ইন্টারনেট বিভ্রাট
নমস্কার বন্ধুরা,
ইন্টারনেট, ছোট এই কথাটির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সারা বিশ্ব। আর তার সাথে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জুড়ে রয়েছি আমরা। খুব তাড়াতাড়ি ইন্টারনেট আমাদের জীবনে অপরিহার্য জায়গা করে নিয়েছ। বর্তমানে ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমার আলাদা করে কিছু বলার নেই কারণ প্রত্যেকের জীবনেই ইন্টারনেট নামক বস্তুটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। কাজকর্ম থেকে বিনোদন সব কিছুই এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে। আর সেটাই যদি না থাকে তাহলে কি হবে বলুন তো। ভাবলেই কেমন যেন গায়ে কাঁটা দেয়, তাই না? আমি আজ হাড়ে হাড়ে টের পেলাম।
প্রতি বৃহস্পতিবার আমার বাংলা ব্লগের হ্যাং আউটের সময় আমরা যারা হ্যাং আউটের পেছন দিক গুলো দেখভাল করি তাদের সবাইকেই পুরো সময়টা খুব সজাগ থাকতে হয়। কখন কি কাজ আসে সেগুলোই সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখা। এসবের মাঝে হুট করে বিদ্যুৎ চলেও যায় তাহলে আমরা কিছুক্ষনের জন্য থ মেরে যাই বটে তবে যেহেতু কিছু বাদে বিদ্যুৎ আবার ফিরে আসে তাই বিদ্যুৎ যাওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত বিশেষ বেগ পাইনি। কিন্তু আজকের ঘটনা একটু ভিন্ন রকমের ছিলো। ঘড়িতে তখন দশটা পনেরো। হ্যাং আউটে সবাই কুইজ নিয়ে মাতোয়ারা। ঠিক সেই সময়ে বিপত্তি ঘনিয়ে এলো।
ঘটনা শুরু থেকে বলি। রাত সোয়া দশটা নাগাদ হঠাৎ আমার ব্রডব্যান্ডের ওয়াইফাইটা উড়ে গেলো। আমি সেদিকে গা না করে মোবাইলের ডাটা অন করলাম। কিন্তু মিনিট খানেক চেষ্টার পরেও শুধু কানেক্টিং শব্দটা স্ক্রিনের উপরে ভেসে উঠতে থাকলো। আমি ভাবলাম, এরম কানেকটিং তো আমাকে মাঝে মাঝেই দেখায় তখন ডিসকর্ড থেকে বেরিয়ে আবার কানেক্ট করলেই সব ঠিক হয়ে যায়। তাই করলাম কিন্তু আগের মতোই, শুধু কানেকটিং।
আমি তখন বুঝতে পারিনি যে আমার জন্য আরো বড় বিপত্তি অপেক্ষা করছে। হঠাৎ দেখি মোবাইলের নেটওয়ার্কটাও আর নেই। দৌড়ে ওয়াইফাই রাউটার অফ করে অন করলাম। আগের মতোই লাল আলো জ্বলে উঠলো। দুশ্চিন্তায় মোবাইলটা রিস্টার্ট করলাম। তবুও নেটওয়ার্কের কোনো সাড়াশব্দ নেই। কি করি কি করি। বাড়ির ফোনটায় ডাটা অন করতে দৌড়ে দিলাম। কিন্তু একি!!! বাড়ির ফোনেও নেটওয়ার্ক নেই। বুঝতে পারছিলাম না যে আসলে কি হয়েছে। তাই সব ফোনের সিম গুলো বের করে আবার রিস্টার্ট শুরু করে দিলাম। কিছুতেই সমস্যার সমাধান পাচ্ছি না। কপালের তখন বিন্দু বিন্দু ঘাম বেরোতে শুরু করেছে।
টানা ২৫ মিনিট বহু ধস্তাধস্তির পরে বিফল হয়ে পাশের বাড়ির এক ভাইকে ফোন করলাম, নেটওয়ার্ক আছে কিনা জানার জন্য। সৌভাগ্যবশত তার নেটওয়ার্ক আছে। আমি তাকে ঘুম থেকে তুলিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসার কথা বললাম। বাইরে তখন পূর্ণিমার চাঁদ জ্বলজ্বল করছে সাথে কনকনে ঠাণ্ডা। আমি বেরিয়েই তার ফোনের হটস্পট ব্যবহার করে ডিসকর্ডে ঢুকলাম তারপর থাকতে না পারার কথা জানিয়ে রাতের মতো বিদায় নিলাম।
ধস্তাধস্তি শেষ হওয়ার ঘন্টা দুয়েক পর রাউটারের সবুজ আলো দব দব করে জ্বলে উঠলো। রাউটারের সবুজ আলো দেখে আমি অনেকটা স্বস্তি পেলাম। ইন্টারনেট ছাড়া আমরা যে কতটা অচল হয়ে যাই সেটার একটা ছোট্ট নমুনা আজ আমি পেলাম।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
সপ্তাহের একটাই দিন যেখানে সবার সাথে কথা হয়। সেটাই যদি এমন ভাবে থেমে যায় তাহলে খুবই খারাপ লাগে।
আমি ঠিক বলেছেন ভাই এখন আমাদের ইন্টারনেট ছাড়া চলেই না। এখন ইন্টারনেট আমাদের জীবনে অনেক ভূমিকা পালন করে। অনেকে আছে যারা বেশিরভাগ ইন্টারনেটে পড়ে থাকে। আর এই সময় যদি ইন্টারনেট না থাকে তাহলে তো বুঝাই যায় কি রকম লাগবে। আপনি তো দেখছি ইন্টারনেট না থাকায় বেশ একটা বিভ্রান্তির শিকার হয়েছিলেন। আসলেই কোন কাজের সময় যদি ইন্টারনেট না থাকে এমনিতেই মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যায়।যাই হোক আপনি শেষমেশ পাশের বাসার এক ভাইয়ের কাছ থেকে ইন্টারনেট পেয়েছেন এটা জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
বিশাল ঝামেলা। ঘেমে নেয়ে গেছিলাম পুরো। হাঃ হাঃ।
ভাইয়া আপনি ঠিক বলেছেন, নেটওয়ার্ক ছাড়া এখন আমাদের একটা মিনিট চলে না,মনে হয় যে দম বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া যেহেতু আপনারা এখন এখানে (এডমিন মডারেটর) পদে আছেন সেহেতু আপনাদের দায়িত্ব একটু বেশি। তাই আপনাদের আরো বেশি সমস্যা হয়। কিন্তু ভাইয়া হঠাৎ করে কেন আপনার ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এবং আপনার বাড়ির সবার সিমের নেটওয়ার্ক চলে গেল? সেটাই ভাবছি।যাইহোক অবশেষে নেট এসেছে শুনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া নেটওয়ার্ক নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আগাম জানা থাকলে বলা যায় কিন্তু হঠাৎ হয়েই সমস্যা অনেক বেশি ছিল।
ব্রডব্যান্ডের লাইন মাঝে মাঝে এমন ডিস্টার্ব দেয় মানে আর সহ্য করে নেওয়া মুশকিল হয়ে যায়। তাই সবসময়ই ডাটা প্যাক প্রস্তুত রাখি। ডাটা প্যাক হোক বা ব্র্যান্ডের লাইন হোক যদি গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় খুব ডিস্টার্ব দেয় তাহলে যে কতটা খারাপ লাগে সেটা হয়তো আপনি নিজেই বুঝেছেন।।
আমার প্রথমে মাঝে মাঝে হতো। অনেকদিন পরে আবার সমস্যা শুরু হয়েছে। মাঝেই মাঝেই ২-৩ ঘণ্টার জন্য নেট হাওয়া।
ইন্টারনেট আমাদের জীবনের সাথে এতটাই অঙ্গাঙ্গীন ভাবে জড়িয়ে আছে যে একে ছাড়া আমাদের জীবন এখন কল্পনা করাই মুশকিল হয়ে গেছে।
কাজের সময়ে গেলে আর ঝামেলার সন্মুখীন হতে হয় আরকি।
বর্তামানে ইন্টারনেট বিভ্রান্তি সবখানেই একই অবস্থা। আমাদের এখানেও কমবেশি এরকম হয়, আসলে যে জিনিসের সুবিধা যত তার অসুবিধাটাও মানুষ কে বেশি ভোগান্তির মধ্যে ফেলে। দাদা আপনাদের সবসময়ই অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয় আবার সেই সাথে হ্যাংআউট চলাকালীন এই অবস্থা হয়েছে এটা সত্যিই অনেক ভোগান্তি ও টেনশনের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিল সেটা একটু হলেও অনুভব করতে পারছি। হ্যাংআউট এর দিনে সবসময়ই ভয়ে থাকি এই বুঝি বিদ্যুৎ চলে যাবে, আজকাল কেন জানি মোবাইল ডাটারও খুব সমস্যা কাজ করতে চায়না। ঈশ্বর সহায় ছিল বলেই মনে হয় পাশের বাসার ভাইয়ের নেটওয়ার্ক ছিল আর তাই দিয়ে নিজের সমস্যার একটু হলেও সমাধান করতে পেরেছিলেন। ঈশ্বর আপনার সবসময়ই সহায় হোক এই প্রার্থনা করি দাদা।🙏
