বর্ষণমুখর বেলায়
টানা পাঁচ দিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, অনেকটা একঘেয়েমি জীবন যাপন করতে হচ্ছে এই বৃষ্টির ভিতরে। বলা যায়, বাহিরে বের হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। সারাদিন শুধু বাসার ভিতরে এ রুম থেকে ও রুমে এভাবেই যেন পায়চারি করে সময় কাটছিল।
এমনটা যে শুধু এখানকার অবস্থা তা কিন্তু বললে ভুল হবে। মোটামুটি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যত রকম সংবাদ দেখলাম, তাতে এক প্রকার বোঝাই যাচ্ছে সারা দেশে বেশ ভালোই বৃষ্টি হচ্ছে। অন্যান্য দিনের মতো আজকের দিনটাও বৃষ্টি দিয়েই শুরু হয়েছিল, তবে বিকেলের আগে হঠাৎই যেন আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখতে পেলাম। দীর্ঘ পাঁচ দিন পর মনে হল আকাশটা যেন বেশ ভালোভাবে পরিষ্কার হলো এবং সূর্যটা তার নিজস্ব অস্তিত্ব জানান দিল।
গ্রাম থেকে বাসায় দুইজন খালা শাশুড়ি বিকেলের দিকে বেড়াতে এসেছে। মূলত তারা শহরে এসেছিল ডাক্তার দেখাতে এই আবহাওয়ার ভিতরেই, তাই আজকের দিনটা তারা আমাদের বাসায় থাকবে। যেহেতু হঠাৎই বাসায় মেহমান এসেছে, তাই এক প্রকার তাদের আতিথেয়তায় যেন কোন ত্রুটি না হয়,সেই দিকটা ভেবেই বিকেলের দিকে বাজারের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম।
তাছাড়াও বাল্যবন্ধু আতিফ এসেছে কিছুদিন হলো এলাকাতে, ওর সাথেও দেখা করার ইচ্ছে ছিল। এছাড়াও রাজীব ভাই কয়েকদিন থেকেই মেসেঞ্জারে বারবার বার্তা পাঠাচ্ছিল সরাসরি দেখা করার জন্য। মূলত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বাহিরে যাওয়ার যেহেতু সুযোগ ছিল না, তাই আজকে বিকেলের পরে অনেকটা সেই ইচ্ছে পূরণ করে ফেললাম।
বেরোনোর সময় দেখলাম, আকাশ বেশ ভালই পরিষ্কার আছে। তবে সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছিল, আকাশ যেন ততোই কালো মেঘে ঢেকে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন পরে রাজীব ভাইয়ের সঙ্গে বসে একত্রে গল্প গুজব করে ফেললাম। রাজীব ভাই সমসাময়িক সময়ে তার কিছু ব্যবসায়িক কাজের পরামর্শের জন্য আমাকে ডেকেছিল। যেহেতু বড় ভাই মানুষ, তাছাড়াও পরামর্শের শরণার্থী তাই চেষ্টা করেছি নিজের জায়গা থেকে যতদূর সম্ভব তাকে সুপরামর্শ দেওয়ার জন্য।
রাজীব ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার পর্ব শেষ করে অতঃপর মুঠোফোনে আতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। ওকে বলার চেষ্টা করলাম বাজারের দিকটাতে এগিয়ে আসার জন্য। যাইহোক আতিফ আসার ফাঁকেই, বাসার জন্য কিছু কেনাকাটা করে নিলাম। যেহেতু কেনাকাটা শেষ, আপাতত ঘন্টাখানেক সময় এখন অনায়াসেই আতিফের সঙ্গে কাটানো যাবে।
ভেবেছিলাম এমন মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশে আতিফ কে নিয়ে এদিক-সেদিক কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করব তারপর গল্প গুজব করে বাসায় ফিরব। আতিফের সঙ্গে ঠিকই দেখা হল, তবে সেভাবে গল্প গুজব আর করা হয়ে উঠল না। মুহূর্তেই টিপটিপ বৃষ্টি পড়তে শুরু করল, কোনরকমে দুজন রিক্সায় চেপে যাত্রা শুরু করলাম। মাঝপথে আতিফ কে ওর বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে, আমার বাসার দিকে আসতেই বৃষ্টির বেগ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল।
