রেসিপি-মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্না|
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি@monira999। আমি একজন বাংলাদেশী। আজকে আমি খুবই মজার একটি রেসিপি নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। গত তিনদিন থেকে ভীষণ ব্যস্ততার মধ্যে সময় পার করছি। নিজের কাজগুলো ঠিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। হয়তো আরো দুই তিন দিন লেগে যাবে ব্যস্ততা কাটিয়ে উঠতে। কি আর করার ব্যস্ততার মাঝেও যখন ভাবলাম পোস্ট করবো তখন কি পোস্ট করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। এরপর পুরনো গ্যালারি ঘাটতে ঘাটতে একটি রেসিপি পোস্ট পেয়ে গেলাম। খুব সম্ভবত এই রেসিপিটি অনেক আগে করা ছিল। হয়তো এক বছরের কাছাকাছি সময়ও হতে পারে। এতদিন পর এই রেসিপি দেখে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আসলে ব্যস্ততার সময় যদি হঠাৎ করে গ্যালারি ঘাটতে ঘাটতে নতুন কিছু পাওয়া যায় তখন ভীষণ ভালো লাগে। আশা করছি আমার রেসিপি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্না:
কচুর ডাটা আমার খুবই প্রিয় সবজি। মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্না করলে খেতে অনেক ভালো লাগে। বেশিরভাগ সময় ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে রান্না করা হয়। কিন্তু সেদিন ইলিশ মাছ বাসায় ছিল না। কিছু ছোট ছোট মাছের মাথা ছিল সেগুলো দিয়েই কচুর ডাটা রান্না করেছিলাম। এই রেসিপি দেখে এখনো সেই পুরনো খাবারের স্বাদ মনে পড়ে গেল। কচুর ডাটার এই রেসিপি দেখে আবারো খেতে ইচ্ছে করছে। মন চাচ্ছে আবারো তৈরি করে ফেলি। এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে আমি এই রেসিপি তৈরি করেছি এবং এই রেসিপি তৈরির জন্য কি কি উপকরণ ব্যবহার করেছি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
| নাম | পরিমান |
|---|---|
| মাছের মাথা | ৩ পিস |
| কচুর ডাটা | ৪০০ গ্রাম |
| পেঁয়াজ কুচি | ২ চামচ |
| রসুন বাটা | ১/২ চামচ |
| জিরা বাটা | ১/২ চামচ |
| কাঁচামরিচ বাটা | ১ চামচ |
| হলুদের গুঁড়া | ১/২ চামচ |
| লবণ | পরিমাণমতো |
| সয়াবিন তেল | ৩ চামচ |
মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রেসিপি তৈরির ধাপসমূহ:
ধাপ-১
মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্না করার জন্য প্রথমে কচুর ডাটা গুলো ভালোভাবে ছোট ছোট পিস করে কেটে নিয়েছি। এবার মাছের মাথা গুলো ভেজে নেওয়ার জন্য হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া এবং লবণ দিয়েছি। এরপর মিক্স করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
ধাপ-২
এবার মাছের মাথা গুলো ভেজে নেওয়ার জন্য কড়াইয়ের মধ্যে পরিমাণ অনুযায়ী তেল দিয়েছি। এরপর তেল গরম হয়ে গেলে মাছের মাথাগুলোও তেলের মধ্যে সুন্দরভাবে ভেজে নিয়েছি। মাছের মাথাগুলো একটু ভেঙে ভেঙে সুন্দর করে ভেজে নেয়ার চেষ্টা করেছি।
ধাপ-৩
এবার কড়াইয়ের মধ্যে মধ্যে পরিমাণ অনুযায়ী তেল দিয়েছি। এরপর তেল গরম হয়ে গেলে গরম তেলে পরিমাণ অনুযায়ী পেঁয়াজ ভালোভাবে ভেজে নিয়েছি।
ধাপ-৪
এবার পরিমাণ অনুযায়ী কাঁচামরিচ বাটা দিয়েছি। এই রেসিপি তৈরিতে কাঁচামরিচ বাটা দিলে খেতে বেশি ভালো লাগে। এবার পরিমাণ অনুযায়ী রসুন বাটা, হলুদের গুঁড়া, লবণ দিয়েছি।
ধাপ-৫
সবগুলো উপকরণ ভালো ভাবে মিক্স করার জন্য নাড়াচাড়া করেছি।
ধাপ-৬
এবার মসলাগুলো ভালোভাবে ভুনা করার জন্য পানি দিয়েছি এবং কিছুক্ষণ সময় মসলাগুলো ভুনা করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
ধাপ-৭
এবার মসলাগুলো ভালোভাবে ভুনা হয়ে গেলে এর মধ্যে কচুর ডাটাগুলো দিয়েছি।
ধাপ-৮
