আমার নিজের লেখা গল্প, কবিতা এবং আমার নিজের করা ফটোগ্রাফি।।। পর্ব- 154
'আমরা তো কখনও কোনও বিউটি কনটেস্টের দর্শক হইনি। চলো, মজা লাগবে।'
আর একটা কার্ড। তোমার?'
মা না। আমার তো ব্যাজ থাকবে। এটা কাকে দেওয়া যায় বলো তো?'
'দাদাকে দাও।'
তোমার দাদা কি যাবে? মনে হয় না।'
'আচ্ছা, বলে দ্যাখো না।'
কথাগুলো হচ্ছিল সকালবেলায়, রঞ্জনার ঘরে। সুবীর তখন বেরিয়েছিল। তিতির দেখল তার বউদির মুখে চিন্তার ছাপ পড়েছে। দাদা-বউদির সম্পর্কটা এখনও সহজ হয়নি। এরজন্যে মা যতটা না দায়ী, দাদার দায়িত্ব অনেক বেশি। সেদিন সকালে যে আলোচনা হয়েছিল তারপর থেকে মায়ের হাহহার একদম বদলে গিয়েছে। সব সময় গম্ভীর হয়ে থাকে। কারণটা জিজ্ঞাসা করতেই ঠেস দিয়ে বলেছে, 'কথা না বলাই ভাল। বললে যদি তোদের মনে হয় মা হয়ে মেয়েদের শত্রুতা করি তা হলে বলার কী দরকার।'
বাবা খবরের কাগজ পড়ছিল। বলল, 'তা ভাল। বেশি কথা বললেই বাজে কথা বেরিয়ে পড়ে।
এর কথাই বলা উচিত।' তবু এখন তিতির বলল, 'বউদি, তুমি একবার মাকে বলবে?'
For work I use:
মোবাইল |
Redmi Note 11s |
ফটোগ্রাফার |
@taskiaakther |
লোকেশন |
ঢাকা, বাংলাদেশ |
ছবি তোলা |
বাহিরে |
'মাকে?' অবাক হয়ে গেল রঞ্জনা।
'মা তো কোথাও যাওয়ার সুযোগ পায় না। বলে দ্যাখো না।'
উনি কি পাঁচতারা হোটেলের বিউটি কনটেস্টের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। আমার মনে হয় উনি যেতে রাজি হবেন না।'
'তোমার দিক থেকে তুমি বললে। তুমি কী কাজ করছ এই সুযোগে মাকে সেটা দেখাতে
পারবে। না রাজি হলে হবে না।' তিতির বলেছিল।
অগত্যা রঞ্জনা গিয়েছিল। শাশুড়ি তখন ছাদ থেকে নেমে আসছিলেন। রঞ্জনা বলল, 'মা, আজ আমাদের অফিস থেকে যে অনুষ্ঠানটা কন্ডাক্ট করছে তার দুটো কার্ড পেয়েছি। একটা তিতিরকে দিয়েছি, আপনি যাবেন?'
'আমাকে আবার তোমার অফিসে যেতে বলছ কেন?' শাশুড়ি মুখ ঘোরালেন।
'আমার অফিসে নয়। গ্র্যান্ড হোটেলে।'
'গ্র্যান্ড হোটেলে?' 'মা মুখ ফেরালেন।
'হ্যাঁ। মিস বেঙ্গল বিউটি কনটেস্ট!'
'ও বাবা। ও তো সাহেব মেমদের ব্যাপার। আমাকে টানছ কেন?'
'এখন আর এদেশে সাহেব মেম কোথায়! তিতিরের সঙ্গে যদি আপনি যান তা হলে আমার
For work I use:
মোবাইল |
Redmi Note 11s |
ফটোগ্রাফার |
@taskiaakther |
লোকেশন |
ঢাকা, বাংলাদেশ |
ছবি তোলা |
বাহিরে |
ভাল লাগবে। আমিও তো ওখানে কখনও যাইনি।'
হঠাৎ শাশুড়ির মুখের চেহারা বদলে গেল, 'বললে দুটো কার্ড পেয়েছ। তা অন্যটা সুবীরকে দিচ্ছ না কেন? সে যাক। আমি গেলে আবার কথা হবে মা হয়ে ছেলের সঙ্গে শত্রুতা করলাম।' শাশুড়ি বললেন।
'আপনার ছেলে আমার অফিসের ব্যাপার পছন্দ করে না সেটা তো জানেন।' রঞ্জনা বলল, 'ওখানে অনুষ্ঠান দেখা যাবে, ভাল খাওয়াবে। এসব তো রোজ হয় না।'
তিতির এসে দাঁড়াল, 'তুমি কখনও গ্র্যান্ড হোটেলে গিয়েছ মা?'
'আমি? কে নিয়ে যাবে? ওই আসতে যেতে বাইরে থেকে দেখেছি। বিয়ের পর একবার তোর বাবাকে বলেছিলাম। তা তিনি বলেছিলেন, ফাইভস্টার হোটেল, 'পাঁচগুণ দাম। আমার মাইনে একদিনেই ফুড়ৎ হয়ে যাবে।'
'তার মানে, তোমার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। তা এখন যখন সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে তখন চলো না।
তুমি গেলে আমারও যাওয়া হয়।' তিতির বলল।
'কেন। তুমি হিল্লি দিল্লি ঘুরে বেড়াচ্ছ, শুটিং-এ যাচ্ছ, কোথায় আমাকে নিয়ে যাচ্ছ? তা ছাড়া
তোমার বাবা রাজি হবেন কি না তা তো জানি না।'
বাবাকে রাজি করানোর দায়িত্ব আমার।' তিতির বলল।
' মায়ের মুখটা আচমকা খুব নরম দেখাচ্ছিল, 'যে বয়সে যাওয়ার সাধ হয়েছিল তখন যাওয়া হয়নি, এখন! কত টাকা লাগবে রে?'