শিক্ষক দিবসের কবিতা " শিক্ষার ক্ষেত্র"
বন্ধুরা
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভালো আছেন। গতকাল ছিল শিক্ষক দিবস। সত্যি বলতে কি মনেই ছিলো না কাল শিক্ষক দিবস ছিলো। এতটা ব্যাস্ততার মাঝে দিন কাটছে যে কিছুই মনে রাখতে পারছি না। কারণ সামনে আমার সোনা বাবাটার জন্মদিন আবার দুর্গা পূজা তাই সবারই প্রচন্ড ব্যাস্ততার মাঝে সময় কাটছে। তাই কবে কোনদিন তা মনেই থাকছে না। কাল সন্ধ্যার দিকে শুনছি আমাদের বাড়ির সামনে প্রচন্ড হৈ চৈ হচ্ছে। কিন্তু কি নিয়ে হৈ চৈ তাই দেখার জন্য বারান্দায় গিয়ে দেখি একটা নতুন কোচিং সেন্টার উদ্বোধন করছ। তাই অনেক ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের মা -বাবা এসেছে।তখনই মনে পড়ে গেল আজ শিক্ষক দিবস তাই এই দিনে উদ্বোধন করা হচ্ছে। তাই নিজে মনে মনে একটু হাসি পেলো। ঠিক তখনই এই কবিতাটি লিখেছিলাম। আশা করি, আপনাদের ভালো লাগবে। বর্তমানে শিক্ষকদের অবস্থান নিয়ে লেখা। আমি কোন শিক্ষককে অপমান করার জন্য নয়। শুধুমাত্র নিজের ভাবনা থেকে আর বর্তমান অবস্থা পরিস্থিতি নিয়েই লিখছি।
শিক্ষার ক্ষেত্রে
বদলে গেছে শিক্ষার ক্ষেত্রে
বদলে গেছে শিক্ষা,
শিক্ষা নিয়ে শিক্ষক সকল
করেন এখন ভিক্ষা।
পাড়ায় পাড়ায় গড়ে তোলেন
নানান কোচিং সেন্টার
মন ভুলানো বিজ্ঞাপনে
করেন ছাত্র গ্রেফতার।
ছোট্ট একটি রুমে গড়েন
একটি শ্রেণিকক্ষ,
ঠাসাঠাসি ছাত্র-ছাত্রী
মেধাতে নয় দক্ষ।
মেধাবিকাশে নয় উদ্দেশ্য
টাকা আয়ের রাস্তা
এমনি করে ভাঙ্গেন তারা
ছাত্র ছাত্রীর মনের আস্থা।
ভর্তি হলে আগে অগ্রিম গুনতে হয়
তা না হলে ছাত্র ছাত্রী ভর্তি হতে ভয়।
প্রাণপাশে মদদ দিতে কিছু শিক্ষক রত
কোচিং সেন্টারের নাম উজ্জ্বল করতে শিক্ষক নেয়ব্রত।
এমন শিক্ষক চাইনা মোরা নয়তো শিক্ষক বটে
একটা জাতি চায়না কভু এমন শিক্ষা মোটে।
আদর্শ শিক্ষক কামনা করেন একটা জাতি
শিক্ষক যেন হয়ে ওঠে আঁধার ঘরের বাতি।
সত্যি বলতে কথাটা বলতে এখন আর দ্বিধা নেই যে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই ব্যবসা কেন্দ্রিক। ক্লাসে যেমন তেমন পাঠদান, আর কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানোতে সবাই মনোনিবেশ করেছে। আমরাও ছুটছি ঠিক তার পিছু পিছু। তবে হ্যাঁ এর মাঝেও দুই একজন শিক্ষক আছেন যারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন শ্রেণীকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সম্পূর্ণ ভাবে গড়ে তুলতে। যাতে করে কোন কোচিং বা প্রাইভেটের দরকার না পরে। বেশ ভালো লিখেছেন দিদিভাই।
শিক্ষক দিবসকে কেন্দ্র করে বর্তমানের শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে খুব সুন্দর একটি কবিতা রচনা করেছেন দিদি। আপনার এই কবিতার মাধ্যমে বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতি অসাধারণ ভাবে ফুটে উঠেছে।আমি মনে করি একজন আদর্শ শিক্ষক একটি দেশের মেরুদন্ড।ধন্যবাদ জানাচ্ছি দিদি শিক্ষক দিবসে এত সুন্দর একটি কবিতা আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।
