বি সি এস নাটকের রিভিউ।
আমার প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? সবাইকে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনাদেরকে জানাই শুভেচ্ছা।
|BCS || বি সি এস নাটকের রিভিউ।|
|-|
ইউটিউব থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া।
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য |
|---|
| নাটকের নাম | বি সি এস |
|---|---|
| পরিচালক | আনিসুর রহমান রাজিব |
| অভিনয় | শামিম হাসান সরকার, সামান্তা পারভেজ |
| ভাষা | বাংলা |
| মুক্তির তারিখ | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ |
আজকে খুবই সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ নিয়ে চলে আসলাম। প্রথমে নায়ককে দেখানো হয়৷ সে তার বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল শহরে পড়াশোনা করার জন্য৷ সে একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছি৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে সে শহরে চলে আসে৷ সে গ্রাম থেকে যখন শহরে আসছিল তখন তার বাবা-মা তাকে ভালোভাবেই বলছিল যাতে করে সে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে বের হয়ে আসতে পারে৷
সে যেন পুরো গ্রামের সম্মান অনেকটাই বৃদ্ধি করতে পারে৷ কারণ অনেক আগেও গ্রামের সম্মান সে বৃদ্ধি করেছে৷ কারণ সেখানকার যে স্কুল কলেজগুলো ছিল সেগুলোর মধ্যে সে একেবারে উচ্চপর্যায়ে পাস করেছিল৷ যাতে করে সে গ্রামের একটি আলাদা মানুষ হিসেবে পরিণত হয়ে যায়৷ তাকে সবাই অনেক ভালোবাসে৷ সবাই তাকে অনেক ভাবে আনন্দ উদযাপনের মাধ্যমে তার এই পাস করাকে সাধুবাদ জানাতে থাকে৷ সে যখন শহরে আসে পড়াশোনা করার জন্য তখন সেখানকার তাদের গ্রামের মানুষজন তাকে সাহায্য করেছিল। সেখানে তাকে যত ধরনের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল সবকিছু তারা করবে বলেছিল৷
কারণ নায়কের পরিবার অনেকটাই গরিব ছিল। সে এত কষ্ট করে নিজের যোগ্যতায় এখান পর্যন্ত এসেছে৷ তাই তাদের গ্রামের মানুষ তাকে অনেক ভালোবাসে। তার যেকোন সমস্যায় তারা এগিয়ে আসে৷ এর পরবর্তী নায়ক যখন শহরে চলে আসে তখন সেখানে তার বড় ভাই একজনের কাছে সে আসে৷ সেখানে সে টিউশনি করার জন্য একজন লোকের কাছে যায়৷ তিনি তাকে মিথ্যা কথা বলার জন্য বলে৷ নায়ক সেখানে মিথ্যা কথা বলবে না বলে সেখান থেকে চলে যায়৷
নায়ক যখন তার গ্রাম থেকে আসছিল তখন সেখানে তার বাবা-মা এবং তার যে বোন রয়েছে তারা সবাই তাকে অনেক দোয়া করে দিচ্ছিল৷ একই সাথে নায়কের বাবা এই কথাটিও বলছিল যে তার বাবা-মা এতদিন গ্রামে অনেক কষ্ট করেছে৷ তারা কোনভাবেই কোন ধরনের আনন্দ উদযাপন ভালোভাবে করতে পারেনি৷ কোন ভাবে মানুষ তাদেরকে ভালো চোখে দেখেনি৷ তাই সে যেন এখন বিসিএস ক্যাডার হয়ে আসে।
সে যেন গ্রামের মানুষের যেসকল কথাবার্তা বলেছিল সবকিছুই যেন সে দূর করে দিতে পারে৷ তার পিতা-মাতার সম্মান যেন অনেক বেশি বৃদ্ধি করে ফেলতে পারে। তাই সে শহরে ভালোভাবে পড়াশোনা করার জন্য অনেক কষ্ট করতে থাকে। সে তার পড়াশোনার খরচ এবং তার নিজস্ব যেসকল খরচ গুলো রয়েছে সেগুলো চালানোর জন্য সে সেখানে টিউশনি যখন খুঁজে পায় না তখন সে তার বড় ভাইকে বলে৷ তখন তার বড় ভাই তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেয় ৷ সেখানে সে একটি বাসার দারোয়ান হিসেবে দায়িত্ব পায়৷ পরবর্তীতে সেখানে নায়িকার সাথে তার দেখা হয়ে যায়।
নায়িকাদের সাথে কথাবার্তা বলে এবং সে বুঝতে পারে যে নায়িকা এবং নায়ক একই কলেজে পড়ে৷ তারা দুজনে একইভাবেই তাদের জীবন পরিচালনা করছে৷ তবে নায়িকা অনেকটাই উচ্চ পর্যায়ের ছিল৷ নায়ক অনেকটা নিচু পর্যায়ের ছিল৷ শুধু এই দুটি পার্থক্য ছিল৷ তবে নায়িকা নায়ককে ধীরে ধীরে পছন্দ করতে থাকে এবং তার এই পছন্দ ধীরে ধীরে ভালোবাসায় পরিণত হয়৷