অবেলাতে যে এইভাবে কাকভেজা হতে হবে, তা যেন ভুলেও বুঝে উঠতে পারিনি। যদিও মোটামুটি যে কাজগুলোর জন্য বাহিরে গিয়েছিলাম তা কিছুটা হলেও করতে পেরেছি, তবে ফেরার পথে এমনভাবে না ভিজলে হয়তো আরো বেশি ভালো হতো। এখন তো ভয়ে আছি আবার যেন ঠান্ডা লেগে না যায়, এটা ভেবে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1706582140329054308?t=u9HYBV8T662AfNh4FFgWsQ&s=19
হঠাৎ বৃষ্টির মাঝে এই ২দিন রোদ দেখা যাচ্ছে আমাদের এইদিকে।বৃষ্টির মধ্যে ঘরবন্ধী হয়েই থাকতে হয় সবাইকে।তাছাড়া আবার আপনার বাসায় মেহমান এসেছে,তাদের আতিথেয়তায় তো কিছু বাজার করতেই হবে।একটু পরিষ্কার আকাশ আপনাকে সুযোগ করে দিয়েছে ঠিকই,কিন্তু বন্ধুর সাথে বেশি সময় কাটাতে দিল না।যাইহোক,সুস্থ থাকুন এই কামনা করি।
ধন্যবাদ আপু আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।
কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের জন্য কোথাও গিয়ে শান্তি পাই না। বাসায় ফেরার সময় কাকভেজা হয়ে বাসায় ফিরতে হয়। যাইহোক বৃষ্টিমুখর দিনেও আপনি আপনার রাজীব ভাই এবং বাল্যবন্ধু আতিফ এর সাথে দেখা করেছেন,এটা জেনে ভীষণ ভালো লাগলো ভাই। কাউকে সুপরামর্শ দিতে পারলে নিজের মধ্যেই অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। যাইহোক পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাই। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মূলত একঘেয়েমি দূর করার জন্যই একটু ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিল ঘুরে বেড়ানোর। তাও তো সেটা পুরোপুরি হলো না বৃষ্টির জন্য।
একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া, কয়েকদিন যাবৎ টানা বৃষ্টি হওয়ায় একঘেয়েমি চলে এসেছে অনেকটা আমাদের সবারই। রাজিব ভাইকে ব্যবসার জন্য কিছু সুপরামর্শ দিয়েছিলেন,তার মানে আপনি ব্যবসা বেশ ভালোই বুঝেন বুঝলাম।আপনি ভেবেছিলেন বন্ধু আতিফের সাথে আড্ডা দিবেন দেখা করে।দেখা ঠিকই হয়েছিল কিন্তু বৃষ্টির জন্য আড্ডা আর দিতে পারলেন না।ফটোগ্রাফি গুলো চমৎকার হয়েছে।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
আমি ব্যবসা খুব একটা ভালো বুঝি না, তবে কেউ যখন নিজের থেকে দুটো কথা শুনতে চায়, তখন বলি এই আর কি।
সত্যি ভাইয়া একটানা বৃষ্টি যেন জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আজ সকালে আমাদের এদিকেও ঝলমলে সূর্যের আবির্ভাব দেখে বুঝতে পেরেছিলাম, হয়তো আবহাওয়াটা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তা নয় দুপুর হতে হতেই আবারো মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। এখন আর আকাশ দেখে কোন ভাবে বোঝার উপায় নেই বৃষ্টি হবে নাকি রোদ হবে। এ যেন রোদ বৃষ্টির খেলা। যাই হোক ভাইয়া, বৃষ্টির দিনে যেহেতু আপনার বাসায় আপনার খালা শাশুড়িরা বেড়াতে এসেছে, আর আপনি আতিথিয়তা করার জন্য বাজারে ছুটে গিয়েছেন, তাহলে বোঝা যাচ্ছে খাবারের আয়োজনটাও বেশ ভালোই জমবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া, বর্ষণমুখর বেলা নিয়ে আপনার সুন্দর অনুভূতিটুকু শেয়ার করার জন্য।
এটা সত্য বাসায় খাবারের আয়োজনটা বেশ ভালই হয়েছিল,তবে অনেকটা পয়সা খরচা হয়েছে।
টানা পাঁচ দিন বৃষ্টি,বলেন কি ভাইয়া!আর আমাদের এখানে বৃষ্টি হওয়ার নাম-ই নেই।বৃষ্টির অপেক্ষায় সবাই যেন আকাশ পানে চেয়ে আছে অতিরিক্ত গরমের হাত থেকে রেহাই পেতে।আর আপনাদের সারা দেশে বেশ ভালোই বৃষ্টি হচ্ছে জেনেই আমার ভালো লাগছে।যাইহোক সবকিছু ঈশ্বরের হাতে,তবুও এইরকম আবহাওয়াতে আপনি আত্মীয়দের ভালোভাবে আপ্যায়ন করতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে।