ফটোগ্রাফি পোস্টঃ বৃষ্টি স্নাত ফুলের ফটোগ্রাফি।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
কেমন আছেন সবাই ? আশাকরি ভালো আছেন।প্রত্যাশা করি সব সময় যেনো ভালো থাকেন। আজ ৩০শে আষাঢ়,বর্ষাকাল ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,১৪ই জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।আজ ঢাকার আবহাওয়াটা বেশ সুন্দর। ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। কিন্তু গতকাল ছিল প্রচন্ড গরম। আজ সকালে বৃষ্টি হওয়ার কারনেই আবহাওয়াটা বেশ ঠান্ডা। বন্ধুরা নিয়মিত ব্লগিং এ আজ হাজির হয়েছি নতুন আর একটি ব্লগ নিয়ে। প্রতি সপ্তাহে একটি করে ফটোগ্রাফি ব্লগ শেয়ার করার চেস্টা করি। তারই ধারাবাহিকতায় আজও একটি ফটোগ্রাফি ব্লগ নিয়ে এসেছি। এই ফটোগ্রাফিগুলো করেছিলাম মিরপুর-১ এর একটি নার্সারি থেকে। একটি কাজে মিরপুর-১ গিয়েছিলাম কয়কদিন আগে। ফেরার পথে নার্সারীটি চোখে পরে। দেখলাম অনেকগুলো গাছে বিভিন্ন ধরনের ফুল ফোটে রয়েছে। আর বৃষ্টিভেজা গাছ ও ফুলগুলো দেখতে বেশ সুন্দর লাগছিলো। তাইতো ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় ফটোগ্রাফিগুলো করে নিলাম। তারই কিছু ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। আজ তারই কিছু ফটোগ্রাফি আজ শেয়ার করবো। আশাকরি আজকের ফটোগ্রাফিগুলো ভালো লাগবে আপনাদের। তাহলে বন্ধুরা, আসুন দেখে নেয়া যাক আমার আজকের ফটোগ্রাফি গুলো।
প্রথম ফটোগ্রাফি
কি সুন্দর গোলাপ ফুলটি তাই না? ফুলের গায়ে জমে থাকা বৃষ্টির ফোটা যেনো গোলাপ ফুলের সৌন্দর্যকে বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। স গোলাপের রংটিও বেশ সুন্দর। গোলাপকে বলা হয় ফুলের রানি। বিশ্বে প্রায় ৩০০ প্রজাতির ফুল দেখতে পাওয়া যায়। লাল,সাদা হলুদ সহ বিভিন্ন রং এর গোলাপ ফুল দেখা যায়। এখনতো আবার একই ফুলে বিভিন্ন রংও দেখা যায়। তবে আমার কাছে সাদা গোলাপ ফুল বেশি ভালো লাগে। গোলাপের পাপড়ি থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী তৈরি করা হয়।
দ্বিতীয় ফটোগ্রাফি
এই ফটোগ্রাফিটি হলো স্পাইডার লিলির। অনেক জাতের লিলি ফুল রয়েছে।তবে বেশিভাগ লিলিরই বাংলা নাম নেই।স্পাইডার লিলির আদি নিবাস আমেরিকা। আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় কষ্ট সহিষ্ণু এই ফুলগাছটি এ দেশের বন-জঙ্গল, পাহাড়ি টিলা, রাস্তা-ঘাটে অপ্রতিরোধ্য ভাবে বেড়ে ওঠে। মিষ্টি ঘ্রাণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বাগান, অফিস, পার্ক, উদ্যান, সড়ক-রাস্তা-ঘাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শোভা পায় এই ফুল গাছ। ফুটন্ত স্পাইডার লিলি গাছের ডাঁটার অগ্রভাগে মাকড়সার জালের মতো ফুল ফুটে বলেই এই লিলি স্পাইডার লিলি নামে পরিচিত।এর চারা কোনো স্থানে একবার রোপণ করা হলে দ্রুত গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ঝোপ আকার ধারণ করে।
তৃতীয় ফটোগ্রাফি
এই কাঠ গোলাপ ফুলটি দেখতে কিছুটা ভিন্ন। সাধারনত যে ধরনের কাঠ গোলাপ দেখা যায় সেই রকম নয়। তবে বেশ সুন্দর। আর বৃষ্টির ফোটা পাপড়িতে পরে আছে দেখে আরও বেশি সুন্দর লাগছিলো। বিভিন্ন রং এর কাঠ গোলাপ দেখা যায়। কাঠ গোলাপের সুন্দর একটা মিষ্টি গন্ধ আছে। তবে সাদা কাঠ গোলাপ দেখতে বেশি ভালো লাগে আমার কাছে।
চতুর্থ ফটোগ্রাফি
এই ফুলটি আমি প্রথম দেখলাম। দেখতে বেশ সুন্দর। আর সাদা রং এর যে কোন ফুল আমার বেশ পছন্দ। গুগল সার্চ দিয়ে অনেকগুলো নাম আসলো এই ফুলের। তাই সঠিক কি নাম তা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারলাম। কেউ জানলে কমেন্ট করে জানালে খুশি হবো। তবে দেখতে বেশ সুন্দর।
