মরণঘাতি রাসেলস ভাইপার। বাঁচতে হলে জানতে হবে।

in #snake4 months ago

রাসেলস ভাইপার যা গ্রাম বংলায় মূলত চন্দ্রবোড়া নামে পরিচিত | অন্যতম সুন্দর সাপেদের একটি এটি | সাপ শব্দটি শুনলে কে না ভয় পায়। শব্দটা শোনার সাথে সাথেই মনে হয় এই বুঝি সামনেই একটা সাপ ফণা তুলে দাঁড়িয়ে হিসহিস করছে। সব সাপ কিন্তু আবার ফণা তুলতে পারে না। এমনই এক সাপ হল রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া)। পৃথিবীতে দুই ধরনের সাপ বিদ্যমান। বিষধর এবং বিষহীন বা নির্বিষ। তবে কিছু বিষাক্ত সাপও আছে। বিষধর এবং বিষাক্ত এর মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) পৃথিবীর অন্যতম সবচেয়ে বিষধর সাপ।

আমার সম্পূর্ণ ব্লগ টি পড়ুন এখান থেকে

russles-viper-4.jpg
Source

বর্ণনা

চন্দ্রবোড়ার দেহ মোটাসোটা, লেজ ছোট ও সরু। প্রাপ্তবয়স্ক সাপের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত এক মিটার; দেহের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১.৮ মিটার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। মাথা ত্রিকোণাকার, চ্যাপ্টা এবং এর গায়ের রঙ হলদে বাদামি। সারা দেহে কালচে রঙের রিঙ থাকে। এদের বিষদাঁত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃহৎ।

রাসেলস ভাইপার এর বাসস্থান

রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, চীনের দক্ষিণাংশ, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, বার্মা ও ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া যায়। চন্দ্রবোড়া বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক সাপ। এটি সব বিভাগে সচরাচর এবং ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে এ সাপ বেশি পাওয়া যায়। চন্দ্রবোড়া সাপ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দুর্লভ সাপ। এটি পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় ও বাংলাদেশেরসব বিভাগে সচরাচর এবং ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বিশেষ করে নদীয়া বর্ধমান ও উত্তর চব্বিশ পরগনা সেইসাথে বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে এ সাপ বেশি পাওয়া যায়। এখন মোটামুটি সব যায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।এটা সাভার,মানিকগঞ্জ,মুন্সিগঞ্জ,যশোহর,সাতক্ষিরা মোটামুটি সারা দেশেই অতী সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে ।

চন্দ্রবোড়ার স্বভাব

এরা অলস ও ভারী প্রকৃতির, দ্রুত চলাচল করে ধাওয়া করা এদের পক্ষে সম্ভব নয়। বিপদ অনুভব করলে কুন্ডলী পাকিয়ে হিসহিস সিটির শব্দ করে।এদের কাছে গেলে তবেই এরা কামড় দেয়।
এরা দ্রুত ছোবল মারতে পারে, এবং নিজের দেহের তিনভাগের দুইভাগ পর্যন্ত ছুড়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে এরা দ্রুত ছোবল মারতে সক্ষম। দ্রুত চলার ক্ষমতা নেই বলেই বিষের তীব্রতা আর ফাস্ট স্ট্রাইক এর এডাপটেশন হয়েছে ইভোলিউশন এর মাধ্যমে। হার্পেটোলজিস্ট দের মতবাদ এইটাই। এরা প্রচণ্ড জোরে হিস হিস শব্দ করতে পারে। মাত্র ১ সেকেন্ডের ১৬ ভাগের ১ ভাগ সময়ে কাউকে কামড়ে বিষ ঢালতে পারে সাপটি! তাই কামড়ের ক্ষিপ্রগতির দিক দিয়ে সব সাপকে হারিয়ে রাসেল ভাইপার প্রথম স্থান দখল করেছে। সাপটি মানুষ দেখলেই তেড়ে কামড়াতে আসে এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন | আঘাত প্রাপ্ত না হলে অথবা ভয় না পেলে কোনো সাপ ই কামড়ানোর চেষ্টা করেনা |ভয় পেলে এরা ‘s’ লুপের আকৃতি ধারণ করে , শরীরের উপর এক তৃতীয়ংশ উঁচু করে রাখে এবং উচ্চঃস্বরে হিস্ হিস্ শব্দ করতে থাকে | তাছাড়া এটি ক্ষিপ্র গতিতে ছোবল মারার জন্য ও বিখ্যাত |

শিকার ধরার পদ্ধতি

রাসেলস ভাইপার এম্বুশ ইটার অর্থাৎ এরা শিকারের জন্য এক জায়গায় কুন্ডলী পাকিয়ে অপেক্ষা করে। শিকার কাছে আসলে ছোবল দিয়ে ছেড়ে দেয়।পরে শিকারকে অনুসরণ করে মারা যাওয়ার পরে খেয়ে ফেলে। এরা সাধারণত এভাবেই শিকার করে। এরা অলস ও ভারী প্রকৃতির, দ্রুত চলাচল করে ধাওয়া করা এদের পক্ষে সম্ভব নয়। চন্দ্রবোড়া নিচু জমির ঘাসযুক্ত উন্মুক্ত পরিবেশে এবং কিছুটা শুষ্ক পরিবেশে বাস করে। এরা নিশাচর, এরা খাদ্য হিসেবে ইঁদুর, ছোট পাখি, টিকটিকি ও ব্যাঙ ভক্ষণ করে। অন্যান্য সাপ শিকারের সময় শিকারকে কামড় দিয়ে সাথে সাথে খেয়ে ফেলে কিন্তু হিংস্র চন্দ্রবোড়ার শিকারকে শুধু একা নয়, তার পুরো পরিবারসহ খেতে ভালোবাসে। তাই অন্যান্য সাপ যেমন একটি ইঁদুরকে কামড় দিয়ে সাথে সাথে খেয়ে ফেলে, চন্দ্রবোড়া সে ক্ষেত্রে কামড় দিয়ে ছেড়ে দেয়। প্রচণ্ড বিষের যন্ত্রণায় ইঁদুর যখন তার গর্তের দিকে ছুটে চলে চন্দ্রবোড়া তার পিছু পিছু গিয়ে সে গর্তে ঢুকে সব ইঁদুরকে খেয়ে ফেলে।

প্রজনন

সাপ সাধারণত ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে চন্দ্রবোড়া সাপ ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি 20 থেকে 50 টি বাচ্চা দেয়। এমনকি 80(৮০) টি বাচ্চা জন্ম দেওয়ার রেকর্ড আছে।

রাসেলস ভাইপার ( চন্দ্রবোড়া) এর বিষের ধরন

সাপের বিষ মুলত স্যালাইভা বা লালা গ্রন্থির নিঃসরন। এটি সাপের তিনটা কাজে লাগে।যথা-
১. প্রতিরক্ষা
২. খাদ্য পরিপাক
৩. শিকার

মানুষের শরীরে কিভাবে কাজ করে ?
★কোবরা,ক্রেইট এগুলোর বিষ নিউরোটক্সিন যা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা প্রতিরোধ করে।
এই সাপ গুলো কামড়ালে ক্ষতস্হানে তেমন ব্যথা হয় না।আবার ফুলেও যায় না।
★রাসেলস ভাইপার
এগুলোর বিষ হেমাটোটক্সিন যা রক্তের কোষের উপর কাজ করে।
এগুলো রক্তজমাট বাধতে প্রতিহত করে। কামড় দিলে মানুষের মাংস পচে যায়।

বিষের তীব্রতা মাপার মাপকাঠি হল Median Lethal Dose (LD50)। অর্থাৎ যে সংখ্যক প্রাণীর ওপর বিষ পরীক্ষা করা হচ্ছে, তাদের ৫০% প্রাণী মরতে কতটা বিষ প্রয়োজন। এই LD50 যে সাপের যত কম, তার বিষের তীব্রতা তত বেশি।
এখন LD50 মাপা যায় ৪ রকম ভাবে:
১. Subcutaneous: বিষ চামড়ার নিচের চর্বি যুক্ত অংশে প্রবেশ করিয়ে।
২. Intravenous: বিষ সরাসরি শিরায় প্রবেশ করিয়ে।
৩. Intramuscular: বিষ কোন মাংস পেশী তে প্রবেশ করিয়ে।
৪. Intraperitoneal: বিষ পেটে প্রবেশ করিয়ে।

এর মধ্যে subcutaneous পদ্ধতিটি সব থেকে বেশি নির্ভরযোগ্য এবং এই পদ্ধতিতে মেপেই বিষের তীব্রতা সম্পর্কে সব থেকে বেশি তথ্য পাওয়া গেছে।

এই পদ্ধতি তেই মাপা বিষের তীব্রতা অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপ ইনল্যান্ড টাইপান (Inland Taipan)। LD 50: 0.025 mg/kg। বাস: অস্ট্রেলিয়া। চন্দ্রবোড়া (LD 50= 0.75 mg/kg subcutaneous)

রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) কামড়ালে করনীয়

রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপগুলার একটি। এর এক ছোবলেই মৃত্যু নিশ্চিত যদি না আপনি তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। সাপে কাটা ব্যক্তিকে কখনোই ওঝার কাছে নেওয়া যাবে না। ওঝারা কখনোই সাপের বিষ নামাতে পারে না। মুখ দিয়ে চুষে বা ক্ষতস্হান থেকে রক্ত বের করার মাধ্যমে সাপের বিষ বের করা সম্ভব না। রোগীকে ওঝার কাছে নিয়ে বা নিজে নিজে বিষ বের করার চেষ্টা করা মানে নিজের মৃত্যু নিজেই ডেকে আনা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্তনা দিতে হবে এবং তাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। কারণ অনেকেই সাপে কাটার পর ভয়ে স্ট্রোক করে মারা যায়। রোগীকে ঘুমাতে দেওয়া যাবে না। সজাগ রাখতে হবে। আক্রান্ত স্হান নাড়াচাড়া করা যাবে না। নাড়াচাড়া করলে বিষ খুব দ্রুত দেহে ছড়িয়ে পড়বে এবং তাতে রোগী অনেক কম সময় পাবে। যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল যেমন জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজে নিয়ে যেতে হবে। হাসপাতালে নিয়ে অ্যান্টিভেনম দিলেই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে।

রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

১. এরা অলস ও ভারী প্রকৃতির, দ্রুত চলাচল করে ধাওয়া করা এদের পক্ষে সম্ভব নয়। বিপদ অনুভব করলে কুন্ডলী পাকিয়ে হিসহিস সিটির শব্দ করে।এদের কাছে গেলে তবেই এরা কামড় দেয়।

২. এরা দ্রুত ছোবল মারতে পারে, এবং নিজের দেহের তিনভাগের দুইভাগ পর্যন্ত ছুড়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে এরা দ্রুত ছোবল মারতে সক্ষম কিন্তু ধাওয়া করা গুজব। সেটি মোটেও সত্যি নয়। এটি যদি সত্যি ধাওয়া করতো তাহলে বাংলাদেশে শুধু রাসেলস ভাইপার থাকতো মানুষ না।এটি অন্য সাধারণ বিষধর সাপের মতোই। গুজবে কান দিবেন না।

৩. চন্দ্র বোরা সাপ মানুষ দেখলে চলে যায়না কারন ওরা দ্রুত চলাচল করতেই পারেনা। ওদের চলার গতি ধীর।

৪. রাসেল ভাইপার বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে।

৫. তীব্রতার দিক দিয়ে সাপটি বিশ্বের ৫ নম্বর ভয়ংকর বিষধর সাপ। কিন্তু মাত্র ১ সেকেন্ডের ১৬ ভাগের ১ ভাগ সময়ে কাউকে কামড়ে বিষ ঢালতে পারে সাপটি! তাই কামড়ের ক্ষিপ্রগতির দিক দিয়ে সব সাপকে হারিয়ে রাসেল ভাইপার প্রথম স্থান দখল করেছে। তাছাড়া এ সাপটির বিষ দাঁত বিশ্বে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ।

৬. ভারতের নদীর পানির সাথে ভেসে এসে অতী সম্প্রতি সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে।একে থামানোর কেউ নেই।একে থামানোর কিং কোবরা,শাঁখামুটি নিজেরাই বিলুপ্ত।

৭. এই সাপের যেমন ভয়াবয়তা আছে বাস্তুতন্ত্রে এর উপকারিতাও অনসীকার্য | এরা মূলত ইঁদুর ও অন্যান্য সাপ খেয়ে বাস্তুতন্ত্রের ভারসম্য রক্ষা করে | তাই এদের রক্ষা করাটাও আমাদের কর্তব্য |

রাসেলস ভাইপার সম্পর্কে জনপ্রিয় কিছু ভুল ধারনা

১. এরা দ্রুত ছোবল মারতে সক্ষম কিন্তু ধাওয়া করা গুজব। সেটি মোটেও সত্যি নয়।

২. রাসেলস ভাইপারের এন্টিভেনম নাই, রাসেলস দংশন করলে মৃত্যু নিশ্চিত এমন সব অতিরঞ্জিত কথা বার্তার কারনে, রাসেলস ভাইপারকে নিয়ে মানুষের মনে একটি আতংক গেঁথে গেছে, এখন এমন অতিরিঞ্জিত কথা শোনা কোন মানুষ যদি রাসেল বা অন্য কোন সাপ কর্তৃক দংশিত হয়, তখন উক্ত ব্যাক্তি বিষক্রিয়ার পূর্বে হার্ট এটাকেই মারা যাবে।তাই বিবেকবান মানুষের উচিত এসব অতিরঞ্জিত ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে মানুষ কে বিভ্রান্ত না করা।

