মোয়ার টানে জয়নগর: রাজপুরের বিপত্তারিণী চণ্ডী মন্দির
নমস্কার বন্ধুরা,
সোনারপুর থেকে আমি সোজা চলে গেলাম রাজপুর বিপত্তারিণী চন্ডি মায়ের মন্দিরে। সোনারপুর লাগোয়া রাজপুরের বিপত্তারিণী চণ্ডী মায়ের মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই করেছিলাম। মূলত বহুদিন আগে যখন জয়নগর যাওয়ার আসল পরিকল্পনা বানাই তখনই মায়ের মন্দির যাবো ঠিক করি। তাই জয়নগর যাওয়ার পথে মায়ের আশীর্বাদ নিতে পৌঁছে গেলাম। রাজপুর বিপত্তারিণী চণ্ডী মন্দিরে বিপত্তারিণী মা কালী রূপে পূজিত হন। প্রাচীন এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বাবা দুলাল। বাবা দুলালের আসল নাম দুলালচন্দ্র দাস। কথিত আছে দুলালচন্দ্র দাস ছোট থেকেই সাধন-ভজনে লীন হয়ে থাকতেন। উনিই পরবর্তীতে বিশিষ্ট সাধক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে দেবী চণ্ডীকে নিজের বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন।
মন্দির প্রতিষ্ঠার পর ধীরে ধীরে ভক্তদের আনাগোনা বাড়তে থাকে এবং মা বিপত্তারিণীর কৃপায় ভক্তরা নিজেদের জীবন থেকে নানা বিপদ থেকে রক্ষা পান। যার ফলস্বরূপ বহিরাগত ভক্তরাও এখানে আসা শুরু করেন, আমিও সেই বহিরাগত ভক্তদের মধ্যেই একজন। মন্দিরে যেহেতু প্রথম পৌঁছেছি তাই সব কিছুই নিজে থেকে করা। যেমন মন্দিরের ভেতরেই করার সুব্যবস্থা আছে, যেহেতু আমার তা জানা ছিল না তাই মন্দির থেকে কিছুটা দূরে পার্ক করে মন্দিরের ভেতরে চলে গেলাম। সেখানে জুতো রাখবার জায়গায় পাদুকা খানি দিয়ে প্রথমে মন্দির চত্বর ঘুরে নিলাম।
মন্দিরের ভেতরের একদিকে ভক্তদের ভিড় দেখে সেদিকে এগিয়ে গেলাম। শ্রী দুলালচন্দ্র দাস যে গাছের তলায় বসে সাধনা করতেন সেই গাছটি এখন আছে। শ্রদ্ধা সহকারে সেখানে প্রণাম করে মায়ের মূল মন্দিরে এগোলাম। লোকমুখে শুনতে শুনতে মায়ের মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করলাম। আহা! মায়ের সেকি রূপ! অনেক দিনের ইচ্ছে পূরণ হলো। মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে মন্দিরের বাকি অংশ ঘুরে নিলাম। মূল মন্দির দোতলায় আর একতলায় রয়েছে আরো বেশ কিছু অন্য দেবদেবীর প্রতিমা।
মন্দির ঘুরে অনেক আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলো আমার। মায়ের কাছে বারবার আসবো সেটাই তো ইচ্ছে। আর এত সুন্দর মন্দির পরিসর বারবার আসতে মন চাইবেই। সময় হাতে অল্প তাই মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে মন্দির থেকে বেরিয়ে পড়লাম। তখন বেশ খিদে পেয়েছে। আর মন্দিরের বাইরেই পেলাম দারুন এক জায়গা...
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
রাজপুরের বিপত্তারিণী চন্ডি মন্দিরে গিয়ে তো দেখছি বেশ ভালোই ফটোগ্রাফি করেছেন দাদা। বেশ ভালো লাগলো ফটোগ্রাফি গুলো দেখে। তাছাড়া শ্রী দুলালচন্দ্র দাস যে গাছের তলায় বসে সাধনা করতেন, সেই গাছটি এখনো আছে,এটা জেনে খুব ভালো লাগলো। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
জয়নগর যাওয়ার পথে আপনার বহু আকাঙ্ক্ষার জায়গা রাজপুর বিপত্তারিণী চন্ডি মায়ের মন্দিরে যাওয়ার সুযোগটা পেয়ে গিয়েছিলেন। সেই সাথে সেই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা দুলালচন্দ্র দাস তথা শ্রী দুলাল চন্দ্র যে গাছের নিচে বসে সাধনা করতেন সেটাও দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো আপনার। যাই হোক রাজপুর বিপত্তারিণী চন্ডি মায়ের মন্দিরে যাওয়ার পুরো অনুভূতিটা আমাদের মাঝে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন দাদা।