পঞ্চম ফটোগ্রাফি
এই ফুলটির বাংলা নাম হলো টগর। এটি কাঠমল্লিকা, কাঠকরবী, টগর, কাঠমালতী, চাদনী, অনন্ত সাগর ইত্যাদি নামেও পরিচিত।অফিস আদালতের ও রাস্তা ঘাটের সৌন্দর্য বর্ধনে এই ফুলের গাছ রোপন করা হয়। যখন ফুলগুলো এক সাথে ফোটে তখন দেখতে বেশ সুন্দর লাগে। এই ফুলের হালকা একটা মিস্টি গন্ধ রয়েছে। গাছটি তীব্র রোদ পছন্দ করে, তবে অতিরিক্ত গরম বা তীব্র শীত এই গাছ সহ্য করতে পারে না। এই ফুলের কলি থেকে মেয়েদের খোপায় পড়ার জন্য সুন্দরভাবে গেঁথে মালা বানানো হয় যা গাজরা নামে পরিচিত। আর খোপায় পরলে দেখতেও বেশ সুন্দর লাগে।
আশাকরি আজকের বৃষ্টি স্নাত বিভিন্ন ফুল ফটোগ্রাফিগুলো আপনাদের ভালো লেগেছে। আবার দেখা হবে নতুন কোন ব্লগ নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।শুভ রাত্রি।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেনী | ফটোগ্রাফি |
|---|---|
| পোস্ট তৈরি | @selina 75 |
| মোবাইল | Redmi Note 5A |
| তারিখ | ১৪ই জুলাই,২০২৫ |
| লোকেশন | ঢাকা,বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম শহরে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
আপনার তোলা ফটোগ্রাফি দেখে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। প্রতিটা ফটোগ্রাফি মুগ্ধ হওয়ার মত ছিল। এরকম ফটোগ্রাফি গুলো আমি অনেক বেশি পছন্দ করি দেখতে। কোনটা রেখে কোনটার প্রশংসা বেশি করবো বুঝতে পারছি না। দারুন ভাবে করেছেন আপনি সবগুলো ফটোগ্রাফি।
চেস্টা করেছি সুন্দরভাবে ফটোগ্রাফি করার। ধন্যবাদ আপু।
https://x.com/selina_akh/status/1944796178178261420
Link
https://x.com/selina_akh/status/1944797618661662849
https://x.com/selina_akh/status/1944796864177693144
বৃষ্টি স্নাত ফুলের ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করেছেন দেখে ভালো লাগলো। ফুল গুলো দেখতে অনেক সুন্দর হয়েছে। দারুন ভাবে ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করেছেন আপু।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপু আপনার তোলা ফটোগ্রাফি গুলো দারুন হয়েছে।বিশেষ করে ফটোগ্রাফি গুলোর মধ্যে বৃষ্টি পড়ার কারণে ফটোগ্রাফি গুলা আমার কাছে আরো অনেক বেশি ভালো লেগেছে।যাইহোক ফটোগ্রাফি গুলো যেমন সুন্দর হয়েছে ঠিক তেমনি সুন্দর বর্ণনা উপস্থাপন করছেন।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
বৃষ্টির ফোটা পরায় ফুলগুলোর সৌন্দর্য বহুগুন বেড়ে গেছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
ওয়াও বেশ চমৎকার ফটোগ্রাফি দেখলাম আপনার আজকের শেয়ার করা পোস্টটিতে।ফটোগ্রাফি আমি অনেক ভালোবাসি। আজ কিন্তু আপনার দুর্দান্ত ফটোগ্রাফিগুলো দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। প্রতিটি ফটোগ্রাফি অনেক অসাধারন ছিল।ধন্যবাদ এত সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপু বৃষ্টির সময় যখন ফুলের উপর পানি পড়ে থাকে তখন দেখতে কিন্তু বেশ ভালো লাগে। আপনি কিন্তু নার্সারিবাগান থেকে বৃষ্টি স্নাত ফুলের চমৎকার ফটোগ্রাফি করেছেন। তবে আপনার ফটোগ্রাফি গুলো কিন্তু অসাধারণ হয়েছে। এই ধরনের ফটোগ্রাফি গুলো বারবার দেখতে মন চায়। ধন্যবাদ এত চমৎকার চমৎকার বৃষ্টি স্নাত ফুলের কিছু ফটোগ্রাফি করার জন্য।
ঠিক তাই বৃষ্টির ফোটা পরে থাকায় ফুলের সৌন্দর্য বহুগুন বেড়ে গেছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।