রেসিপিঃ ফুলকপির ডাটা দিয়ে মসুরের ডাল মাখা।
সবাইকে শুভেচ্ছা।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশাকরি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। আজ রান্নার রেসিপি নিয়ে হাজির হলাম আপনাদের মাঝে। অনেকেই ফেলে দিয়ে থাকেন সেই জিনিসের রেসিপি। ফুলকপির ডাটা দিয়ে ডাল মাখা রেসিপি। অনেকেই ফুলকপির ডাটা ফেলে দিয়ে থাকেন । কিন্তু এই ডাটার পুষ্টিগুণ জানলে অনেকেই ফেলবেন না! আমারা সবাই জানি ফুলকপি ভিটামিন এ, ব, সি সমৃদ্ধ তাছাড়া আছে আয়রণ, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও সালফার। কিন্তু ফুলকপির ডাটায় আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। আর ক্যালসিয়ামের উপকারিতাতো আমরা সবাই কমবেশি জানি। শরীরের হাড় ও দাঁত গঠনে সহায়তা করে ও রক্ত সঞ্চালন, পেশি সঙ্কোচনসহ শরীরের নানা কাজে সাহায্য করে। তো বন্ধুরা এখন আপনারাই ভাবুন ফুলকপির ডাটা ফেলবেন না রান্না করে খাবেন!! অনেক বকবক হলো আর দেরি নয় চলুন বন্ধুরা,দেখে নেয়া যাক,কিভাবে ফুলকপির ডাটা দিয়ে মসুরের ডাল মাখা রেসিপিটি প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুদের জন্য প্রস্তুত হলো। আশাকরি আজকের সাদামাটা রেসিপিটি আপনাদের ভালো লাগবে।
রান্নার উপকরণ
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| ফুলকপির ডাটা | ৩টি |
| মুসুর ডাল | ১০০ গ্রাম |
| পিয়াজ কুচি | ৩ টেঃ চামচ |
| রসুন কুচি | ৪-৫ কোয়া |
| কাচা মরিচ | ৭-৮ টি |
| হ্লুদ গুড়া | ১ চাঃ চামচ |
| ধনে গুড়া | ১ চাঃ চামচ |
| ভাজা জিরার গুড়া | ১ চাঃ চামচ |
| লবন | পরিমাণ মতো |
| আদা বাটা | ১ চাঃ চামচ |
| তেল | ৩ টেঃ চামচ |
| গোটা জিরা | ১ চাঃ চামচ |
| ধনে পাতা কুচি | পরিমাণ মতো |
রন্ধণ প্রনালী
১ম ধাপ
প্রথমে মুসুরের ডালগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। প্রায় ১/২ ঘন্টা ভিজিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
২য় ধাপ
প্রথমে ফুলকপির ডাটাগুলো আশ ছাড়িয়ে ভালোভেবে পরিস্কার করে নিতে হবে ছবির মতো করে।
৩য় ধাপ
এরপর ফুলকপির ডাটা গুলো কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে ছবির মতো করে।
৪র্থ ধাপ
চুলায় একটি হাড়ি বসিয়ে তার মধ্যে পরিমাণ মত তেল দিয়ে দিতে হবে। তেল গরম হলে তার মধ্যে সামান্য জিরা্র ফোড়ন দিতে হবে।এরপর রসুন কুচি দিয়ে দিতে হবে।
৫ম ধাপ
রসুন ব্রাউন হয়ে এলে তাতে পিয়াজ কুচি দিয়ে দিতে হবে। পিয়াজ সামান্য ভাজা হয়ে এলে,তাতে কাচা মরিচ, ভাজা জিরার গুড়া, ও ধনেপাতা কুচি বাদে সকল মশলা দিয়ে দিতে হবে। মশলা যাতে পুড়ে না যায় সেজন্য সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে।
৬ষ্ঠ ধাপ
মশলা ভালোভাবে কষানো হয়ে গেলে তাতে কুচি করে কাটা ফুলকপির ডাটাগুলো দিয়ে দিতে হবে। এবং ভালোভাবে কষিয়ে নিতে হবে।
৭ম ধাপ
ডাটাগুলো কষানো হয়ে গেলে তাতে আগে থেকে ধুয়ে রাখা মুসুরের ডাল দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিতে হবে। কষানো হয়ে গেলে তাতে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে হাড়ি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে মিডীয়াম আচে সিদ্ধ করতে হবে।
৮ম ধাপ
ডাটা ও ডাল ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে এলে তাতে ভাজা জিরার গুড়া দিয়ে দিতে হবে।
শেষ ধাপ
নামানোর আগে ধনেপাতা ও ফালি করে কাটা কাচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে নিলেই হয়ে যাবে ফুলকপির ডাটা দিয়ে মসুরের ডাল মাখা।
