(তৎকালীন নদিয়া জেলা) কুষ্টিয়া জেলায় অবস্থিত মহিনী মিল ভ্রমণ।
১৮অগ্রায়ন , ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
০৩ডিসেম্বর , ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
০৭জমাদিউল আউয়াল, , ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার।
হেমন্তকাল ।
আসসালামু আলাইকুম,আমি মোঃআলী, আমার ইউজার নাম @litonali।আমি বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] এর সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনজানিয়ে আমার আজকের পোস্ট শুরু করছি
মোহিনী মিল
মোহিনী মিল
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য এবং মঙ্গল কামনা করে আজকের ভ্রমণ কাহিনী শুরু করছি। আজকের ভ্রমণ কাহিনীর মধ্যে তুলে ধরব অখন্ড ভারত উপমহাদেশের এক সময়কার নামকরা এবং ঐতিহ্যবাহী নদীয়া জেলার মহিনি মিল সম্পর্কে কিছু কথা এবং ফটোগ্রাফি। ঐতিহ্য ঘেরা আমাদের কুষ্টিয়া। যেটাকে বাংলার ইতিহাসে স্বর্ণ অক্ষরে লেখা রয়েছে সাংস্কৃতির রাজধানী। উল্লেখযোগ্য হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে তার মধ্যে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি। বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার। সাহিত্যিক মীর মোশারফ হোসেনের বাস্তবভিটা। কাঙ্গাল হরিনাথ। বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতী । পদ্মা নদীর উপর দিয়ে লালনশা সেতু এবং ব্রিটিশ আমলের প্রস্তুত করা হার্ডিং ব্রিজ। তাছাড়া রয়েছে বাংলার উন্নয়নের এক কারিগর বস্ত্র শিল্প মহিনী মিল। বিভিন্ন পর্বে আপনাদেরকে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখিয়েছি। আজকের ভ্রমণ পর্ব মোহিনী মিল নিয়ে আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। |
|---|
পরিত্যাক্ত বিল্ডিং
পরিত্যাক্ত বিল্ডিং
মোহিনী মোহন চক্রবর্তী বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার মুরাগাছা গ্রামে 1838 সালে জন্মগ্রহণ করেন। তারা ছিলেন পাঁচ ভাই বোন তার মধ্যে তিনি বড় তার বাবা ছিলেন পুলিশের একজন কর্মকর্তা।অবিভক্ত ভারতের বস্ত্র শিল্পের ইতিহাসে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে তখনকার পূর্ব বাংলার নদীয়া জেলার কুষ্টিয়ায় স্থাপন করা মোহিনী মিলস। সে সময় যে ক’টি বস্ত্রকলের সন্ধান পাওয়া যায় মোহিনী মিলস তার অন্যতম। এই বস্ত্র কলটি প্রস্তুত হওয়ার পরে পূর্ববাংলায় শিল্প বিপ্লব ঘটতে শুরু করে পূর্ব বাংলার সম্মান উঠে যায় এক অনন্য উচ্চতায়। কেননা এটিই ছিল পূর্ব বাংলার প্রথম মিল।ধুতি, শাড়ি, মার্কিন ও শালু সেখানে প্রস্তুত করা হতো। আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই পুরো ভারত জুড়ে এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। যদিও মোহিনীমোহন চক্রবর্তী প্রথমে মাত্র আটটি তৎকাল নিয়ে শুরু করেছিল তার মিলের কার্যক্রম। পরবর্তীতে লাভজনক হওয়ায় ইংল্যান্ড থেকে ২০০ টি পিতলের তৈরি তাৎপর নিয়ে ১০০ একর জমির উপরে পরবর্তীতে মিলটি স্থাপন করা হয়। যা এখনো আমাদের কুষ্টিয়ায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। |
|---|
পানির ট্যাংক
পানির ট্যাংক
উপরের ছবিটিতে আপনি দেখতে পাচ্ছেন একটি পানির ট্যাংক। সেই সময় এখান থেকে আশপাশ কিছু বিল্ডিংয়ে তাদের জন্য পানি সাপ্লাই করা হতো। তখনই এই মিলটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল ইংল্যান্ড থেকে নিয়ে আসা সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার। আসলে অভিমুক্ত ভারতের এক আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে হাজির হন এই মহিলা মিল। এখানে মহিনী মিলকে কেন্দ্র করে মিলের ভিতরে গড়ে উঠেছিল অত্যাধুনিক দাতব্য চিকিৎসালয় স্কুল এবং খেলার মাঠ তাছারা ছিল ঐতিহ্যবাহী এক বড় পুকুর। |
