নির্বাসিত নক্ষত্র ( চর্তুদশ পর্ব )!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
ছবিটি Pixabay নিয়ে নেওয়া এবং Canva দিয়ে এডিট করা
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার আসে ততক্ষণে হোটেল নূরজাহান রেজেন্সির লোকটা চলে গিয়েছে। তৃপার দায়িত্ব এখন ম্রিয়মানের
আপনি কী মিস তৃপার আত্মীয়। জিজ্ঞেস করে ডাক্তার।
হ্যা। আপনি আমাকে বলতে পারেন সবকিছু।
দেখেন উনার রোগটা তো আপনি জানেন আশাকরি। এটার চিকিৎসা এখন সম্ভব না। উনি একেবারে শেষ স্টেজে রয়েছে উনার শরীর কন্ডিশন খুবই খারাপ। আমরা ট্রিটমেন্ট চালিয়ে যাচ্ছি তবে এটার কোন উপযুক্ত ট্রিটমেন্ট এখানে নেই। আপনি চাইলে উনাকে ভালো কোথাও শিফট করতে পারেন। তবে আমার মনে হয় না এতে খুব একটা লাভ হবে।
আমি কী ওর সাথে দেখা করতে পারি। জিজ্ঞেস করে ম্রিয়মান।
হ্যা পারবেন তবে কিছুক্ষণ পর। উনি এখন ঘুমাচ্ছে। উনাকে ঘুমের ঔষধ দেওয়া হয়েছে। ঘুম থেকে উঠলে আপনি দেখা করতে পারবেন। বলে ডাক্তার চলে গেল।
তৃপা ঘুম থেকে উঠল তখন প্রায় বেলা তিনটা। ম্রিয়মান বাইরে বসে রয়েছে। একজন নার্স এসে ম্রিয়মান কে ডেকে নিয়ে যায়
এই যে আপনি আসুন। উনি ঘুম থেকে উঠেছে।
ভেতরে যেতেই তৃপাকে দেখতে পাই ম্রিয়মান। বেডের উপর শুয়ে আছে। ওর পুরো শরীরে একটা অবসাদ একটা বিষাদ বাঁধা বেঁধেছে। কিন্তু ম্রিয়মান কে দেখতেই তৃপার মুখে একটা হাসির রেশ ফুটে উঠে।
ম্রিয়মান গিয়ে তৃপার পাশে বসে। তোমার শরীর এতোটা জানাওনি কেন আমাকে। জিজ্ঞেস করে ম্রিয়মান।
জানিয়ে কী হবে। তুমি কী আমাকে সুস্থ্য করতে পারবে। ডাক্তার কিছু বলেছে তোমাকে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম আমাকে কিছু বলল না। আচ্ছা আমাকে ছাড়বে কবে। এখানে আমার মোটেই ভালো লাগছে না। আজ না শুক্রবার আজ না আমাদের ঘুরতে যাওয়ার কথা।
তৃপার এমন কথা শুনে কেঁদে দেয় ম্রিয়মান। এক অসহায় আত্মসমর্পণ করে ম্রিয়মান। যেন ওর কিছু করার নেই। সৃষ্টিকর্তা ওর থেকে সমস্ত কিছু ছিনিয়ে নিয়েছে।
কান্না করছ কেন তুমি। আমি ঠিক হয়ে যাব তো। বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে ওরা। আমার সাথে সময় হয়তো বেশি নেই। এটা আমি বুঝতে পারছি। এই শেষ সময় টা আমার পাশে থাকবে। ম্রিয়মানের উদ্দেশ্যে বলে তৃপা।
ম্রিয়মান কোন উওর দেয়। কিছুক্ষণ পর এসে নার্স ওকে বের করে দেয় কেবিন থেকে। বলে উনারি কন্ডিশনে কথা বলা মোটেও উচিত না। আপনি বাইরে যান।
এভাবেই কেটে যায় কয়েক ঘন্টা। সন্ধ্যার পর ডাক্তার এসে কথা বলে ম্রিয়মানের সাথে। আপনার পেশেন্টের কন্ডিশন খুব খারাপ। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা।
আমি কী ওর পাশে থাকতে পারি এই সময় টা। ডাক্তার অনুমতি দেয়। ঠিক আছে আপনি যান।
ম্রিয়মান ভেতরে যায়। তৃপা কোনরকম চোখ খুলে রয়েছে। কথা বলার অবস্থা ওর নেই। তৃপার পাশে বসে ওর হাত ধরে ম্রিয়মান। নিজে থেকে চেপে ধরে তৃপার হাত। ঠিক অনেক আগে যেভাবে ধরেছিল অদিতির হাত। কিন্তু অদিতি কে ও রাখতে পারেনি। হারিয়ে ফেলেছে। তবে আজকে তৃপাও হারিয়ে যাবে ও জীবন থেকে। তৃপা কেও রাখতে পারবে না ম্রিয়মান।
তৃপার মুখের দিকে তাকিয়ে ম্রিয়মান। তৃপার দিকে তাকিয়ে এক গভীর ভাবনায় ডুবে যায় ম্রিয়মান। ম্রিয়মানের মনে হতে থাকে তৃপা যেন ওর শত বছরের পরিচিত। তৃপার সাথে ওর জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্ক।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
daily task
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.