পরিবেষণ
আশাকরি আজকের ফুলকপির ডাটা দিয়ে মসুরের ডাল মাখা রেসিপিটি আপনাদের ভাল লেগেছে। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজ আমার রেসিপির ব্লগ এখানেই শেষ করছি।
ফুলকপির ডাটা দিয়ে মসুর ডালের রেসিপি অসাধারণ রেসিপি। আসলে আপু অনেকের কাছ থেকে শুধু শুনেছি ফুলকপি ডাটা রান্না করলে অনেক ভালো লাগে কিন্তু কখনো রান্না করিনি বা খাইনি।এতে যে এতো পুষ্টি গুণ বিদ্যমান তা জানাছিল না। যাইহোক আপু একদিন অবশ্যই রান্না করবো।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটা রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
একদিন রান্না করেন আপু,ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
অসাধারণ হয়েছে ফুলকপির ডাটা দিয়ে মসুরের ডাল মাখা।সত্যি বলতে এই রেসিপি প্রথম দেখেছি এবং শিখে নিলাম পরবর্তীতে কাজে আসবে । ফুলকপির প্রতিনিয়ত খাচ্ছি তবে ডাল দিয়ে এরকম,, এটা আসলেই স্পেশাল।আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আপু,আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
ফুলকপির ডাটা আমারও বেশ বিরক্ত লাগে তাই তো আমি ফেলেই দেই, তবে এভাবে যে ডাল দিয়ে রান্না করে খাওয়া যায় তাই জানতাম না,তবে মনে হচ্ছে খেতে ভালোই হবে।রন্ধন পদ্ধতি দেখে সহজেই মনে হচ্ছে। ভালো লাগলো।ধন্যবাদ
ধন্যবাদ আপু। একদিন ট্রাই করে দেখেন !
আপনি একটি অসাধারণ রেসিপি তৈরি করেছেন আপু। ফুলকপি যে কোন দরকার দিয়ে রান্না করলে খেতে অনেক সুস্বাদু লাগে। তবে ডাল দিয়ে ফুলকপি ডাটা রান্না করে কখনো খাওয়া হয়নি। তবে চেষ্টা করব কোন একদিন ফুলকপি ডাটা দিয়ে ডাল রান্না করে খেতে।তবে আপনি খুব সুন্দর করে ফুলকপি ডাটা দিয়ে ডাল রান্না করেছেন এবং ধাপে ধাপে আমাদেরকে দেখিয়েছেন। সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
ফুলকপি ডাটা তেমন একটা খাওয়া হয় না। ফুলকপির ডাটা আমাদের শরীরের জন্য এত উপকারি তা আমার জানা ছিল না। আপনার পোস্টে জানতে পেরে আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। ফুলকপি ডাটা এভাবে কখনো রান্না করে খাওয়া হয়নি ধন্যবাদ আপনাকে সুস্বাদু একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ আপু, মন্তব্যের জন্য।
আপনি ঠিক বলেছেন ফুলকপির ডাটা গুলোর মধ্যে অনেক পরিমাণের ভিটামিন আছে। তবে ফুলকপির ডাটা গুলো ডাল দিয়ে রান্না করলে খেতে অনেক মজা লাগে। হয়তো অনেকে এই ফুলকপির ডাটা গুলো ফেলেদে। আমিও অনেকদিন আগে খেয়েছিলাম। এভাবে ফুলকপির ডাটা দিয়ে ডাল রান্না করেছিল আমার মা। তবে আপনার রেসিপি দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে অনেক মজা হয়েছে। চমৎকার রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
বাহ খুব সুন্দর রেসিপি তৈরি করেছেন আপনি। ফুলকপির ডাটা দিয়ে মসুরের ডাল মাখা খেতে ভীষণ দারুন হবে। আপনার রন্ধন প্রক্রিয়া বেশ দুর্দান্ত হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে নিশ্চয়ই অনেক মজাদার এবং সুস্বাদু হয়েছে। এত চমৎকার রেসিপি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ফুলকপির ডাটা আমরা ফেলে দেই।সেই ডাটা আর মসুরের ডাল দিয়ে দারুন একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন, দেখে খুব ভাল লাগলো। আপনি ধাপে ধাপে রেসিপিটি তুলে ধরেছেন। রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।
ধন্যবাদ আপু।