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গেলেই বেশি সমস্যা হয়। অন্য সময়ে যখন যায় বিশেষ বুঝতে পারিনা।
বর্তমান সময়ে এমন একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি যেখানে ইন্টারনেট ছাড়া একটি দিন অতিবাহিত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ইন্টারনেট নিয়ে আপনি খুবই ভ্যাবাচেকার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন যেটা আপনার পোস্ট পড়ে বুঝতে পারলাম। আসলে এরকম হুটহাট নেটওয়ার্ক চলে যাওয়ার আমাদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে পাশের বাসার কারো ফোন দিয়ে হটস্পট অন করে তার থেকে নেট নিয়ে কাজ চালিয়েছেন। অবশেষে দু ঘন্টা পরে রাউটারে সবুজ বাতি দেখে আপনি স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। সত্যিই বর্তমান সময়টা ইন্টারনেট ছাড়া কল্পনা করা যায় না।
হঠাৎ নেটওয়ার্ক চলে গেলে মহা বিপদে পড়া যায়। আগে থেকে একটু জানা থাকলে বিষয়টা নিয়ে সাবধান থাকা যায়।
সত্যিই দাদা এখনকার সময়ে ইন্টারনেট না থাকলে খুব খারাপ অবস্থা হয়ে যায়। আমাদের এখানে বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের মোবাইল ডাটা ফল্ট করা শুরু করে, দেখা যায় যতক্ষন বিদ্যুৎ না আসে স্থবির হয়ে বসে থাকতে হয়। যাক ঐদিনের আপনার বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর নেটের সমস্যার কথা শুনছিলাম আর ভাবছিলাম আমারও মাঝে মাঝেই এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বেশ কষ্ট করেছেন সেদিন।
বিদ্যুৎতের সমস্যা হয় না। নেটেরও নয় কিন্তু হঠাত কি যে হলো।
ইন্টারনেট ছাড়া বর্তমানে আমাদের জীবন একেবারে অচল। যদি কোথাও গেলে নেটওয়ার্কের সমস্যা হয় তাহলেই দম বন্ধ লাগে। আর আপনার তো বেশ সমস্যা হয়েছিল দাদা। একদিকে ওয়াইফাই সমস্যা হয়েছিল অন্যদিকে মোবাইলে ডাটা কাজ করছিল না। সব মিলিয়ে তো বেশ বিপদে পড়েছিলেন দাদা আসলে হ্যাংআউটের সময় সত্যি খুবই সতর্কতার সাথে থাকতে হয় এবং সবকিছু একটিভ না থাকলে বারবার কানেক্টিং দেখায়। যাইহোক দাদা আপনার এই বিড়ম্বনার কথা শুনে সত্যিই খারাপ লাগলো।
নেটওয়ার্ক গুলোই ছিলো না দিদি। সে কি ঝামেলা। কি আর বলবো। 😭
দাদা একদম যথার্থ বলেছেন ৷ আসলে ইন্টারনেট জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে ৷ কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন মাধ্যম সব পর্যায়ে ইন্টারনেট প্রয়োজন৷ বলতে গেলে সারা বিশ্বকে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই চলছে৷ যদি কিছু মুহূর্ত ইন্টারনেটে না থাকে তাহলে কি হবে একবার ভাবুন৷ আপনার ইন্টারনেটের এরকম বিপত্তি শুনে খারাপ লাগলো ৷
সত্যি বলে দাদা মাঝে মাঝে আমারও এরকম হয়৷ যদিও আমাদের বাংলাদেশে তেমন একটা খুব সার্ভার অর্থাৎ নেট ভাল না৷ তখন ঠিক আপনার মতো আমিও বারংবার চেষ্টা করি ইন্টারনেট থেকে কানেক্ট করার জন্য৷ কিন্তু তা কি আর বললেই হয় ৷ তবে কিছুক্ষণ পর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে৷
আমার এরম হয়নি। প্রথমে খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। হাঃ হাঃ