৩য় পর্বঃ নীল শাড়ি
25-09-2022
১০ আশ্বিন ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন 🌼। আমি ভালো আছি। আজকের দিনটি আমাদের একটি আনন্দের দিন। কারণ আমাদের টিনটিন বাবুর জন্মদিন যে আজ। সো আমরা সবাই আজকে দিনটি একসাথে সেলিব্রেশন করবো। যায়হোক, দ্বিতীয় পর্বের পর আজকে তৃতীয় পর্বটি লিখে ফেললাম। আশা করি হতাশ হবেন না গল্পটি পড়লে।
২য় পর্বের পর
আবির একটা পর্যায়ে অনেক কিছুই জানতে পারে সারা ব্যাপারে। সারা একসাথে দুইটা জব কেন করছে সেটাও জানতে পারে। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব সারার কাধেঁ । ওদিকে আবিরের জবই হচ্ছে না। একের পর এক যেন ইন্টার্ভিউ দিয়েই। সারা আর আবিরের কথোপকথনের শেষে
"শুভ রাত্রি" বলে সারা শুয়ে পড়ে।
আবির এখন সারার ফ্রেন্ড। ফেইসবুকে সারা কি কি ছবি পোস্ট করেছে সেগুলো দেখতে থাকে। সারার সেই নীল শাড়ি পড়া ছবিটা দেখতে পায়। আবিরের ভালোলাগা সারার প্রতি যেন বাড়তেই থাকে। এই প্রথন কাউকে নিয়ে আবির এতো কিছু ভাবছি। মানুষ প্রেমে পড়লেই এতো কিছু ভাবে। আবির বিছানার পাশে ফোনটি রেখে শুয়ে পড়ে।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই সারা চলে যায় অফিসে। জীবিকার তাগিদে সারাকে কর্মস্থলে যেতে হয়। আর আবির ঘুামচ্ছে। শীতের সকালে কম্বল থেকে যেন বের হতেই মন চাচ্ছে না আবিরের। কিন্তু কি আর করবে মামী যে একটু পরে এসে কানের কাছে এসে ঘ্যান! ঘ্যান! করবে সেটা শোনার আগেই আবিরকে ঘুম থেকে উঠতে হয়। আবির ঘুম থেকে ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা সেরে নেই। এখন কি করবে আবির বুঝতেও পারছে না। এভাবে কর্মহীন জীবন আবিরের মোটেও ভালো লাগছে না। যেকোন উপায়ে হলেও একটা জব আবিরকে ম্যানেজ করতে হবেই।
আবিরের মামা অফিস যাওয়ার পথে আবির জিজ্ঞেস করে, "মামা তোমাদের এখানে কোনো জব এভাইলেবল আছে কি? আমার একটা জব দরকার!
এতোদিন পরে আপনার হুশ ফিরে এলো! অফিসে যে সময় পোস্টিং খালি ছিল তখন তো বলেননি। এবার বুঝেন মজা। এই বলে আবিরের মামা অফিসে চলে যায়।
আবির কি করবে বুঝতে পারছে না। সারাকে না দেখার এক অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করছে আবির। ভালোবেসে ফেলেছে হয়তো সারাকে হয়তোবা না। আবিরের কাছে সারার ফোন নাম্বারটাও যে নেই! কি করে যে সারাকে ফোন দিবে? আবির ভরদুপুরে চলে যায় সেই রেস্টুরেন্ট এ। সেখানে বসে বসে ভাবতে থাকে কখন সারা আসবে? আবিরের কাছে একজন খাবার অর্ডার করতে আসে কিন্তু আবির না করে দেয়। একটা পর্যায়ে আবির সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে। সন্ধ্যা হওয়ার পর সারা চলে আসে। কিন্তু এসেই জানতে পায় আবির এখন পর্যন্ত কোনো খাবার অর্ডার করেনি। তারপর সারা আবিরের কাছে যেতেই আবির দীর্ঘশ্বাস যেন ফেলে। সারা তখন আবিরকে বলে," আপনি এখনও খাবার অর্ডার করেননি কেন?"। আবির সারার জন্য এতোক্ষন অপেক্ষা করে। সারা তখন খাবার অর্ডার গ্রহণ করে। সেদিনের মতো সারার পছন্দ অনুযায়ী খাবার দেয়ার কথা বলে।
সারা কিছুটা রাগান্বিত হয়। কারণ প্রতিদিন রেস্টুরেন্ট এ এসে বসে থাকা সারার মোটেও পছন্দ না। সারা তখন আবিরকে বলে, "আপনি প্রতিদিন এখানে এসে বসে থাকেন কেন?
-জানিনা!
-তাহলে আসেন কেন এখানে?
আবির সারার চোখে দেখতে পায়, অনেকটা দুঃখবিলাস। চুপিসারে দুঃখগুলো অনুভব করে। কাউকে বুঝার সুযোগ দেয় না। সেখান থেকে দেয়া যাবে কি কিছু দুঃখ?
সারা তখন বলে, "আমার কাউকে দরকার নেই, আপনি দয়া করে আর এখানে আসবেন না! এই বলে সারা চলে যায়।
আবির প্রচন্ড মন খারাপ নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। রাস্তা দিয়ে হাটঁতে থাকে আবির। রাস্তার পাশে ল্যাম্পপোস্ট জ্বলছে। আনমনে কিছুক্ষণ ভাবতে থাকে সারার কথা। তবে কি তার ভালোবাসা কি পাওয়া হবে না?
সারা কাজ শেষ করে বাসায় চলে আসে। আজও তার ছোট ভাইয়ের মন খারাপ। বাহিরে ঘুরতে নিয়ে যায়নি সারা। অফিসের কাজের জন্য আসা হয়নি। তার ভাইয়ের রাগ ভাঙাতে হয় সারাকেই। সেদিনের মতো চকলেট দিয়েই রাগ ভাঙায় সারা। সারা ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসে আনমনে ভাবতে থাকে আবিরের কথা। আজকে যে ব্যবহার করেছে সেটার জন্য সারা অনুতপ্ত।
ফোনের ডাটা অন করে আবিরকে মেসেজ দেয়, "আজকের ব্যবহারের জন্য সরি। আসলে ঐ সময় আমার মেজাজ ঠিক ছিল না। "
আবির এক্টিভ নেই। রাত বারোটা বেজে গেল এখনও আবির ফেইসবুকে আসেনি। সারা রীতিমত টেনশনে পরে যায়। কাজটা কি ঠিক হলো? কষ্ট পেয়েছে অনেক হয়তো। ঠিক কিছুক্ষণ পরে আবির ফেইসবুকে আসে।
আবির তখন বলে,"আপনাকে রাগলেও সুন্দর লাগে। মাঝে মাঝে রাগ করাও ভালো।
-হাহাহা, আপনাকে কে বলেছে?
-রাগী মেয়েদের নাকি মনটা অনেক কোমল হয়। রাগের পরে তারা খুব মায়াবী হয়ে যায়। ঠিক যেমন আপনার মতো।
-আবিরের কথা শুনে সারার ভালোই লাগছে। তবে এর থেকে যেন আপনাকে রেস্টুরেন্ট এ না দেখি!
-কেন?
-কারণটা হলো আপনি শুধু শুধু আমার পিছনে লেগে থাকবেন কেন?
-আবির তখন বলেই দিল, ভালোবাসি তাই।
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Hello friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
নীল শাড়ির গল্পটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। সত্যিই গল্পটি বেশ অসাধারণ হয়েছে। আসলে আপনার লেখনী অনেক ভালো ছিল ভাই। পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ এতো চমৎকার গল্প আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকে ধন্যবাদ ভাইয়া গল্পটি পড়ার জন্য 😍