মানুষ আপনার পিছনে লেগে থাকবেই তবে এগিয়ে চলুন দুর্বার গতিতে
হে লো আমার বাংলা ব্লগ বাসী। কেমন আছেন সবাই। আশা করি ভালো আছেন। আমিও অনেক ভালো আছি। আবার ও হাজির হলাম একটি পোস্ট নিয়ে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমার আজকের পোস্ট। আজকে আমি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হওয়া নিয়ে কিছু কথা বলবো। আশা করি সাথেই থাকবেন।।
জীবনে চলার ক্ষেত্রে প্রতিটা ধাপেই আপনি দেখবেন কিছু মানুষ আপনাকে বাধা দিবে। কিছু মানুষ আপনাকে এগিয়ে যেতে দিবেনা। তারা সব সময় চাইবে আপনি যেনো পিছিয়ে থাকেন। এটা কিছু মানুষ এর স্বভাবগত সমস্যা। তবে হাতের পাঁচ আঙ্গুল যেমন এক নয় তেমনি সব মানুষ ও এক নয়। ভালোর সমজে কিছু খারাপ মানুষ থাকবে এটা স্বাভাবিক। তবে আমাদের উচিৎ সব কিছু ছাপিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তাহলেই তো জীবনে সার্থকতা আসবে। তবে হ্যা এই সার্থকতা পাওয়া এতো সহজ নয়। এর জন্য আপনাকে পারি দিতে হবে অনেক উঁচু পথ। কারণ নিন্দুকেরা আপনার চারিপাশে রয়েছে। সব সময় আপনাকে বাধা প্রদান এর জন্যই তো নিন্দুক দের অপেক্ষা। তবে মজার বিষয় হচ্ছে তারা আপনার সমালচনা করতে যেয়ে আপনার দুর্বলতা তুলে ধরবে। আর আপনি সেগুলো কাটিয়ে উঠে সামনে ছুটবেন।
জীবনে চলার পথে আপনি অনেক নিন্দুকের দেখাই পাবেন। তবে তাদের সমালচনা আপনি কিভাবে নিবেন এটা নিতান্তই আপনার উপর। আপনি যদি তাদের কথা শুনে দমে যান তাহলে বলবো সফলতা আপনার জন্য নয়। জীবনে ব্যার্থতা থাকবেই। তবে তার জন্য পিছিয়ে গেলে বা দমে গেলে হবেনা। এগিয়ে চলতে হবে আপন গতিতে। আমার একটা ব্যার্থতার গল্প শুনাই আপনাদের -
সময়টা ২০২১ এর সেপ্টেম্বর মাস ছিলো। আমি তার কিছু দিন আগেই সবে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি সম্পন্ন করে ফলাফল পেয়েছি। বড় এক রেফারেন্স এর কারণে ডাক পেলাম এক বিশাল পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির লিখিত পরীক্ষায়। আমাকে যেদিন কল করা হয়েছে সেদিন ২ ঘন্টা পরই পরীক্ষা নিবে বললো। কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই চলে গেলাম পরীক্ষা দিলাম। তেমন একটা ভালো হয়নি। তবে তাও রেফারেন্স এর জোড়ে ভাইভা তে ডাক পেলাম। যদিও জানতাম না এর জন্য সামনে কি অপেক্ষা করছিলো আমার জন্য। ইন্টার্ভিউ বোর্ড এর লোকেরা আমাকে নানান ভাবে প্রশ্নের প্যাচে ফেললো। মোটামুটি সেদিন পেরেছিলাম। কিন্তু তাদের মন ভরেনি। কারণ আমার রেফারেন্স ছিলো। আর এই রেফারেন্স তাদের পছন্দের ছিলোনা। কি আর করা। বললো ৩ মাস প্রস্তুতি নিয়ে আবার আসতে । তারা ৩ মাস পর ডাকবে আমাকে। চলে আসলাম বাসায়।
আমি একটু ভেঙ্গে পরি। কারণ আমি প্রস্তুতি নেওয়ার তেমন সময় পাইনি। তবে যাই হোক সব কিছু ছাপিয়ে পড়া শুরু করলাম। তবে ৩ মাস গেলেও আমাকে তারা ডাকলোনা। ভাবলাম হয়তো আর ডাকবেনা। সত্যি আর ডাকেনি আমায়। আমি আমার মতই প্রস্তুতি নিয়ে গেলাম। এইতো ১ মাস আগে তাদের সার্কুলার দিলো । আমি অনলাইন থেকে এপ্লাই করলাম। রেজাল্ট এর জোড়ে লিখিতো পরীক্ষায় ডাক পেলাম। লিখিতো দিয়ে আসলাম। অনেক ভালো মার্কস পাওয়াতে ভাইভা তেও ডাক পেলাম। গিয়ে দেখলাম সেই বোর্ড এর মেম্বার রাই বসে আছে। একজন আমাকে চিনতে পারেনি। তবে অন্য জন চিনে জিজ্ঞেস করলো। এর আগের বার আমাকে যে আটকিয়েছে এবার ও সেই প্রশ্ন শুরু করলো।
