সত্যের আলো ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে (পর্ব-০১)
১৭চৈত্র , ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৩১মার্চ , ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
০৮রমাদান, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার ❤️♥️
বসন্তকাল।
আসসালামু আলাইকুম,আমি মোঃআলী, আমার ইউজার নাম @litonali।আমি বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] এর সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনজানিয়ে আমার আজকের পোস্ট শুরু করছি
আর যারা নিজদের খিয়ানত করে তুমি তাদের পক্ষে বিতর্ক করো না। নিশ্চয় আল্লাহ ভালবাসেন না তাকে, যে খিয়ানতকারী, পাপী।(নিসা:১০৭)
সত্য হচ্ছে ধর্মশাস্ত্রর মৌলিক শক্তি যা দ্বারা সুবিশাল এ পৃথিবী তৈরী হয়েছে, এমন বিশ্বাস আমি মনে করি যা প্রকৃত উদ্দেশ্য বা ঘটনার সাথে সেতুবন্ধন গড়ে তুলে। মহাপবিত্র ধর্মশাস্ত্রে বহু বার বলা আছে মহামহিম আল্লাহ (ঈশ্বরই) একমাত্র সত্য যা আদি থেকে অন্ত । সুবিশাল বিস্তৃত এ সৃষ্টি জগত সসীম ও সত্য , শুধু সৃষ্টিকর্তার গহীন ইচ্ছাসমুদ্রের কোনো ছোট্ট একটি ইচ্ছা।
*আমরা যদি কোনো বিষয় প্রকৃতই ঘটেছে মনে করি, তখন তা সত্য হিসেবে মনে রাখি।যিনি সত্যকথা বলেন বা কলমে লিখে প্রকাশ করেন তাকে আমরা, সমাজে সত্যবাদী নামে গণ্য মান্য করি। যেমন যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন লেখক এবং মানুষের মুখে বলা হচ্ছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ একজন সত্যবাদী লোক ছিলেন ।
দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন ,
যদি বলা হয় যে এটি না অথবা না-কে হ্যাঁ বলা হয় তবে তা মিথ্যা এবং যদি কোন কিছু সমন্ধে জানতে চাওয়া হয় যে এটি কি এবং যদি না-কে না বলা হয় তখন তা সত্য।***
যেমন কেউ যদি বলে, মানুষের রক্ত নীল তখন সটা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে কারণ মানুষের রক্ত লাল এটি বিভিন্নভাবে পরীক্ষিত এবং আমরা নিজ চোখে দেখে থাকি।অথচ পারিবারিক ধার্মিক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শৈশব থেকেই আমাদেরকে বলা হয়, এবং উপদেশ দেওয়া হয় সব সময় সত্য পথে থাকা এবং সত্য কথা বলার জন্য। অনেক সময়ে স্কুল অথবা পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সময় আমাদের বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থাও করা হয় সত্যবাদী তার জন্য।
ইসলাম ধর্মের একজন মহাপণ্ডিত্যপূর্ণ লোক ছিলেন তিনার নাম হযরত বাইজিদ বোস্তামী। আমরা যারা মুসলমান ধর্মের আছি অনেকেই ইনার নাম এবং পরিচয় সম্পর্কে জেনে থাকবো। তিনি যখন বাহিরে লেখাপড়া করতেন একদিন বাড়ি থেকে যখন তার পাঠশালায় যাচ্ছিলেন তখন তার আম্মা তার জামার ভিতরে কিছু স্বর্ণের মুদ্রা ছুচ দিয়ে সেলাই করে রেখেছিল।। পথিমধ্যে হঠাৎ করে ডাকাত দল তাদের উপরে আক্রমণ করে। এবং সবার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিতে শুরু করে।। একে একে যখন সবার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নেয় হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রাহিমাহুল্লাহর কাছে যখন জিজ্ঞেস করে তোমার কাছে কোন কিছু আছে নাকি।। তখন তিনি বলেন আমার জামার মধ্যে আমার আম্মা কিছু স্বর্ণের মুদ্রা রেখেছেন।। এই সময় তিনি চাইলে মিথ্যা বলতে পারতেন তাহলে ঢাকাত দল তাকে সার্চ করত না ।যেহেতু ডাকাত দল ইতিমধ্যে ওখান থেকে চলে যেতে শুরু করেছিল।। তার কাছে লুকায়িত কিছু স্বর্ণের মুদ্রা আছে এটার কথা যখন ডাকাত সর্দার শুনতে পেল, তখন তিনি অবাক হয়ে গেলেন।। এত ছোট একটি বাচ্চা আর তার মধ্যে এত সততা।। ডাকাত দলে সর্দার এবং তার দলের সমস্ত লোকসহ সবাই সৎ পথে ফিরে আসলো এবং সবার মাল সামানা ফেরত দিয়ে দিল।।
এজন্যই সবাই বলে যে সত্যের জয় সব সময়। সত্য কখনো চাপা থাকে না সূর্যের আলো যেমন মেঘ সরে গেলে পৃথিবীতে আলো দিতে শুরু করে তেমনি মিথ্যা একদিন বিলুপ্ত হয় এবং সত্য ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।। এজন্য আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেব মাঝে মাঝে একটি কথা বলে থাকেন যে সত্য বলে ফাঁসিতে ঝুলে সুলে চড়া ভালো মিথ্যা বলে রাজমহলে থেকে ভালো ভালো খাবার খাওয়ার থেকেও।
সংকীর্ণ এ জীবনে এজন্যই সব সময় ভালো কাজ করতে হবে। কথাই বলে কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। কত শ' বছর আগে ঘটেছে হযরত বায়েজিদ বোস্তামীর জীবনে ঘটনা কিন্তু এখনো মানুষ তাকে সত্যের ধারক হিসেবে মনে রেখেছে। এজন্যই আমরা সব সময় চেষ্টা করব সত্য কথা বলা সৎ পথে থাকা এবং ভালো কাজগুলো করার।
চলবে.....