|---|
পরিত্যক্ত সরঞ্জামাদি
পরিত্যক্ত সরঞ্জামাদি
ইতিহাসের পাতা এখনো স্বর্ণ অক্ষরে লেখা আছে যে মিলের কথা হাজার হাজার টাকা যেখান থেকে মুনাফা আসতো অল্পদিনে যার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল সারা ভারত জুড়ে। সেই মিলটি বিভিন্ন কারণে এখন বন্ধ এবং পরিত্যক্ত। মিলের মালিকানা কয়েকবার হাত বদল হওয়ার পরেও কেউই লাভজনক ব্যবসায় গড়ে তুলতে পারেনি। এখনো মিলের সমস্ত যন্ত্রপাতি পরিত্যক্ত অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় পড়ে রয়েছে। কোথাও বা গদিয়ে উঠেছে ঘাস ঝাড় জঙ্গল। উল্লেখযোগ্য জায়গা গুলো আনসার ক্যাম্পের মাধ্যমে পাহারা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া ভারত এবং পাকিস্তানের যুদ্ধের সময় যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এক চক্রের মাধ্যমে লুট হতে শুরু করে। ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধের পরে যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায় তখন অবশ্য বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পুনরায় আবার এই মিলটি চালু করেছিলেন। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় পরবর্তীতে এই মিলটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। |
|---|
পরিত্যক্ত সরঞ্জামাদি
পরিত্যক্ত সরঞ্জামাদি
হাজারো কোটি টাকা সম্পদ এখনো রয়েছে কুষ্টিয়া বড়বাজার থেকে লালন শাহের মাজার পর্যন্ত ৯৯ বিঘা জমি এই মিলের আওতাধীন। যার মধ্যে ২৮ বিঘা জমির উপরে শুধু মিল এবং কলকার কারখানা স্থাপন করা হয়েছিল।। এখনো বড় বড় বিল্ডিং চোঙ পুকুর বড় বড় ভারি ভারি মেশিন সবই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আনসার ক্যাম্প বসানো হয়েছে এবং কুষ্টিয়া জেলার যত উন্নয়নের ত্রাণ আছে এখান থেকে চেক করে সমস্ত থানায় পাঠানো হয়। এর মানে এখানে এখন সরকারি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। |
|---|
বিল্ডিং ও বিভিন্ন গলি
বিল্ডিং ও বিভিন্ন গলি
বর্তমানে এখানে এই জায়গার দাম অনেক বেশি পুরো জায়গাটির দাম প্রায় 200 কোটি টাকার উপরে। যদি আমাদের দেশের সরকার এই মিলটি চালু রাখতে পারতো তাহলে হয়তো আমাদের অঞ্চলের শিল্প বিপ্লবের আরো বিকাশ ঘটতো আমাদের কুষ্টিয়াটি আরো উন্নত হয়ে যেত। পুরো দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়তো এই তাঁতকলের দুটি লুঙ্গি শাড়ির ভূমিকা। ইচ্ছা ছিল পুরো মেয়েটি ভালোভাবে ভ্রমণ করে দেখব। কিন্তু সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় সেভাবে দেখতে পারেনি। তবে ইচ্ছা আছে বেশ কিছুদিনের মধ্যেই পৌরসভায় চাকরি করে আমার এক বড় ভাই তার মাধ্যমে পুরো মিল্কি ভালো করে দেখে ভিডিও এবং ফটোগ্রাফি করব।। আসলে ইতিহাস এবং ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মোহিনী মিল কালে সাক্ষী হয়ে পূর্ব বাংলার এক ঐতিহ্য।। এই মেইলটি বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ ছিল ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ এবং ধর্মীয় টানাপোড়া। তৎকালীন পাকিস্তানি গভর্নর এই মেয়েটি বন্ধ করে দেয় এবং তাদের কাজে তারা ব্যবহার করতে শুরু করে দেয়। সেই সময় যদি পাকিস্তান সরকারের লোক এমনটি না করতো হয়তো আজও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই মিলটি বেঁচে থাকতো কুষ্টিয়া জেলার মানুষের কাছে। যাহোক এই ছিল আমার মোহিনী মিল ভ্রমণ করার কিছু ছবি এবং কথা আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। |
|---|
লোকেশন:
ডিভাইসঃ Redmi Note 5