আমাকে বলা হলো ইঞ্জিন এর ক্র্যাঙ্কশ্যাফট আঁকতে। আমি আঁকলাম কিন্তু তার পছন্দ হলোনা। তাকে থ্রিডিতে এঁকে দেখাতে হবে। তবে আমি তো এই ক্র্যাঙ্কশ্যাফট থ্রিডিতে আকিনি কখনো তাই পারলাম না। আমাকে অনেক গুলো কথা শুনিয়ে বললো তোমরা রেফারেন্স এর ছেলে পেলে কিচ্ছু পারোনা। অথচ আমি আগের সব প্রশ্নই পেরেছি অন্য স্যার এর করা। শেষে বললেন যাও আমাদের সময় নষ্ট করোনা। বের হয়ে যাওয়ার সময় অন্য স্যার কে জিজ্ঞেস করলেন কার রেফারেন্স এ এসেছে ও। কিন্তু ওই স্যার বললেন রেফারেন্স না ভালো নম্বর পেয়ে এসেছে। তখন দেখলাম ওনার মুখ কালো হয়ে গেছে। আমি আর দাড়াইনি। চলে এসেছি। ডাকলেও যেতাম না। আমি আমার যোগ্যতা দেখিয়ে অই পর্যন্ত এসেছি। উনি না থাকলে হয়তো আমরা চাকরীটাও হয়ে যেতো। কিন্তু উনি ভেবেছে আমি রেফারেন্স এ সেখানে গিয়েছি। তাই এই কাজ করেছে। তবে এখানে ব্যার্থ কিন্তু আমি নই। এখানে ব্যার্থ উনি।
তাই বলি জীবনে আপনার অনেক সমস্যাই আসবে। কিন্তু আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে দুর্বার গতিতে। তাহলেই সফলতা অর্জন সম্ভব হবে। আমি জানি ইন্টার্ভিউ বোর্ড এর সেই মেম্বার হয়তো পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন বা পারবেন। কিন্তু দেখুন এই মুহুর্তে কিন্তু আমার চাকরীটা খুবই দরকার ছিলো। কিন্তু সেটাই পেলাম না। আমি আশাহত হইনি। হয়তো এর চেয়ে ভালো কোনো কোম্পানিতে আমার চাকরী হবে কোনো একদিন। আমি কিন্তু নিজেকে প্রমাণ করেই সেখানে নিয়েছিলাম। রেফারেন্স এর জোড়ে নয়। এই ভাবেই জীবনের প্রতিটা ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। কে কি বললো সেটা ভেবে মাথা ঘামাবেন না। নিন্দুকের কথাকে কাজে লাগাবেন। তাহলে দেখবেন এগিয়ে যাচ্ছেন দুর্বার গতিতে।
মানুষ আপনার পিছনে লাগবে তার স্বভাবগত কারনেই। কিন্তু আপনাকে দমে থাকলে চলবেনা। আপনি সব সময় চাইবেন যেনো এগিয়ে যাওয়া যায় শত বাধা পেরিয়ে হলেও। তাহলেই দেখবেন জীবনে সফলতার চাবি কাঠি আপনার হাতের কাছে।
তো এই ছিলো আজকের পোস্ট এ। আশা করি ভালো লেগেছে। কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। শুভকামনা রইলো সবার জন্য।
আপনার পোস্টটি পড়ে যতটা না খারাপ লেগেছে তার চেয়ে বেশি ভাল লেগেছে। এই যে আপনার সেলফ রেস্পেক্ট
এই বেপারটা আমার কাছে বেশি ভাল লেগেছে। আমি নিজেও এরকম সিচুয়েশন ফেস করেছি ইন্টারভিউ বোর্ডে। ইন্টারভিউ বোর্ডে ২-১ জন বসেই থাকে কীভাবে একজন কে আটকানো যায়। আপনি যদি বোর্ডে ঐ ইন্টাভিউয়ার কে বলতেন স্যার আপনি একটু একে দেন হয়ত উনিও পারত না। ফ্রাস্টেটেড হবেন না ভাই। ভাল কিছু অবশ্যই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। ধন্যবাদ ভাই।
হ্যাঁ ভাই হতাস হয়নি কখনো কারণ এখানে তো আমার দোষ ছিল না। দোষ তো ওই লোকের। রেফারেন্সে আসলেই যে সে কিছু পারে না এটা ভাবা তো ভুল।
হুম ভাই মানুষ এর স্বভাবতই তাই যারা অন্যের ভাল কখনই চায় না ৷আর এটাই হলো মানুষ তবে সব মানুষ একি না কিছু মানুষ ভাল আছে বিধায় হয়তো বা এই সুন্দর পৃথিবীটা টিকে আছে ৷
আর হ্যা সফলতার জন্য জীবনে অনেক বাধা বিপত্তি ঘাত প্রতিঘাত পার করতে হয় ৷ কত সমাচলান আরও অনেক কিছু ৷তবে মাথায় একটা জিনিস মনে রাখতে হবে নিজের লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে ৷তবেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব ৷
এটা ঠিক ভাই খারাপ মানুষগুলোর মাঝে অনেক ভালো মানুষ আছে এর জন্যই পৃথিবী এখনো টিকে আছে।
ভাই য়া আপনার বলিষ্ট কন্ঠে উচ্চারিত মানুষ আপনার পিছনে লেগে থাকবেই তবে এগিয়ে চলুন দুর্বার গতিতে,,,,
মানুষ সব সসময় কেউনা কেউ আপনার পিছনে লাগবে। এটা তার স্বভাবগত কারনেই লাগবে।। কিন্তু আমাদেরকে কোন ভাবেই দমে থাকলে চলবেনা। আমাদের সব সময় চাইতে হবে যেনো শত বাধা পেরিয়ে হলেও এগিয়ে যেতে হবে।। তাহলেই দেখবেন জীবনে সফলতার চাবি কাঠি আমাদের হাতের মুঠোয়। ♥♥
হ্যাঁ আপু ঠিক বলেছেন মানুষ আমাদের পিছে যতই লেগে থাকুক আমাদের উচিত সামনে এগিয়ে চলা।