ডিভাইসঃ Redmi Note 5
VOTE @bangla.witness as witness
OR
সত্য মানুষকে মুক্তি দেয় আর মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে। আমাদের নবী ছিলেন সত্যের প্রতীক। ৬৩ বছর বয়সে একটাও মিথ্যা কথা বলেননি। বাইজিদ বোস্তামীর স্বর্ণ নিয়ে সত্য কথা বলার এই ঘটনাটি আমি অনেক আগে শুনেছি। তার মা সর্বদা সত্য কথা বলার শিখিয়েছেন আর তার জন্য সে সর্বদা সত্যি কথা বলে। আর সত্য কথা বলার জন্যই ডাকাত দলরা ইসলামের পথে ফিরে এসেছিল। ঠিক এমন আর একটা ঘটনা রয়েছে, একজন লোক চুরি করত তো সে চুরি করা ছেড়ে দিবে এর জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর কাছে গিয়েছিল। ওই লোকটিকে বলেছিল তুমি সর্বদা সত্য কথা বলবে। যখন রাত হতো সে চুরি করতে যেত তখন সামনে কেউ দেখা হলে জিজ্ঞাসা করতো তুমি কোথায় যাচ্ছ? তখন সে আর বলতে পারত না যে, সে চুরি করতে যাচ্ছে। আর এভাবে সে এই পথ থেকে ফিরে আসে। ধন্যবাদ ভাই সুন্দর লিখেছেন।
ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে আসছি সত্য মানুষকে মুক্তি দেয় আর মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে কিন্তু আমাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য আমরা সত্য না বলে সব সময়ই মিথ্যা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।
ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য
আসলে ভাইয়া সত্য এমন একটি জিনিস যা কখনো শেষ হবার নয়।আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেব ঠিক বলেছেন সত্য বলতে ফাঁসিতে ঝুলতে দ্বিধাবোধ করতে হয় না। আজ সত্যের জন্য বায়েজিদ বস্তামির নাম সবাই স্মরণ করে রেখেছে। সত্যি তার একটা সত্য কথার জন্য পুরো ডাকাত দল ভালো হয়ে গেল ।সুন্দর লিখেছেন, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
আসলে আপনি ঠিকই বলেছেন সত্য চিরদিনই সত্য মিথ্যা দিয়ে যতই সত্যকে চাপা দেওয়া হোক না কেন সত্য একদিন প্রতিফলিত হবে।। ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য।।
সত্যবাদিদা নিয়ে পৃথিবীর সকল পবিত্র ধর্ম গন্থেই বিধি নিষেধ আরোপ করেছেন। আর সত্যবাদি মানুষ জীবেনে কখনও বিফল হয় না। শুধু বায়েজিদ বোস্তামি নয় ইসলামের ইতিহাসে এম হাজারও বায়েজিদ বোস্তামি আছে যারা সত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য বা সত্য বলার জন্য নিজের জীবন কে উৎসর্গ করতে দ্ধিধা বোধ করতেন না। আর আজ আমাদের সমাজের কি অবস্থা। ভালই লিখেছেন ভাইয়া।
ধর্মের কথা কেনা শোনে স্বার্থের কাছে আমরা সবাই বোকা।।
তবে যেটা সত্য সেটা চিরদিনই সত্য মিথ্যা দিয়ে কখনো চাপা রাখা সম্ভব নয় ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি পড়ে সুন্দর মন্তব্য করা।
সত্যের আলো নিয়ে অনেক সুন্দর লিখেছেন আপনি পড়ে অনেক ভালো লেগেছে আমার কাছে। আসলে প্রতিটি মানুষের উচিত সত্যের সাথে থাকা মিথ্যার আড়ালে সত্যকে ঢেকে না রাখা। আপনি বিভিন্ন শাস্ত্র মতে সত্যের আলোচনা করছেন। মানব জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্যের পথে এগিয়ে যাওয়ায় অনেক ভাল। মিথ্যা কখনো মানুষকে মহৎ করে না মানুষকে কখনো ভালো পথে ধাবিত করে না। যতই বিপদ আসুক না কেন সত্যের মুখে থাকলে সত্যের পথে থাকলে সেই বিপদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
ঠিকই বলেছেন আপনি আমাদের উচিত সবসময় ভালো কাজ করা এবং সত্যের পথে অটল থাকা এতে যদি কষ্ট হয় তারপরেও পরকালে শান্তি এবং মুক্তির জন্য সত্যকে আঁকড়ে ধরতে হবে।।
ভাইয়া দারুন একটি বিষয় নিয়ে আজকে আলোচনা করেছেন। আপনার আজকের পোষ্টটি পড়ে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আসলেই সত্যের কোন মৃত্যু নেই। একদিন না একদিন সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই। সত্য কোনদিন চাপা থাকে না। ছোট সময় বাইজিদ বোস্তামীর ঘটনা পড়েছি। সেখানে তিনি সত্য কথা বলে অনেক মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছিলেন। আমাদের উচিত সব সময় সত্য কথা বলা এবং ন্যায়ের পথে চলা। ধন্যবাদ ভাইয়া।
ঠিকই বলেছেন ভাইয়া সত্যের কোন মৃত্যু নেই সত্য একদিন নয় একদিন প্রতিফলিত হবে।। সত্য কথা বলার কারনে সবাই কিন্তু অনেক বড় পাপ কাজ থেকে মুক্তি পেয়ে গেল আসলে এটাই সত্যের শিক্ষা।।