>>>>>|| এখানে ক্লিক করেন ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
ধন্যবাদ
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
কুষ্টিয়া সাংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় এটা কম বেশি আমরা সকলেই জানি, কিন্তু কখনো যাওয়া হয়নি কুষ্টিয়ায়। আজকে আপনার পোস্টের মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পারলাম কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল সম্পর্কে। সেই সময়ে ইংল্যান্ডের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে শুরু করা হযেছিল মিল টি আর শুরু টাও বেশ ভালোই লাভজনক ছিল। মিলের ভিতরে চিকিৎসালয়, স্কুল, খেলার মাঠ বড় পুকুর সবকিছুই ছিল,যদি এখনো মিল টি চালু থাকতো তাহলে হয়তো আরও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতো এবং আশেপাশের মানুষের অনেক কাজে আসতো কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো কোটি কোটি টাকার সম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে যা দেখে খুবই খারাপ লাগলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনজরে আসলর হয়তো-বা আবারও ভালো কোন কিছুর সম্ভাবনা রয়েছে। ভাইয়া আপনার পোস্ট টি অনেক সুন্দর ছিল এবং অনেক তথ্য জানতে পারলাম সবমিলিয়ে অসাধারণ লেগেছে আমার কাছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমন্ত্রণ রইলো আপু আমাদের কুষ্টিয়ায় অবশ্যই আসবেন ঘুরে দেখবেন অনেক ভালো লাগবে এই সংস্কৃতির রাজধানী আশা করি। বিশেষ করে রবীন্দ্র মেলা অথবা লালন মেলার মধ্যে আসলে সব থেকে বেশি ইনজয় করতে পারবেন।
এটা জেনে খুবই ভালো লাগলো যে আপনি কুষ্টিয়ার মহিনি মিল ভ্রমণ করতে গিয়েছেন যদিও এখন পর্যন্ত যাওয়া হয়নি। ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে আপনি মোহিনী মোহন চক্রবর্তী এর কিছু অজানা কথা আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন যেগুলো এর আগে কখনোই জানা ছিল না। পুরনো সব জিনিসপত্র দেখেই বোঝা যাচ্ছে এগুলো অনেক আগের, যদি কখনো সময় হয় অবশ্যই মোহিনী মোহন চক্রবর্তীর মিল ভ্রমণ করতে যাব।
ধন্যবাদ আপনাকে মোহিনীমিল সম্পর্কে করা আমার পোস্টটি দেখে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য তবে একবার গিয়ে ঘুরে আসবেন ভালো লাগবে অনেক কিছু জানতে পারবেন অনেক কিছু দেখার আছে
আজকে আপনার পোষ্টের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল সম্পর্কে প্রায় অনেক কিছুই জানতে পারলাম। তাছাড়া কুষ্টিয়াজের সংস্কৃতির রাজধানীর এটা আমি কিছুটা জানতাম। কিন্তু এর সম্পর্কে এত কিছু ধারণা ছিল না। আপনি আপনার পোস্টের মাধ্যমে প্রত্যেকটা বিষয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রভাবে দেখিয়েছেন। অনেক পুরনো জিনিসপত্র দেখতে পেলাম। কিন্তু এখন দেখছি অনেক পরিত্যক্ত হয়ে গেছে প্রত্যেকটা জিনিস। আপনার পোষ্টের মাধ্যমে সত্যিই অনেক কিছু নতুন করে জানতে পারলাম।
ধন্যবাদ আপু পোস্টটি পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আমন্ত্রণ রইল আমাদের কুষ্টিয়ায় ভ্রমণ করার জন্য। যদি রবীন্দ্র মেলা অথবা লালন মেলার মধ্যে আছেন তাহলে অনেক ইনজয় করতে পারবেন।।
জায়গাটির সামনে দিয়ে অনেকবার গিয়েছি তবে এত তথ্য আমার জানা ছিল না। আপনার এই পোষ্টের মাধ্যমে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম যেমন ২৮ বিঘা জমির উপরে শুধু মিল অবস্থিত তাছাড়া এই মিলের ৯৯ বিঘা জমি রয়েছে।
জি কুষ্টিয়া বড়বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে লালনের সীমানার আগ পর্যন্ত সবই মোহিনী মিলের আওতাধীন।। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে সাথে থাকার জন্য।।