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে জামদানি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য। ব্রিটিশ আমল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলার তাঁতিরাই সবচেয়ে সূক্ষ্ম জামদানি বুনতেন, যা ছিল ভারত সহ সারা পৃথিবীর অভিজাত কাপড়ের একটি।
মন্ডপে অন্দরের সবচাইতে যে বিষয়টা নজর কেড়েছে সেটা অবশ্যই সূক্ষ্ম জামদানির নকশার সাথে মন্ডপে অন্দরে আলোর ব্যবহার। জামদানির নকশা ফুটিয়ে তুলতে মণ্ডপে আলোর ব্যবহার হয়েছে অত্যন্ত মাপের। নরম হলুদ আলো জামদানির কাপড়ের জটিল নকশা স্পষ্ট করে তুলেছে। কোথাও আবার সাদা আলো দিয়ে সুতোয় চলমান বুননের প্রভাব তৈরি হয়েছে। যাতে চলমান তাঁতর মতো শোনায় তাই তাঁত চালানোর শব্দ চলছে পেছনে। সেটা মন্ডপের ভেতরের মাধুর্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সাথে মন্ডপের গায়ে জায়গা পেয়েছে বহু তাঁতিদের জীবন কাহিনী। ভারত চক্রের এবারের থিম শুধু ভাবনা নয়, আমাদের ইতিহাসের অংশ। বঙ্গের হস্তশিল্পের প্রকৃষ্ট উদাহরণ, জামদানি। তাই “বুননের শিল্প” আসলে বাংলার বুনন শিল্পের প্রতি সঠিক রূপেই শ্রদ্ধার্ঘ্য।
মায়ের মূর্তিতেও আছে থিমের ছোঁয়া। দেবীর পোশাক ও অলঙ্কারে জামদানি মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে। সিংহাসন তৈরি হয়েছে তাঁতের কাঠামোর আদলে। মায়ের প্রতিমার কাছে সব অংশে ছড়িয়ে আছে জামদানি প্যানেল।
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
বাহ @kingporos, আপনার এই পোস্টটি যেন এক টুকরো শিল্প! মণ্ডপের ভেতরের তাঁতঘর, জামদানি শাড়ির জটিল নকশা, এবং আলোর খেলা—সবকিছু মিলেমিশে এক অসাধারণ আবহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে "কিশোরগঞ্জ কর্ণার"-এর কথা জেনে খুব ভালো লাগলো, জামদানি শিল্পের ইতিহাসে এই অঞ্চলের অবদান সত্যিই অনেক।
আপনার ছবিগুলো দেখে মনে হচ্ছে যেন সরাসরি মণ্ডপে গিয়ে নিজের চোখে দেখছি। দেবীর মূর্তিতেও জামদানি মোটিফের ব্যবহার দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এটা সত্যিই "বুননের শিল্প"-এর প্রতি এক দারুণ শ্রদ্ধার্ঘ্য।
পোস্টটি এত সুন্দরভাবে আমাদের ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে, সেজন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। এমন চমৎকার একটি বিষয় আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনার প্রশংসা না করে পারছি না! আপনি যদি এই ধরনের আরও কিছু পোস্ট করেন, তাহলে আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে পারবো।