গ্রাফিতি এর ফটোগ্রাফি( প্রথম পর্ব )।
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আমি মোটামুটি বেশ ভালো আছি। ভালো থাকা খারাপ থাকা আপেক্ষিক কোন টাই স্থায়ী না। অনেকদিন পর আজ কিছু ফটোগ্রাফি নিয়ে চলে আসলাম আপনাদের মধ্যে। তবে এটা একটু ভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফি। আমাদের কমিউনিটিতে বিভিন্ন ধরনের ক্যাটাগরির ফটোগ্রাফি পোস্ট হয়ে থাকে। তবে আজ আমি করব গ্রাফিতি এর ফটোগ্রাফি পোস্ট। ক্যালিগ্রাফি বা গ্রাফিতি সোজা বাংলায় বললে যাকে বলে দেয়াল লিখন। এটা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এই দেয়াল লিখন সর্বপ্রথম দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধের সময়ের দিকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আবার আলোচনায় এসেছে এই গ্রাফিতি।
আগে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা শহরের দেয়াল গুলো যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীক প্রচারণা দ্বারা আবৃত থাকত। এখন সেখানে দেখা যায় চমৎকার চমৎকার সব গ্রাফিতি। এবং এগুলো করেছে আমাদের দেশের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। আমার ইউনিভার্সিটির দেয়াল জুড়েও দেখা যাচ্ছে এই গ্রাফিতি। আমি আজ আমার ইউনিভার্সিটি সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির দেয়ালে থাকা কিছু গ্রাফিতি এর ফটোগ্রাফি শেয়ার করে নেব আপনাদের সাথে। এটা নিয়ে আমি তিনটা পর্বে ভিন্ন ভিন্ন গ্রাফিতি এর ফটোগ্রাফি শেয়ার করে নেব।
- ৫ ই আগস্টের পরে বাংলাদেশের প্রশাসন বেশ কিছুদিন তাদের দায়িত্বে ছিল না। ঐসময় সড়ক সহ দেশে বেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখা দেয়। তখন আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমে পড়ে। তারা রাত জেগে বিভিন্ন এলাকা পাহাড়া দেওয়া ট্রাফিক কন্ট্রোল করা এসব দায়িত্ব পালন করতে থাকে। এই গ্রাফিতি টা সেটাকে উদ্দেশ্য করেই তৈরি করা হয়েছে।
- ৫ ই আগস্টের পর বাংলাদেশে তৈরি হয় একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। তখন পুরো ছাএসমাজের থেকে একটা বার্তা আসে। স্বাধীনতা যখন এনেছি সংস্কারও আনব। তারা ছাএরাজনীতি, বৈষম্য, অরাজকতা, সাম্প্রদায়িকতা, সহিংসতা এগুলো দূর করার একটা উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই গ্রাফিতি তে সেটাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- আমাদের দেশের একটা ইতিহাস আছে। যখনই রাজপথে ছাএদের উপর গুলি চলে তখনই ইতিহাস বদলে যায়। যেমনটা বদলে গিয়েছিল ১৯৫২,১৯৬৯,১৯৭১ এবং ২০২৪। এই গ্রাফিতি তে সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
- কথায় আছে খাঁচা যদি সোনার তৈরি হয় তবুও সেটা পরাধীনতা। স্বাধীনতা ব্যাপার টাই আলাদা। মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়ানো পাখি জানে স্বাধীনতা কী। এই গ্রাফিতিতে স্বাধীনতা কে মুখ্য বিষয় করে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে স্বাধীনতায় শেষ কথা। ।
- এখানে দুইটা জ্বলন্ত মোমবাতি দেখা যাচ্ছে। যার একটাতে রয়েছে একটা ভয়ডরহীন যুবক। যে কীনা দেশের জন্য নিজের জন্য নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে। অকুতোভয় সেই ছেলে নিয়ে বুক পেতে দিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে বন্দুকের সামনে। গুলিতে তার প্রাণ গেলেও নিশ্চহ্ন করতে পারেনি তাকে।
- এই ফটোগ্রাফি তে চমৎকার একটা বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে মনুষ্যত্বই আসল পরিচয়। এবং হিন্দু ধর্মের ধর্মগ্রন্থ ঋকবেদ এর একটা বাণী তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে " প্রকৃত মানুষ হও এবং অন্যকেও মানুষ হিসেবে গড়ে তোল"।
- এটা হচ্ছে আমার আজকের শেষ গ্রাফিতি। যেখানে একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নেই। এখান হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই সমান। সবার সমান অধিকার। এই গ্রাফিতিতে এই বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চমৎকার দক্ষতার সাথে। আমি আমার পোস্ট টা শেষ করব আমাদের কাজী নজরুল ইসলামের একটা সুন্দর লাইন দিয়ে
মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনি দেখছি আজকে বেশ কিছু গ্ৰাফিতির ফটোগ্রাফী আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুল এবং কলেজের মধ্যে এই ধরনের গ্ৰাফিতি গুলো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।আর এই ধরনের গ্ৰাফিতি গুলো দেখতে অনেক বেশি সুন্দর লাগে আমার কাছে।আর প্রতিটি গ্ৰাফিতি আমাদের কাছে শিক্ষণীয়।
এই ছাত্র আন্দোলনের পর শহরের প্রত্যেকটা দেয়ালে এখন এইরকম গ্রাফীতি গুলো দেখা যায়। প্রত্যেকটা গ্রাফিতি সত্যি ভীষণ সুন্দর ছিল। স্বপ্নের বাংলাদেশ কে অংকন করা হয়েছে। ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
এত সুন্দর সুন্দর গ্রাফিতি গুলো দেখে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আন্দোলনের উসিলায় দারুন কিছু গ্রাফিতি দেখতে পেলাম। স্টুডেন্টদের ভিতরে এত প্রতিভা আগে মানুষ বুঝতে পারে নাই। এখন প্রমান হয়েছে। ধন্যবাদ।