৩. কিলিং মেশিন ও হিংস্রাত্মক উপাধি দেয়া হচ্ছে।
এমন নেতিবাচক আকর্ষনীয় লেখনী প্রচারণায় মানুষের মনে যে ধারনা দেয়া হচ্ছে এই সাপ সম্পর্কে মানুষ ও তেমনটাই ভুল ভেবে নিচ্ছে । প্রাপ্তবয়ষ্ক চন্দ্রবোড়া সাপ খুবই ধীর ও মন্থর গতিসম্পন্ন সাপ। প্রকৃতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক চন্দ্রবোড়া সাপ একটু ভীতসন্ত্রস্ত ও নার্ভাস থাকে। কোন মানুষ ও প্রাণীর ক্ষেত্রে সামনে যদি কেউ শত্রুর উপস্থিত অনুভব করে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে মনে করে তখন আমরা ও ভয় পেয়ে জীবনের হুমকি আছে বলে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করি ক্ষিপ্র হই কিংবা চিৎকার করি,প্রতিবাদ করি। তেমনটাই মানুষের উপস্থিত টের পেলে জীবনের হুমকি অনুভব করলে চন্দ্রবোড়া সাপ ও এগ্রেসিভ হয়ে ওঠে হিস হিস শব্দ করে ওঠে নিজের জীবন বাঁচাতে এদিক ওদিক ছুটতে শুরু করে। এছাড়া নিজ থেকে আক্রমণ করে কামড়াতে আসে না যদিনা আমরা সংস্পর্শে ও সামনে গিয়ে বিরক্ত না করি।

৪. কামড় দিলেই মৃত্যু এমন নেতিবাচক ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে এটাও ঠিক নয়।
‌যখন চন্দ্রবোড়া সাপ কাউকে দংশন করবে তখন সেই ব্যক্তি কামড় দিলেই যখন ভাববে সে মনে হয় আর বাঁচবে না হাসপাতালে চিকিৎসা হয় না তখন ওই ব্যক্তি ভয় পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে হার্টে দ্রুত রক্ত প্রবাহের মাধমে বিষ দেহে দ্রুত ছড়িয়ে আরো দ্রুত মৃত্যু দিকে নিজেকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাভনা থাকবে। কাজেই কামড় দিলেই মৃত্যু এমন নেতিবাচক প্রচারণা করে কারো বাঁচার শেষ সম্ভাবনা টুকো কেড়ে না নেই।

আমাদের করনীয়

চরাঅঞ্চল ও নদীর অববাহিকায় গ্রামগুলোতে এই সাপের উপদ্রব বেশি দেখা যাচ্ছে।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মারতে গেলেও বিপদ হতে পারে কাজেই আপনার জীবনের মূল্য অনেক সাপ মারার চেয়ে কিভাবে বাড়িতে সাপের প্রবেশ বন্ধ করা যায় এবং সর্প দংশন এড়িয়ে চলা যায় সেই দিকে গুরুত্ব দেই। সাপ ঘরে আসার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ইদুর। সাপের প্রিয় খাদ্যই হচ্ছে ইদুর। মাছ যেমন পানিকে অনুসরণ করে, সাপ তেমনি ফলো করে ইদুরকে। আর ঘরে ইদুর হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে ঘর বাড়ি নোংরা রাখা। নোংরা ঘর বাড়ি ইদুরের বেহেশত। সুতরাং আপনার বাড়িতে এই দুই আন ওয়ান্টেড গেস্ট না চাইলে বাড়ি ঘর পরিষ্কার রাখতে হবে।

মাটির মেঝে থাকলে দেখতে হবে মেঝেতে গর্ত কিংবা ফাটল আছে কিনা। থাকলে সেগুলো ভাল করে বন্ধ করে দিতে হবে। সাপ নিজে গর্ত খুড়তে না পাড়লেও অন্যের খোড়া গর্তে আশ্রয় নিতে পছন্দ করে।

গ্রামের বাড়িতে মূল বসত ঘরের পাশে মুরগীর ঘর, লাকড়ি ঘর, গোয়াল ঘর, গোলাঘর থাকে। বসত ঘরের চেয়ে এয়াওব ঘরে সাপের আশ্রয় নেয়ার চান্স অনেক বেশি। সো, এসব ঘরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

আশপাশের আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। বাড়ির বাগানেও আগাছা জমতে দেবেন না। বাড়ির চারপাশে কোনো ডোবা বা অপরিষ্কার জলাশয় থাকলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

আর প্রকৃতিতে অবিষধর সাপ আছে তাই বিষধর সাপ দরকার নেই এই টা ভুল ধারনা। দরকার না থাকলে তো বিষধর সাপ থাকতো না। বিষধর হোক আর নির্বিষ সব সাপই দরকার, সব প্রাণির দরকার পরোক্ষ হোক বা প্রত্যক্ষ।
চন্দ্রবোরা সাপ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পরেছে। বিশেষ করে ভুল সাংবাদিকতার দ্বারা। মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে সেটাই আমরা দুর করার চেষ্টা করেছি। শুধু এই উড়া খবরে ভয়ের কারনে চন্দ্রবোরা সাপ মারতে যেয়ে কামড় খেয়ে মানুষ মারা গেছে। সেটা তো আরো বিপদজনক।