রেসিপিঃ পুর ভরা চাল কুমড়োর মজাদার রেসিপি।
সবাইকে আষাঢ়ী শুভেচ্ছা।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশাকরি ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি। আজ ১ আষাঢ় , ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ১৫ জুন,২০২৩ খ্রীস্টাব্দ। আষাঢ় -শ্রাবন দু'মাস বর্ষাকাল।কিন্তু বৃস্টির ছিটে ফোটাও নেই। তার উপর প্রচন্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ।দেশের কোথাও কোন বৃষ্টির দেখা নেই। আমার বাংলা ব্লগে নিয়মিত ব্লগিং এ আজ আমি আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি রেসিপি নিয়ে। আর তা হচ্ছে পুর ভরা চালকুমড়োর মজাদার রেসিপি। চাল কুমড়োরায় রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন সি, মিনারেল, ফাইবার, ফ্যাট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, কোলেস্টেরল, আয়রন, জিঙ্ক, এবং ফসফরাস। জনপ্রিয় এই কুমড়ার ঔষধি গুণ দেহের পুষ্টির অভাব দূর করে।
এই রেসিপির জন্য উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেছি কচি চাল কুমড়ো ,সরিষা ও বাদাম। এছাড়া অন্যান্য উপকরণ তো আছেই। আজ আর কথা নয় চলুন দেখে নেয়া যাক, কিভাবে তৈরি হলো আমার উপস্থাপিত আজকের পুর ভরা চাল কুমড়োর মজাদার রেসিপি।
রান্নার উপকরণ
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| চাল কুমড়া | ১টি |
| দুরকম সরিষা | ২টেঃ চামচ |
| চিনা বাদাব | ১০০ গ্রাম |
| হলুদ গুড়া | ১ টেঃ চামচ |
| মরিচ গুড়া | ১ চাঃ চামচ |
| কাচা মরিচ | ৪-৫টি |
| লবন | পরিমাণ মতো |
| তেল | পরিমাণ মতো |
| চিনি | স্বাদ মতো |
| কাল জিরা | ১ চাঃ চামচ |
| বেসন | ২ টেঃ চামচ |
| চালের গুড়া | ২ টেঃ চামচ |
রন্ধণ প্রনালী
ধাপ-১
প্রথমে চাল কুমড়া ছিলে একটু মোটা করে চাক চাক করে কেটে নিয়েছি
ধাপ-২
এরপর চাক করে কেটে নেয়া চাল কুমড়োর মাঝ বরাবর অর্ধেক করে কেটে নিয়েছি পুর ভরার জন্য।
ধাপ-৩
এরপর দু'রকম সরিষা কাচা মরিচ ও সামান্য লবন দিয়ে পাটায় মিহি করে বেটে নিয়েছি। এবং চিনে বাদামও বেটে নিয়েছি।
ধাপ-৪
এরপর চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে তাতে পরিমাণ মতো পানি দিয়েছি গরম হওয়ার জন্য। সে পানিতে পরিমাণ মতো লবন ও সামান্য হ্লুদ গুড়া দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ-৫
কড়াই এর পানি যখন ফুটে উঠবে,তখন তাতে কেটে রাখা চাল কুমড়া দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ-৬
চাল কুমড়া যখন হাফ সিদ্ধ হয়ে যাবে, তখন চাল কুমড়া গুলোকে পানি ঝরানোর জন্য একটি ছাকনীতে ঢেলে দিয়েছি।
ধাপ-৭
এবার পুর তৈরি জন্য একটি বাটিতে বাটা সরিষা,বাদাম বাটা ও সামান্য চিনি দিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিয়েছি।
ধাপ-৮
এবার ব্যাটার তৈরির জন্য একটি বাটিতে বেসন,চালের গুড়া, হলুদ গুড়া,মরিচ গুড়া,কাল জিরে,লবন ও সামান্য চিনি দিয়ে সকল শুকনো উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়েছি। এরপর অল্প অল্প পানি দিয়ে একটি ঘন ব্যাটার তৈরি করে নিয়েছি।
ধাপ-৯
চাল কুমড়ার টুকরো গুলো ঠান্ডা হয়ে এলে তৈরি করা পুর পরিমাণ মতো নিয়ে চাল কুমড়ার পকেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছি। এভাবে সব গুলো তৈরি করে নিয়েছি।
ধাপ-১০
এবার একটি কড়াই এ পরিমাণ মতো তেল দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিয়েছি গরম হওয়ার জন্য। তেল ভালোভাবে গরম হয়ে এলে আচ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছি। এবার পুর ভরা চাল কুমড়া গুলো ব্যাটারে ঢুবিয়ে ডুবো তেলে উভয় পিঠ বাদামী করে ভেজে তুলে নিয়েছি। আর এভাবেই তৈরি করে নিলাম মজাদার পুর ভরা চাল কুমড়ো রেসিপি।
উপস্থাপন
এরপর একটি বাটিতে তুলে নিয়ে সাজিয়ে পরিবেষণ করেছি।
