এলোমেলো কিছু ফটোগ্রাফি। ফটোগ্রাফি পর্ব -৪৪
কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই ? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আবারও আমার তোলা কিছু এলোমেলো ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি। আশাকরি আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আমি একটা কথা সবাইকে বারবারই বলতে চাই যে গ্রাম বাংলার মতো পরিবেশ এবং অপরূপ দৃশ্য আর পৃথিবীতে কোথাও নেই। কারণ বিভিন্ন লেখক এবং কবিরা বলে গেছেন যে গ্রাম বাংলার মতো এরকম অপরূপ সুন্দর তারা আর কোথাও দেখেনি। যদিও এই কবি এবং লেখকরা এই গ্রাম বাংলাকে নিয়ে বিভিন্ন কবিতা এবং লেখনী আমাদের মাঝে প্রকাশ করেছেন। আসলে আপনি যেদিকেই তাকাবেন আপনার মনটা সত্যিই ভরে যাবে। এছাড়াও গ্রাম বাংলার মানুষের মনটাও কিন্তু অনেক সাদাসিধে হয়। তাদের ভিতরে এই আধুনিক সমাজের মতো কোনো জটিলতা থাকে না।
এই গ্রাম বাংলার নদী, নালা, খাল, বিল জুড়ে রয়েছে প্রচুর ছোট ছোট মাছ। আর গ্রাম বাংলার এই নদীর পাড়ে এই নৌকাটি বাঁধা দেখে আমার ব্যাগ থেকে ক্যামেরাটি বের করে কিছু ছবি তুললাম এই নৌকাটির বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে। আসলে গ্রামবাংলায় কিন্তু আগেরকার সময়ে নৌকায় ছিল যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। এছাড়াও তারা এই নৌকায় করে মাছ শিকার করতে বের হয়। এই পৃথিবীতে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে এমন অপরূপ সুন্দর আপনি কখনো খুঁজে পাবেন গ্রাম বাংলার মত।
আর শ্রমজীবী মানুষদের শারীরিক গঠন দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন যে তারা কতটা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করে। তারা সকাল বেলা ভোর হতে একদম সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে। আসলে ইট ভাটার এসব শ্রমিক লোকেরা সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে। তাদের শরীরের উপর এই ইটের ধুলো একদম সবসময় লেগে থাকে। আর এর ফলে তাদের শরীরের রং অনেকটা লালচে হয়ে যায়। এছাড়াও শক্ত ইট ধরতে ধরতে তাদের হাতের তালুও এই ইটের মত শক্ত হয়ে যায়।
আসলে এই ইটভাটার দৃশ্য বড়ই করুন। আসলে এখানকার লোকেরা সরকারি কোনো সাহায্য কখনোই পায় না। তারা ক্রীতদাস প্রথার মত বংশ পরম্পরায় এই ইটের ভাটায় কাজ করে আসছে। আসলে আমাদের চারিপাশে বিভিন্ন দৃশ্য আমরা দেখতে পাই যা দেখলে আমাদের মন সবসময় খারাপ হয়ে যায়। তেমনি এক দৃশ্য হলো এই ইটের ভাটার দৃশ্য। আসলে ইটের ভাটায় আসলে মনে হয় যে এখানে আধুনিক সভ্যতার সকল উন্নয়ন এখানে এসে থমকে গেছে।
তো আমি একটু ইটের ভাটার ভিতরে জনজীবনের দৃশ্য দেখার জন্য ইটের ভাটায় প্রবেশ করলাম। আসলে সকল ইটের ভাটা কিন্তু বাইরের লোকের প্রবেশ নিষেধ। যেহেতু এই ইটের ভাটাটি একটা গ্রামবাংলা অবস্থিত তাই সেখানে এতটা আইন নেই। তাই আমরা অনায়াসেই এই ইটের ভাটার ভিতরে প্রবেশ করতে পারলাম। এখানে একপাশে লোকেরা ছোট ছোট ঘর তৈরি করে সেখানে কঠিন জীবনযাপন পালন করে। মহিলারা সকালে উঠে খাবার দাবার রান্না করে ইট তৈরির কাজ শুরু করে দেয়।
যদিও এই ইটের ভাটার শ্রমিকদের সন্তানেরা সারাদিন খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের সন্তানদের তারা কখনোই কোনো প্রাথমিক শিক্ষা দিতে পারেনা। তাই তারা আজীবন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। এই ছোট ছোট বাচ্চারা সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে খেলাধুলা শুরু করে দেয় আর সারাদিন এই খেলাধুলা চলতে থাকে। যদিও শুধুমাত্র খাবার সময় তারা ঘরে গিয়ে খাবার খেয়ে এসে আবার পুনরায় খেলা শুরু করে দেয়। কারণ খেলাধুলা করা ছাড়া তাদের আর কোন কাজ থাকে না। যদিও তারা যখন একটু বড় হয়ে যায় তখন তাদের আবার এই ইটভাটায় কাজ করতে হয় তাদের মা-বাবাদের মত।
