রেসিপিঃ মিষ্টি কুমড়ার পাতার মুচমুচে বড়া।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি।প্রত্যাশা করি সবাই সব সময় ভালো থাকেন,নিরাপদে থাকেন। আজ ২১শে ফাল্গুন,বসন্তকাল, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,৬ই মার্চ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ । আজ একটি রেসিপি পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
বন্ধুরা নিয়মিত ব্লগিং এ আজ হাজির হয়েছি নতুন আর একটি ব্লগ নিয়ে। আর তা হচ্ছে রেসিপি ব্লগ। আমার ব্যালকনীর বাগান মিষ্টি কুমড়ার গাছ লাগিয়েছিলাম। বেশ ভালোভাবেই বেড়ে উঠছিল। কিন্তু এর মধ্যে বাড়িতে যেতে হয়েছে। বাড়ি থেকে এসে দেখি গাছের পাতাগুলো লাল হয়ে গেছে। এসেই আবার যত্ন শুরু করে দিলাম। আবারও নতুন পাতা ও ডালা হলো। কিন্তু গাছের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আর বাড়বে না।তাই মনে হলো গাছটিকে উঠিয়ে ফেলি। কিন্তু গাছের মধ্যে যে পাতা আছে তা দিয়ে না হবে শাক খাওয়া না হবে তরকারি। তাই ভাবলাম কি করা যায়। তখনই মনে হলো সহজেই বড়া বানিয়ে নিতে পারি। সেই ভাবনা থেকে আজ বানিয়ে নিলাম। মিষ্টি কুমড়ার পাতার বড়ার রেসিপিটি।খেতে বেশ মজা লেগেছিল বড়াগুলো। আমি কখনও মিষ্টি কুমড়ার পাতার বড়া খাইনি। তাই বানানোর সময় ভেবেছি কেমন হবে খেতে। কিন্তু খারাপ হয়নি। বেশ মজাই লেগেছে। মিষ্টি কুমড়ার বড়া বানাতে আমি উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করেছি মিষ্টি কুমড়ার পাতা,ডাল ও চালের গুড়া সহ আরও কিছু উপকরণ। বন্ধুরা তাহলে আর দেরী না করে চলুন দেখে নেয়া যাক,রেসিপি বানানোর ধাপ সমূহ। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
| মিষ্টি কুমড়ার পাতা | ১৪টি |
|---|---|
| চালের গুড়া | ৩ টেঃ চামচ |
| বাটা খেসারীর ডাল | ৩ টেঃ চামচ |
| কাঁচা মরিচ | ৫টি |
| হলুদ গুড়া | আধা চাঃ চামচ |
| ধনে গুড়া | আধা চাঃ চামচ |
| জিরা গুড়া | আধা চাঃ চামচ |
| পিয়াজ কুচি | ৩টেঃ |
| রসুন | ৩কোয়া |
| লবন | পরিমাণ মতো |
| সরিষার তেল | ৪ টেঃ চামচ |
| আদা | আধা ইঞ্চি |
মিষ্টি কুমড়ার বড়া তৈরির প্রনালী
ধাপ - ১
প্রথমে মিষ্টি কুমড়ার পাতা পরিস্কার করে ধুয়ে নিয়েছি। এবং কুচি করে নিয়েছি ।
ধাপ - ২
আদা রসুন ও কাঁচা মরিচ বেটে নিয়েছি।
ধাপ - ৩
কুচি করা মিষ্টি কুমড়ার শাকে সকল মশলা দিয়ে দিয়েছি। সেই সাথে বাটা ডাল ও চালের গুড়া দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিয়েছি।
ধাপ - ৪
চুলায় একটি পাত্র বসিয়ে দিয়েছি। পাত্রটি গরম হয়ে এলে তাতে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ - ৫
তেল গরম হয়ে এলে তাতে মাখানো মিশ্রণটি থেকে বড়ার মতো করে দিয়ে দিয়েছি। এবং উভয় পিঠ ব্রাউন করে ভেজে তুলে নিয়েছি।
পরিবেশন
