এসো নিজে করি || সিঙ্গেল জীবনে কাপড় কাচার দুঃখ, আনন্দের ছলে উত্থাপন

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আজ - সোমবার

০৬ চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
২০ মার্চ, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ


আসসালামু আলাইকুম

IMG_20230224_084726_106.jpg

হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় মোটামুটি ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম, অভিনন্দন এবং দুঃখ ভরা মন নিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজ আমি আপনাদের মাঝে সিঙ্গেল জীবনের কাপড় কাচার দুঃখ উপস্থাপন করতে চলছি দুর্দশার বিস্তারিত আলোচনা নিয়ে। আশা করি খুব মনোযোগ সহকারে পাঠ করবেন আজকের এই পোস্ট। তবে একটি শর্ত আছে পোস্টটি পড়ার পরে হাসা যাবে না। এমনকি রাগ করাও যাবে না। চলুন শুরু করা যাক।

কাপড় কাচার দৃশ্য পর্যায়ক্রমে


দুঃখে ভরা জীবন নিয়ে আজ আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি কিছু কাপড় কাচার উদ্দেশ্যে। যে জামাকাপড় নিত্যদিনের সংগী। আর যুবক বয়সে ময়লা কাপড়-চোপড় পড়া যায় না তাই অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় পড়তে হবে যেহেতু সর্বদা বাইরে চলাচল। ছোট ছিলাম ভালো ছিলাম জামা কাপড় মা কেচে দিত এবং খুব কম সংখ্যক জামা কাপড় ছিল। সবই সময়! সময় মানুষের জীবনে বেরহম হয়। কি আর করার, কাপড়ের ময়লাও সুযোগ পেলে বেগার ধরে। সাবান অথবা পাউডার যায় দি না কেন সহজে কাপড় থেকে উঠতে চায় না যেন প্রেমিক প্রেমিকার মতো একসাথে আঁকড়ে ধরে। তাই হঠাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের এক ম্যাডাম আমার প্রতি দয়াশীল হয়ে বলল গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে কাঁচতে হবে তাহলে কাপড় পরিষ্কার হবে। অবশ্য কথাটা শোনার পর অলসতা দূর করে শুরু করে দিলাম একদিন। চুলার পাড়ে হাঁড়ি টি নিয়ে গেলাম টিউবওয়েল পাড়ে, টিউবওয়েল থেকে বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি অর্ধেক হাড়ি পরিমাণে নিয়ে চুলার উপরে দিয়ে পানি গরম করতে দিলাম। হয়তো মনে মনে আফসোস করতে থাকলাম! তার পরেও নিজেকে শান্তনা দিলাম, না জানি বউ আসলে দুজনের তাই কাঁচা লাগে! সেই দিক থেকে তো শুধু নিজের কাপড় ভাই,কেচেই ফেলি। পানি গরম হতে থাকলো চট করে মাথায় বুদ্ধি এলো, সিঙ্গেল জীবনের এই দুর্দশা বাংলা ব্লগের প্রাণপ্রিয় ভাই-বোনদের মাঝে তুলে ধরি। হয়তো চিন্তা মাথায় আসার পরে একরাশ শীতল হাওয়া মনের মধ্যে বয়ে গেল, সাথে সাথে ঘর থেকে মোবাইলটা নিয়ে এসে ফটো তুলে নিলাম। হ্যাঁ নিজেই কাপড় কাচবো! মনোবল শক্ত হলো।
IMG_20230224_082657_735.jpg

IMG_20230224_082704_603.jpg

৩১০ টাকা দিয়ে দুই প্যাকেট দুই কেজি ওজনের পাউডার কিনলেই সাথে একটা গামলা ফ্রি। এই ফ্রিরর গামলা আমাকে আরো মনোবল শক্ত করে দিল। পাউডার শেষ হয়ে গেলেও গামলা শেষ হবে না, সেই আশা নিয়ে আমি দোকানে চলে গেলাম। অবশ্য এক কেজি নয়, দুই কেজি পাউডার কিনে আনব সাথে পেয়ে যাবো একটা লাল গামলা ফ্রি। খুবই আনন্দের সাথে পাউডার আর গামলা নিতে চলে গেলাম। হ্যাঁ! আমি সুমন কাপড় কাচব আজ! পাড়ার চাচাতো ভাবি আমার এই গামলা আর পাউডার হাতে নিয়ে আসতে দেখিই আমাকে একটু খোঁচা মেরে কথা বলল। বলল: 'বউ থাকলে মনে হয় দেবরের এই দুঃখ আর দেখতে হতো না' বিয়ে করতে কি হয়? কথাটি শোনার পরে হালকা বেদনাদায়ক হাসি হাসতে হাসতে চলে এলাম। বিয়ে! বোউ! বাচ্চা! না না না। সিঙ্গেল জীবন কষ্ট হলেও অনেক ভালো আছি।
IMG_20230224_084004_990.jpg

IMG_20230224_084000_717.jpg

IMG_20230224_082756_905.jpg

বেদনায় মনটা ভরে উঠল, আজ বউ নেই বলে ভাবীরাও কথা শোনায়। আবারো ফ্রি পাওয়া লাল গামলাটা আমাকে যেন একরাশ সান্ত্বনা দিয়ে বলবো কাপড় কাচার সময় চলে আসছে, ভাবিদের কথা বাদ রেখে নিজের কাজে মন দাও। এদিকে হাঁড়ির পানি গরম আগুন হয়ে গেছে, অনেক কষ্ট করে আঁকার পাড় থেকে গরম পানি এনে গামলা আর বালতির মধ্যে রাখলাম যেহেতু কাপড় কাচতে হবে অনেক। কাপড় কাচা হয় না তাই প্রতিটা কাপড়ের ময়লা হয়ে গেছে। যখন এক টা কাপড়ে ময়লা দেখতাম আর একটা পরতাম, যখন সব কাপড় একবারে ময়লা হয়ে গেছে তখন আর কিছু করার নেই। তাই এই দুর্দশা অবস্থা আমার। ফ্রী পাওয়া লাল গামলা যেন আমার বেদনা বুঝতে পারল। মনে মনে ফ্রী পাওয়া গামলার সাথে কথা বললাম আর একটা পাউডার এর প্যাকেট থেকে গামলার মধ্যে পাউডার দিতে থাকলাম। এই সুযোগে একটু ইউটিউব থেকে কাপড় কাচার ধারণা লাভ করে নিয়েছিলাম। তাই গরম পানির মধ্যে পাউডার দেওয়ার পরে একটা পাঠখড়ি দিয়ে গুলিয়ে দিলাম।
IMG_20230224_084639_020.jpg

IMG_20230224_084716_681.jpg


এবার ময়লা কাপড় গুলো পাউডার মেশানো গরম পানি মধ্যে দিয়ে দিলাম। মনে মনে ময়লাগুলোকে কত না কত কথা বলা শুরু করলাম 'হতছাড়া ময়লা এবার বুঝি আমার কাপড় থেকে দূর হবি' তবে এতটা ধারণা ছিল না গরম পানির মধ্যে কাপড় চোপড়াতে গিয়ে হাত পুড়ে যাবে। নিজের সামান্য একটু ভুলের জন্য জীবনের বড় এক্সিডেন্ট হয়ে যায়। ঠিক তেমনি কাপড় কাচতে গিয়ে প্রথমেই হাত পুড়িয়ে বসলাম গরম পানিতে। আর ঠিক তখনই যে ম্যাডাম আমার এই জ্ঞান দিয়েছিল তার প্রতি একটা খোব সৃষ্টি হলো, না জানি মনে মনে কত কি বলে বসলাম। কি আর করার পানি ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা, এদিকে হাত একটু শান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা।

IMG_20230224_084823_033.jpg

IMG_20230224_083942_605.jpg

IMG_20230224_082842_131.jpg

বড় বেদনার সাথে গামলা এবং বালতি থেকে কাপড় গুলো একটি একটি করে তুলে টিউবওয়েল পাড়ের শানে কাস্তে থাকলাম। ইতোমধ্যে হাতের অবস্থা স্বাভাবিক। মাঝে মাঝে মনে হল বউ থাকলে হয়তো এত কষ্ট করতে হতো না। আবার নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম বউ থাকলে হয়তো আরো বেশি কাপড় কাচা লাগতো। যেহেতু অতিরিক্ত বিরক্ত অনুভব করেছিলাম তাই এই মুহূর্তের ফটো উঠানোর কথা ভুলেই গেছিলাম। একদিকে মনে কষ্ট আর একদিকে হাতের হালকা হালকা ব্যথা অনুভব। এই বেদনা বিধুর মনোভাব নিয়েই সমস্ত কাপড় গুলো কোনমতে কাচার কাজ সম্পন্ন করলাম।
IMG_20230224_082922_135.jpg

IMG_20230224_085046_226.jpg

কাপড় কাচা যে এত কঠিন তাই স্কুল কলেজ লাইফে ধারণাই করিনি। আমার অনেক বন্ধুরা ম্যাচে থাকতো তারা বলতো যখন খালা পাই না তখোন নিজেদের কাপড় কাচতে হয়। তখন ডাটনিয়ে বলতাম কাপড় কাঁচা কি আর ব্যপার। এখন বুঝতে পেরেছি কত ধানে কত চাল।

IMG_20230224_082928_822.jpg

IMG_20230224_083616_953.jpg
খোব কষ্টকে সান্তনা দিয়ে কাপড় কাছাকাছি সম্পন্ন করতে থাকলাম এবং রোদে শুকাতে দিলাম। আর মনে মনে চিন্তা করতে থাকলাম না জানি আবার কবে এই কষ্ট পোহাতে হয়। অবশ্য ভয়-ভীতি ও দুঃখজনক কথা হলেও সত্য বাবা মা বিবাহ দিতে মেয়ে দেখার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। হয়তো মেয়ে দেখার অনুভূতি নিয়ে খুব শীঘ্রই উপস্থিত হব। তবে মনের মধ্যে একটি টেনশন বিরাজমান আজকে নিজের কাপড় কেচে রোদে শুকাতে দিয়েছি। আগামীতেও কি নিজের কাপড় কাচা লাগবে? সাথে কি দ্বিতীয় জনের তা কাচা লাগবে। নাকি সেই মানুষটা এসে আমার এই দুঃখ দূর করবে? ডাল দিয়ে ভাত খায় সোজা রাস্তায় হেঁটে যায়, সহজ সরল মৌনতা আমার, কে বুঝবে এই দুঃখ! কাপড় গুলো রোদে শুকানোর পরে অনেক আনন্দবোধ করে ঝাড়া দিতে দিতে রুমে নিয়ে গেলাম। তবে মনের কষ্ট একটাই, না জানি কবে আবার এই কাজে হাত দিতে হয়। হয়তো হাসছেন, তবে একজনের দুঃখ আরেকজনে বোঝে না এটাই সত্য। যা আপনার হাসি থেকে প্রমাণিত।
IMG_20230224_125942_159.jpg


পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

received_434859771523295.gif

Sort:  

@tipu curate

;) Holisss...

--
This is a manual curation from the @tipU Curation Project.

 3 years ago 

বিয়ে করে ফেলুন তাহলে আর এই ধরনের কষ্টে দিন কাটাতে হবে না। তখন আপনি শুধুমাত্র ডিটারজেন্ট পাউডার কিনে এনে দেবেন আর কাপড় হয়ে যাবে ঝকঝকে ফক ফকে।

 3 years ago 

বিয়ে করলে হয়তো এর চেয়ে বেশি কষ্টের দিন আসতে পারে, গ্যারান্টি নাই।

 3 years ago 

ভাই প্রথমে বলবো যে বিয়ে করে ফেলেন সব দুঃখ দুর হবে ৷ তবে ভাই নিজের কাজ নিজে করা ভালো ৷ আমিও তো নিজের কাপড় নিজে ধুই ৷ কারন মাকে তো বেশি চাপ দেই না ৷ অনেক ভালো লাগলো আপনার কাপড় ধোয়ার অনুভুতি টা সেই সাথে আলোকচিত্র গুলো ৷ অসংখ্য ধন্যবাদ

 3 years ago 

ভাই বিয়ে করে ফেললে দুঃখ বাড়ে।

 3 years ago 

আহা ভাই দুঃখ কেনো। কাপড় কাঁচতে কিন্তু সেই লাগে। আমি সেই ছোট বেলা থেকেই সব সময় নিজের কাপড় নিজে ধুইতাম। এখন হয়তো চাকরীর প্যারাতে আর পারিনা। তবুও সময় পেলেই চেষ্টা করি কাপড় গুলো নিজেই ধুয়ে দেওয়ার। যাক বেশ কষ্ট করলেন মনে হলো।

 3 years ago 

আমার কাছে সেই লাগে না ভাই তাই তো কষ্ট

 3 years ago 

ভাই আগেই এখানে নিষেধ করে দিয়েছেন হাসার জন্য আর রাগ করার জন্য। আসলে একটা নিষেধ শুনতে পারলাম না। পোস্টটা পড়ছি আর মিটিমিটি হাসছি। কারণ আপনি কাপড় কাঁচছেন আবার চিন্তা করতেছেন বউ আসলে তার কাপড়ও কাচা লাগে নাকি। তবে আশা রাখছি ভাবি আসলে আপনার কষ্ট দূর হবে। তাই তাড়াতাড়ি ভাবি নিয়ে আসুন। আমিও অবশ্য নিজের কাপড় কাচা থেকে এখন বিরত আছি। আর আপনার ভাবি সেই কষ্টটা করতে দেয় না। তবে এটা ঠিক বলেছেন ভাই প্রতিদিন একটার পর একটা জামা কাপড় পরতেই থাকি।যেদিন সবগুলো নোংরা হয়ে যায় তখন ধোয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

 3 years ago 

কিছু করার নেই ভাই আপনি আমার দুঃখ দেখে হাসলে কষ্ট লাগবেনা।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.086
BTC 60139.89
ETH 1573.40
USDT 1.00
SBD 0.42