এরপর একদিন যখন নায়িকার বাবা এই বিষয়টি দেখতে পায় যে তাদের দুজনের ভালোবাসা সম্পর্কে সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে তখন নায়কের যে বড় ভাই নায়কের চাকরি দিয়েছিল তিনি তাকে এই কথাটি বলেন৷ পরবর্তীতে নায়ককে সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য তিনি জোর করতে থাকেন৷ বলে যে এখান থেকে যেন সে চলে যায়৷ নাহলে তাকে এখানে বাঁচতে দেওয়া হবে না৷
এভাবে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলার ফলে নায়ক সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে৷ এর পরবর্তীতে নায়িকার অন্য এক জায়গায় বিয়ে ঠিক হয়ে যায়৷ নায়িকা যখন শেষ পর্যন্ত নায়কের সাথে দেখা করে এবং নায়িকা বলে যে সে যেন তাকে ভুলে যায় এবং সে কোনোভাবেই এখানে আর তার সাথে সম্পর্ক কন্টিনিউ করতে পারবে না৷ কারণ তার বাবা কোন ভাবে তাকে এখানে তার সাথে থাকতে দিবেন না৷
নায়িকার অন্য এক জায়গায় বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে৷ তখন নায়ক অনেকটাই কষ্ট পেতে থাকে৷ তার বিসিএস এর পরীক্ষা দিয়ে বাসার দিকে চলে যাচ্ছিল৷ তখন সে শুনতে পায় যে তার মা মারা গিয়েছে৷ সে আরো অনেক ভেঙে পড়ে৷ কারণ তার মা তাকে এতদিন ধরে এত ভালোবাসা দিয়ে তাকে মানুষ করেছে৷ যখন তার মা মারা যায় তখন সে অনেক বেশি কষ্ট পায়৷
এর পরবর্তীতে যখন সে বাসে করে বাসার দিকে চলে আসছিল সে বাসে অনেক কান্নাকাটি করছিল। সেখানে বাসের মধ্যে একজন ব্যক্তি খবরের কাগজ পড়ছিল৷ তখন নায়ক জিজ্ঞাসা করছে যে এখানে বিসিএস এর রেজাল্ট দিয়েছে কিনা৷ তখন নায়কের বিসিএস পরীক্ষায় পাস করার যে কথা রয়েছে সেটি এখানে খবরের কাগজে চলে আসে। তখন সে অনেকটাই আনন্দ পেতে থাকে। তবে তার আনন্দের চেয়ে অনেকটাই কষ্ট ছিল৷
কারণ তার মা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে৷ তার যে প্রিয় মানুষ ছিল সেও তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে৷ সে অনেকগুলো কষ্টের মধ্যে এত ভালো একটি খুশির সংবাদ পেয়ে কি করবো কিছু বুঝতে পারছিল না।
আমার ব্যক্তিগত মতামত।
**খুবই সুন্দর একটি নাটক ছিল এটি৷ নাটকটি অনেক আগেই বের হয়েছিল৷ তবে আমি কিছুদিন আগে নাটকটি দেখেছিলাম৷ আজকে এর রিভিউ আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম৷ আসলে আমাদের অনেকের ক্ষেত্রে এরকম অনেক ঘটনা ঘটে থাকে৷ যেমন আমরা জীবনে এমন অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলি যা হয়তো আমাদের জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস৷ আবার এমন কিছুই আমরা আমাদের জীবনে পেয়ে যাই যা তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷
ঠিক সেরকমই কিছু বিষয়কে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷ প্রথমে যখন নায়ক তাদের গ্রাম থেকে শহরে চলে আসে পড়াশোনা করার জন্য তখন সে টিউশনি খুঁজে পাচ্ছিল না৷ তাই সে বাসার দারোয়ান হিসেবে চাকরি করে৷ সেখানে নায়িকার সাথে দেখা হয়৷ এর পরবর্তীতে তাদের এই সম্পর্ক অনেকটাই ভালোবাসার সম্পর্কে পরিণত হতে থাকে৷ তবে শেষ পর্যন্ত নায়িকার বাবা এই বিষয়টি মেনে নিতে পারেন না৷ নায়ককে সেখান থেকে চলে যেতে বলে৷ এর পরবর্তীতে নায়ক সেখান থেকে চলে আসতে শুনে যে তার মা মারা গিয়েছে৷ তার বিসিএস এর রেজাল্ট দিয়ে দিয়েছে এবং সে পাস করেছে৷