শিক্ষক দিবসে লেখা আপনার কবিতাটি যথার্থই লিখেছেন। সত্যিই আসল শিক্ষা বা শিক্ষক এখন খুঁজে পাওয়াটাই দায়। শিক্ষা আজ ব্যবসার প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।ধন্যবাদ আপু এমন বাস্তব একটি লেখা শেয়ার করার জন্য।
বৌদি, বিভিন্ন কোচিং সেন্টার কিংবা প্রাইভেট সেন্টার গড়ে তোলার পেছনে শুধুমাত্র শিক্ষকেরাই দায়ী নয়। খুঁজলে এর পেছনে আরো লোক পাওয়া যাবে। তবে সকল শিক্ষককে উচিত শ্রেণীরকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের যথার্থভাবে পাঠদান করানো। খুবই সময়োপযোগী একটি কবিতা পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
খুবই সত্যি কথায় সম্পূর্ণ করা একটি কবিতা।শিক্ষার বদলে এখন ভিক্ষা ই হয়,পয়সার ভিক্ষা।
আসলেই বৌদি, আমরা আজকাল শিক্ষক দিবসের গুরুত্ব ভুলে যাচ্ছি কিন্তু অন্য দিকে কি সব গুরুত্বহীন দিবস নিয়ে মেতে থাকি। আবার দেখুন এমন একটা বিশেষ দিনে নতুন একটা কোচিং সেন্টার খুলে শিক্ষার বারোটা বাজানোর ব্যবস্থা করা হলো কতটা ঝাঁকজমকভাবে!
ভালো ছিলো কবিতাটি, বাস্তবতা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। আর সোনাবাবুর জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল। ধন্যবাদ
শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আপনি খুবই সুন্দর একটি কবিতা আমাদের উপহার দিলেন। আসলে কবিতাটি একদম বাস্তবমুখী বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এরকম হচ্ছে। আসলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটা ভাল আয়ের মাধ্যম তৈরি করেছে। তারা ভালোভাবে শিক্ষা দিচ্ছেনা। সত্যিই আপনার কবিতাটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো এবং বাস্তবমুখী কবিতা। এত সুন্দর কবিতা উপহার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
একদমই ঠিক দিদি। আমি নিজেই এর ভুক্তভোগী। আমার বাবার অনেক টাকা নষ্ট হয়েছে এই করে।খুবই বাজে একটা চক্র এটা। আর যারা যোগ্য প্রকৃত শিক্ষক, তারা মূল্য পায় না।
আপনি সময়োপযোগী যথার্থ কবিতা লিখেছেন দিদি। আপনার কবিতা"ছোট্ট একটি রুমে গড়েন
একটি শ্রেণিকক্ষ,
ঠাসাঠাসি ছাত্র-ছাত্রী
মেধাতে নয় দক্ষ,, এবং গায়ক নচিকেতার সেই ""কয়লা কালো শিক্ষা নিয়ে, মানুষ করে ভিক্ষা" এই গানটার খুবই মিল পাচ্ছি আমি। আসলেই মেধাতে অদক্ষ মানুষ ভিক্ষা করাই শেখে।
প্রথমেই আপনার সোনাবাবার জন্মদিনের অগ্রিম শুভেচ্ছা। কবিতাটা একেবারে বাস্তববাদী। আসলেই এখন শিক্ষার নামে টাকা আয় করার ধান্দা। এখন শিক্ষকরাও আসল শিক্ষা দিতে পারছে না ,আরো শিক্ষাথীর কথা কি আর বলবো। শেষের লাইন গুলা আমার খুব ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