দিন দিন এই গ্রাম বাংলার নদী, নালা, খাল, বিল গুলো সব ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আসলে আগেরকার সময়ে এসব নদী-নালা অনেকটা বড় ছিল। যদিও এসব নদী-নালা সংরক্ষণের জন্য সরকার এখনো এতটা তৎপর হয়ে ওঠেনি। আসলে একসময় এসব নদী-নালা থেকে গ্রাম বাংলার মানুষেরা মাছ ধরে সেই মাছ বাজারে বিক্রি করে তারা তাদের জীবন যাপন করত। এই নদী নালার সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে মাছের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাইতো এসব নদী-নালা সংরক্ষণের জন্য সরকারকে অবশ্যই তৎপর হতে হবে।
ক্যামেরা পরিচিতি : CANON
ক্যামেরা মডেল : Canon EOS 7D
ক্যামেরা লেংথ : 600 mm
লোকেশন : নদীয়া
আশাকরি আজকের এই ফটোগ্রাফিক পোস্টটি আপনাদের খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।
সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।
দাদা, গ্রাম বাংলার বেশ কিছু সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন, এজন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। একটি ছবিতে যা প্রকাশ করা যায়, তা কয়েক পৃষ্টা লিখেও সেভাবে প্রকাশ করা যায় না। আপনার তোলা ইটভাটার ছবি তার প্রমান। কি নিদারুণ কষ্ট করে ইট ভাটার শ্রমিরা তার প্রামান্য চিত্র আপনার তোলা ছবি। প্রতিটি ফটোগ্রাফি অনেক সুন্দর হয়েছে। শুভ কামনা আপনার জন্য।
এলো মেলো কিছু অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য আপনি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। অনেক সুন্দর ছিল প্রতিটি ফটোগ্রাফি অনেক ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য।
দাদা বেশ ভালো লাগলো আপনার আজকের পোস্ট পড়ে। গ্রাম বাংলার প্রকৃত প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন আপনি আপনার ফটোগ্রাফিতে। বাংলার গ্রাম গঞ্জের আনাচে কানাচে গড়ে উঠা ইটের ভাটা এবং তাদের সন্তানদের নিয়েও কিন্তু বেশ সুন্দর কিছু কথা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। তবে হ্যাঁ এখন আর গ্রাম বাংলার খালবিল তেমন একটা দেখা যায় না।এখন শুধু দেখা যায় নদী ভরাট করা দালান কোঠা।
দাদা আজকে আপনি দুর্দান্ত কিছু ফটোগ্রাফি করেছেন। হুম আপনি ঠিক বলেছেন গ্রাম বাংলার মতো পরিবেশ ও অপরূপ দৃশ্য আর পৃথিবীর কোথাও নাই। গ্রাম বাংলায় আসলে একটা মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। প্রথম পিকচারটা চমৎকার ছিল। নৌকাটির ছবিটি আমাকে মুগ্ধ করলো।তারপর মানুষজন কাজ করছিল ভাটায় এবং ইট তুলছিল ছিল গাড়িতে সেই মুহূর্তের কিছু ফটোগ্রাফি আপনি তুলে ধরেছেন। এরা অনেক পরিশ্রম করে। অত্যন্ত রোদের মধ্যে তারা কাজ করে থাকে। অনেক কষ্ট করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে। ইট ভাটার বড়ই করুণ দৃশ্য এটা দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। ইটভাটার শ্রমিকদের সন্তানরা খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং তাদের কিছু সুন্দর মুহূর্ত আপনি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। নদী নালা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য আপনি তুলে ধরেছেন ফটোগ্রাফির মাধ্যমে। অনেক ভালো লাগলো আপনার ফটোগ্রাফি পর্বগুলো দেখে।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া , গ্রাম বাংলার এই অপরূপ সুন্দর দৃশ্য পৃথিবীর আর কোথাও নেই। আপনার ফটোগ্রাফি গুলোর ভিতরে গ্রাম বাংলা চিত্র ফুটে উঠেছে। সত্যি ভাইয়া এই শ্রমজীবী মানুষ গুলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করে থাকে । অনেক দিন পরে ইটের ভাটা দেখতে পেয়ে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
চমৎকার কিছু রেনম ফটোগ্রাফি আজকে আপনি আমাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আপনার এই সুন্দর ফটোগ্রাফি গুলো আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের ফটোগ্রাফি হয় দেখতে খুবই ভালো লাগলো।
এই বাংলার প্রকৃতির রুপ আর কোথাও পাবেন না ভাই। এজন্যই হয়তো কবি জীবনানন্দ দাস মৃত্যুর পরেও ফিরে আসতে চেয়েছে এই বাংলায়। গ্রামের মানুষ সাধারণত অনেক কায়িকশ্রম করে থাকে। সেজন্যই তাদের দেহের গঠন ঐরকম হয়ে যায়। আর নদীনালা ভরাটের বিষয়টা একেবারেই অনাকাঙ্খিত। এটা নিয়ে আর না বলি। এটা বেশ দুঃখজনক। বেশ চমৎকার ছিল আপনার ফটোগ্রাফি গুলো এবং লেখাটা দাদা।