আশাকরি আজকের পুর ভরা চালকুমড়োর মজাদার রেসিপি আপনাদের ভাল লেগেছে। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজ আমার রেসিপির ব্লগ এখানেই শেষ করছি।আবার দেখে হবে নতুন কোন ব্লগ নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | রেসিপি |
|---|---|
| ক্যামেরা | SamsungA10 |
| পোস্ট তৈরি | @selina75 |
| তারিখ | ১৫ জুন, ২০২৩ |
| লোকেশন | ঢাকা,বাংলাদেশ |
পুর ভরা চাল কুমড়োর মজাদার রেসিপি। ভিন্ন রকম একটি ইউনিট খাবারের রেসিপি শেয়ার করেছেন। এভাবে কখনো খাইনি। সম্পুর্ন ভিন্ন রকম একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন। তবে দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে বেশ মজা হয়েছে মনে হচ্ছে। ভালো ছিলো আপু ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
দুইদিন থেকে আমাদের এখানে বৃষ্টি হচ্ছে। তাই আবহাওয়াটাও বেশ ঠান্ডা আছে। তবে প্রতিবছরের তুলনায় এ বছর বৃষ্টি অনেক কম হচ্ছে। যাইহোক আপু সরিষা বাটা দিয়ে চাল কুমড়োর এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখে অনেক ভালো লাগলো। নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করে সবার মাঝে উপস্থাপন করতে ভালো লাগে। আর আপনার কাছে নতুন একটি রেসিপি শিখতেও ভালো লাগলো আপু।
পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য এমন হচ্ছে আপু। অনেক ধন্যবাদ আপু।
পুর ভরা চালকুমড়া মজাদার রেসিপি তৈরি করেছেন।দেখে লোভ সামলানো মুশকিল। চালকুমড়া দিয়ে এতো মজাদার রেসিপি তৈরি করা যায় আমার জানা ছিল না। আপনার পোস্ট দেখে শিখে নিলাম। একদিন অবশ্যই তৈরি করব।ধন্যবাদ আপনাকে সুস্বাদু একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
জি আপু করে খাবেন একদিন ।বেশ মজা কিন্তু। অনেক ধন্যবাদ আপু।
আহ খুবই দুর্দান্ত রেসিপি তৈরি করেছেন আপনি। দেখেই খেতে খুব ইচ্ছে করতেছে। বিশেষ করে বাদাম দেওয়াতে খেতে খুবই মজাদার এবং সুস্বাদু হবে। পুর ভরা চাল কুমড়ার মজাদার রেসিপি উপস্থাপন খুবই দুর্দান্ত হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। এত চমৎকার রেসিপি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
জি ভাইয়া খেতে বেশ মজা। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
https://twitter.com/selina_akh/status/1669400605486649344
পুর ভরা চাল কুমড়োর মজাদার রেসিপিটি বেশ ইউনিক একটি রেসিপি। এরকম ইউনিক রেসিপি অনেক কম দেখেছি। কিন্তু রেসিপিটির কালার একদম অনেক সুন্দর এসেছে দেখে মনে হচ্ছে খেতে বেশ মজাদার হবে। আপনি খুবই সুন্দরভাবে রেসিপিটি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন।
জি ভাইয়া খেতে বেশ মজা। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
এখন আবহাওয়ার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে।কখন কি হয় বোঝা বড় মুশকিল।এবারে অতিরিক্ত গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।তবে আমাদের এলাকায় কয়েকদিন ধরে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে তাই গরম অনেকটাই কমে গেছে।চালকুমড়ার পুরভড়া পাটপাজা বলি আমরা এটাকে।ছোটবেলায় অনেক খেয়েছি আমাদের বাড়িতে খুব বানানে হতো অনেক বছর হলো খাওয়া হয়না। আপু আপনার আজকের পুরভড়া চালকুমড়ার রেসিপি টি দেখে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেলো।কচি চালকুমড়া দিয়ে এরকম পুরভড়া রেসিপি চোখের সামনে দেখে লোভ সামলানো দ্বায় হয়ে গেছে আপু।অসাধারণ একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আপু।
বাহ বেশ নামতো। জি আপু খেতে কিন্তু বেশ মজা। আপনিতো ছোট বেলায় অনেক খেয়েছেন। আমি প্রথম বানালাম।
অনেক ধন্যবাদ আপু।
আপনি চাল কুমড়ার উপকারিতা সম্পর্কে খুব সুন্দর বর্ণনা করেছেন আপনার পোস্টের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আপনি চাল কুমড়ার অনেক সুন্দর পুর ভরা রেসিপি তৈরি করেছেন দেখেই খেতে ইচ্ছে করতেছে। অনেক মজার একটি রেসিপি শেয়ার করলেন ধন্যবাদ আপু দেখে ভালো লাগলো।
জি আপু চাল কুমড়া বেশ উপকারী। অনেক ধন্যবাদ আপু।