এবার একটি বাটিতে তুলে নিয়েছি পরিবেশনের জন্য। সাথে কিছু ফটোগ্রাফি করে নিয়েছি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আশাকরি, আজকের মিষ্টি কুমড়ার পাতার বড়ার রেসিপিটি আপনাদের ভালো লেগেছে।আমি চেষ্টা করি সব সময় নতুন নতুন রেসিপি শেয়ার করতে। এবারও সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আবার দেখা হবে নতুন কোন রেসিপি নিয়ে সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন। শুভ রাত্রি।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণি | রেসিপি |
|---|---|
| ক্যামেরা | Samsung A-10 |
| পোস্ট তৈরি | @selina 75 |
| তারিখ | ৫ইমার্চ, ২০২৫ ইং |
| লোকেশন | ঢাকা,বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম শহরে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
আহা! কী মজাদার রেসিপি পোস্ট করেছেন আপু। আমিও এই পকোড়াটা বানাই৷ তবে গোটা গোটা পাতায়। এভাবে কখনও বানানো হয়নি। দেখে নিলাম। পরে একদিন কখনও বানাবো।
আমিও গোটা পাতার বানাই। তাই আজ একটু অন্যভাবে বানালাম।
মিষ্টি কুমড়ার পাতার মুচমুচে বড়া তৈরীর অনেক সুন্দর পদ্ধতি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপু। রমজানে এই ধরনের জিনিস সকলেই অনেক বেশি পরিমাণে পছন্দ করে থাকে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন সুন্দর একটা জিনিস তৈরি করে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
জি ভাইয়া খেতে বেশ মজা হয়েছিল।ধন্যবাদ ভাইয়া।
Daily task
https://x.com/selina_akh/status/1897667273088962899
মিষ্টি কুমড়ার পাতার খুব মজার একটা বড়া তৈরি করেছেন। এরকম বড়া কখনো তৈরি করা হয়নি। বিকেলবেলা এরকম মচমচে বড়া গুলো খেতে ভালোই লাগে। আপনিও প্রথমবারের মতো তৈরি করেছেন শুনে ভালো লাগলো। ভিন্ন ধরনের একটা রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
আপু ভাতের সাথেও খেতে বেশ মজা লাগে এই বড়া।
মিষ্টি কুমড়ার পাতার এমন দুর্দান্ত বড়া আগে কখনো ট্রাই করিনি! আপনার হাতে তৈরি মচমচে বড়াগুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয় লেগেছে, তেমনি বিকেলের নাশতার জন্য দারুণ একটা আইডিয়া দিলেন। প্রথমবারেই এত সুন্দর করে তৈরি করেছেন, সত্যিই প্রশংসার যোগ্য! নতুন এই রেসিপিটি আমাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আপু। একদিন আমিও চেষ্টা করে দেখবো।
আপু ভাতের সাথেও খেতে পারেন। দারুন লাগে।
আসলে মিষ্টি কুমড়া শাক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তরকারি খেয়েছি কিন্তু এই ধরনের বড়া কখনো খাইনি। তাই এটি আমার কাছে একটা নতুন ধরনের রেসিপি। আপনি খুব সুন্দর ভাবে এই বড়া তৈরীর প্রত্যেকটি ধাপ আমাদের মধ্যে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।
আমিও প্রথম করলাম। খেতে কিন্তু দারুন ছিল। বেশ মুচমুচে।
কুমড়ো পাতা দিয়ে চমৎকার লোভনীয় মুচমুচে কুমড়ো ফুলের মজাদার বড়া রেসিপি করেছেন। খুবই লোভনীয় হয়েছে আপনার কুমড়ো পাতার বড়া রেসিপিটি। ধাপে ধাপে কুমড়ো পাতার বড়া তৈরি পদ্ধতি চমৎকার সুন্দর করে আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে লোভনীয় রেসিপিটি আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন জন্য।
অনেক ধন্যবাদ আপু।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.