আসলে এরকম আমাদের বাস্তব জীবনেও অনেক ঘটনা ঘটে থাকে৷ আমরা কিছু কিছু জিনিস আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে ফেলি৷ আবার কিছু কিছু জিনিস আমাদের জীবনে চলে আসে৷ যা আমাদের জন্য অনেক ভালো৷ তবে আমাদের প্রিয় মানুষ অথবা মা-বাবাকে যখন হারিয়ে ফেলতে হয় তখন তার থেকে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না।**
| আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুসারে নাটকের রেটিংঃ |
|---|
৯.৮/১০
সমাপ্ত
ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি।আগামিতে অন্য কোন নাটকের রিভিউ নিয়ে আবারও হাজির হবো।ভালো থাকবেন সবাই।আর কষ্ট করে রিভিউটি যারা পড়ছেন তাদেরকে মনের অন্তস্থল থেকে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আজ আর নয়, আপনার নিকটতম এবং প্রিয়জনদের সাথে সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন, নিজের যত্ন নিন। আপনার দিনটি শুভ হোক।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | নাটক রিভিউ । |
| অবস্থান | বাংলাদেশ |
আমি বাংলাদেশ থেকে ইমদাদ হোসেন নিভলু।আমার স্টিমিট আইডি হল @nevlu123।আমি আমার বাংলা ব্লগের একজন ভেরিফাইড মেম্বার।২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আমি স্টিমিট এ কাজ করি।আর এই প্লাটফর্মে জয়েন করি শখের বসে। আর সে থেকেই আজ অব্দি ভালোলাগা থেকেই কাজ করি।জাতিগতভাবে আমি মুসলিম। কিন্তু ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি। কারণ আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি।আমার সবচাইতে বড় শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করা।এ পর্যন্ত আমার তিনটি দেশ ভ্রমণ করা হয়েছে যদিও আরও ইচ্ছে রয়েছে অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করার।যাইহোক শখের মধ্যে আরো রয়েছে গান,ভিডিও ইডিটিং, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি,আর্ট এবং টুডি থ্রিডি ডিজাইন এর কাজ।

https://x.com/Nevlu123/status/1872109115067215941
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
🙏💫🙏
আমার কাছে আজকের এই নাটকের পুরো রিভিউটা পড়তে অসম্ভব ভালো লেগেছে। নাটকের কাহিনীটা অনেক বেশি সুন্দর ছিল। অনেক সুন্দর একটা বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে। এরকম নাটকগুলো দেখতে আমি অনেক বেশি পছন্দ করি। আর সময় পেলে নাটকগুলো দেখার জন্য চেষ্টা করি। তেমনি এই নাটকটাও দেখার চেষ্টা করবো।
নাটকটি আসলেই দারুন।
ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন। বেশ কিছুদিন আগে আমি এই নাটকটি দেখছি এবং এই নাটকের রিভিউ শেয়ার করছি।আপনার পোস্টের মাধ্যমে আবার নাটকের রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লাগলো।ধন্যবাদ ভাইয়া পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ।
ধন্যবাদ পলাশ ভাই সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
বিসিএস নাটকটা আমি এখনো পর্যন্ত দেখি নিই। তবে নাটকের রিভিউটা পড়তে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর করে আপনি পুরো কাহিনীটা উপস্থাপন করেছেন। আমি এরকম নাটক গুলো মাঝেমধ্যে দেখে থাকি। আমার কাছে অনেক ভালো লাগে।
ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।💫
আসলে জীবনে কিছু পেতে হলে কোন কিছু হারাতেও হয়। সে তার প্রিয় মানুষকে হারিয়েছে তবে সে তার স্বপ্ন অর্জন করতে পেরেছে। যাই হোক শেষে ভালো হয়েছে এটাই দেখে ভালো লাগলো। খুব সুন্দরভাবে নাটকের রিভিউ দিয়েছেন। সময় করে নাটকটা দেখার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ আপনাকে।
অনেক ধন্যবাদ আপু ভালো থাকবেন।।