এবার ভেজে রাখা মাছের মাথাগুলো এর মধ্যে দিয়েছি। যাতে করে কচুর ডাটা এবং মাছের মাথা একসাথে ভালো ভাবে ভুনা করে নেওয়া যায়।
ধাপ-৯
এবার সবগুলো একসাথে মিক্স করে নেওয়ার জন্য এবং কচুর ডাটা ভালোভাবে ভুনা করে নেওয়ার জন্য সুন্দর ভাবে চামচ দিয়ে নড়াচাড়া করেছি এবং মিক্স করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
ধাপ-১০
এভাবে কিছুক্ষণ রান্না করার পর যখন কচুর ডাটা গুলো ভুনা হয়েছে তখন আরো ভালোভাবে সিদ্ধ করার জন্য পানি দিয়েছি এবং ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিয়েছি।
শেষ ধাপ
এভাবে আরো কিছুক্ষণ সময় রান্না করার পর মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটার মজার রেসিপি তৈরি হয়েছে। খুব সহজেই এই রেসিপি তৈরি করেছি।
উপস্থাপনা:
মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্না করলে খেতে অনেক ভালো লাগে। এই খাবারটি আমার খুবই প্রিয়। গরম ভাতের সাথে এই রেসিপি খেতে দারুণ লাগে। এছাড়া অনেক দিন থেকেই এই রেসিপি তৈরি করা হয় না। মন চাচ্ছে আজকেই তৈরি করি। আমার এই রেসিপি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে জানিনা তবে এই খাবারটি খেতে আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল। আপনাদের কাছে যদি এই রেসিপি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই বাসায় ট্রাই করে দেখতে পারেন।
এই কচু টা কে আমাদের এখানে দশতলিয়া কচু অথবা কামিল কিছু বলা হয়ে থাকে। আজ আপনি সেই কচুর ডাটা দিয়ে খুব সুন্দর ভাবে মাছের মাথা দিয়ে রান্না করে দেখিয়েছেন। আপনার এই অসাধারণ মাছ রান্না দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। অনেক সুন্দর একটি লিস্ট এর মাধ্যমে সমস্ত উপাদান গুলো তুলে ধরেছেন। এর পরে রান্নার কার্যক্রম করে দেখিয়েছেন ধাপে ধাপে। আর এই দেখে আমার অনেক ভালো লেগেছে।
দশতলিয়া কচুর নাম আজকে প্রথম শুনলাম ভাইয়া। হয়তো বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নামে পরিচিত। আমার তৈরি করা এই রেসিপি আপনার কাছে ভালো লেগেছে এবং মুগ্ধ হয়েছেন জেনে ভালো লাগলো। চেষ্টা করেছি সবগুলো প্রসেস তুলে ধরার জন্য।
কচুর ডাটা আমার কাছেও ভীষণ ভালো লাগে খেতে। সবথেকে বড় বিষয় খাবারটি বেশ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। মাছের মাথা দিয়ে সুস্বাদু একটি খাবার প্রস্তুত করেছেন। সত্যিই লোভ সামলানো মুশকিল।
মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্না করলে খেতে অনেক ভালো লাগে। এছাড়া কচুর ডাটা আমার খুবই প্রিয়। ভাইয়া আপনার মতামত পড়ে অনেক ভালো লাগলো। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
কচুর শাক বা, কচুর ডাটা আমার খুব পছন্দের । আম্মা মাঝে মাঝে বাসায় কচু শাক রান্না করে থাকে। আপনি মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্না করেছেন দেখে ভালো লাগলো। কচুর ডাটা রান্নার প্রক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে খুবই মজাদার এবং সুস্বাদু হয়েছে । আপনার রেসিপি উপস্থাপন বেশ দুর্দান্ত হয়েছে আপু। এত সুন্দর রেসিপি
পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
কচুর শাক এবং কচুর ডাটা আমারও খুবই পছন্দের। আপনারা মা বাসায় এই রেসিপি তৈরি করেন জেনে ভালো লাগলো ভাইয়া। মাছের মাথা দিয়ে খেতে অনেক ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য প্রকাশের জন্য।
মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্নার রেসিপি অসাধারণ হয়েছে আপু। ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্না অনেকবার খেয়েছি তবে এভাবে এই ছোট মাছের মাথা দিয়ে কখনো কচুর ডাটা রান্না খাইনি। তবে রেসিপিটি দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। আর মাঝেমধ্যে পোস্ট করার জন্য কোন কিছু খুঁজে না পেলে ফোনের গ্যালারিতে যেয়ে পুরনো অনেক ছবি থেকে পোস্ট এর ব্যবস্থা হয়ে যায়। যেটা সত্যি খুবই ভালো লাগে মাঝে মাঝে।
মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রেসিপি আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। ইলিশ মাছ দিয়ে রান্না করলেও খেতে অনেক ভালো লাগে। মাছের মাথা দিয়ে এই রেসিপি তৈরি করলে আরো বেশি মজা হয়। সত্যি ভাইয়া পুরনো গ্যালারি থেকে এই রেসিপি পোস্ট পেয়ে আমার খুবই ভালো লেগেছিল।
আপনি মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্না করেছেন।রেসিপি দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে অনেক ভালো ছিল।আপনি রান্নার প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন।এটা দেখে অনেক ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ আপু সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন আপু এই খবরটি খেতে দারুন হয়েছিল। তাইতো আমি আমার খুবই পছন্দের এই রান্নাটি আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করেছি। আপু আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সত্যি আপু এধরণের খাবার অনেক ভালো লাগে। তবে এটা সত্যি কচুর ডাটার সাথে ইলিশ মাছ হলে আর কথাই নেই। আপু আপনার রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। প্রতিটি ধাপ অনেক সুন্দর করে দেখিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে সুস্বাদু একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন আপু এই খাবারগুলো খেতে অনেক ভালো লাগে। ইলিশ মাছ দিয়ে খেতে অনেক ভালো লাগে। তবে যেহেতু বাসায় ইলিশ মাছ ছিল না তাইতো অন্য মাছের মাথা দিয়ে রেসিপি করার চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদ আপু।
আপু মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটার দারুন একটি রেসিপি শেয়ার করলেন। কচু শরীরের জন্য অনেক ভাল। আমি সব সময় কচু ভুনা করে খেয়েছি। তবে আজকে আপনাকে দেখলাম ঝোল ঝোল করে রান্না করলেন। যা দেখে খুবই ভাল লাগলো। ধন্যবাদ আপু।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা খেতে অনেক ভালো লাগে। আর শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। এভাবে একদিন রান্না করে খেয়ে দেখবেন ভাইয়া। আশা করছি ভালো লাগবে।
মাছের মাথা দিয়ে কচু রান্নার রেসিপি দেখেই খেতে ইচ্ছা করছে। এত মজাদার রেসিপি ধাপে ধাপে শেয়ার করেছেন অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার রেসিপির পরিবেশন আজকে আমার খুবই ভালো লেগেছে।
মাছের মাথা দিয়ে রান্না করা কচুর ডাটা দেখে আপনার খেতে ইচ্ছা করছে জেনে ভালো লাগলো। অবশ্যই বাসায় একদিন ট্রাই করে দেখবেন ভাইয়া। খেতে অনেক ভালো লাগে।
মাছের মাথার সাথে কচুর ডাটা দিয়ে রান্না করা এ ধরনের তরকারি আমি কখনো খাইনি। তবে আপনার এই রেসিপির বর্ণনা গুলো পড়ে এবং ফটোগ্রাফি গুলো দেখে মনে হচ্ছিল রেসিপিটি খেতে অনেক সুস্বাদু ছিল। দারুন একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভাইয়া আপনি যেহেতু এভাবে মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্না করে কখনো খাননি বাসায় একদিন রান্না করতে বললেন। আশা করছি আপনার কাছে ভালো লাগবে।
মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা রান্নার রেসিপি দেখতে বেশ লোভনীয় লাগছে আপু। এই ধরনের রেসিপি খেতে দারুণ লাগে। রেসিপির কালার দেখেই বুঝা যাচ্ছে খেতে খুব সুস্বাদু হয়েছে। রেসিপির উপস্থাপনা এবং পরিবেশনা তো এককথায় দুর্দান্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে রেসিপিটা দেখে খুব ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।