লাইফস্টাইল পোস্টঃভাইস্তাকে নিয়ে বাবুল্যান্ডে একদিন।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
কেমন আছেন সবাই?আশাকরি ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি। প্রত্যাশা করি সবাই ভালো থাকেন,নিরাপদে থাকেন। আজ ১লা আশ্বিন, শরৎকাল, ১৪৩১বঙ্গাব্দ.। ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ ।আজ একটি লাইফস্টাইল পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।শিশুর শারিরীক ও মানষিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা বেশ গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু দিন দিন বিভিন্ন শহরে খেলার মাঠের সংখ্যা কমছে। ফলে শিশুদের খেলার জায়গা কমে যাচ্ছে। আর সেই জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে ইনন্ডোর প্লে গাউন্ড। তেমনই একটি ইন্ডোর প্লে গ্রাইন্ড হলো বাবুল্যান্ড। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে এদের শাখা। আর শিশুদের কাছে বেশ জনপ্রিয় উঠছে এই ইন্ডোর প্লে গ্রাইন্ড।সেই বাবুল্যান্ড এ ভাইস্তার সাথে কাটানো কিছু মুহুর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
ভাইস্তাকে নিয়ে বাবুল্যান্ডে একদিন
কিছুদিন আগে আমার ছোট ভাই এর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম।ছোট ভাই এর ৩ বছরের ছেলে বলল বাবুল্যান্ড যাবে। তার আবদার রাখতে বাসার কাছেই মিরপর -২ এর শপিং কমপ্লেক্স এর ৮ তলায় অবস্থিত বাবুল্যান্ড ব্রাঞ্চ এ গেলাম। যেহেতু আমার ভাই বিজয় রাকিন সিটি তে থাকে তাই তার বাসা থেকে মিরপুর-২ এর বাবুল্যান্ড এর শাখাটি কাছে হওয়াতে সেখানেই যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিলাম। রিক্সা দিয়েই যাওয়া যাবে। যেতে বরোজোর ১৫-২০ মিঃ লাগবে। তাই আমি ,ভাইএর বৌ ও ভাইস্তা রেডি হয়ে বিকাল ৪টায় রওনা দিলাম বাবুল্যন্ড এ। বাবুল্যান্ড এর প্রবেশ পথ বিভিন্ন কার্টুন চরিত্র এঁকে আকর্ষনীয় করা হয়েছে। প্রথম দর্শনেই যা শিশুদের আকৃষ্ট করে।
বাবুল্যান্ড হলো বাচ্চাদের জন্য তৈরি ইনন্ডোর প্লে গ্রাউন্ড। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বাবুল্যান্ড এর শাখা রয়েছে।শুক্র, শনিবার সহ সকল সরকারী ছুটির দিন এই ইনন্ডোর প্লে গ্রাউন্ডটি খোলা থাকে সকাল ১১-রাত ১০ টা পর্যন্ত। আর ওয়ার্কিং দিনে বিকাল ৩টা -রাত ১০টা পর্যন্ত। তবে ওয়ার্কিং দিনে সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্য পড়ার সাথে খেলার ব্যবস্থা আছে,নির্দিস্ট ফির মাধ্যমে বিষয়টি অভিনব লেগেছে। এই ইনন্ডোর প্লে গ্রাউন্ডে বিভিন্ন ধরনের রাইড এর ব্যবস্থা আছে। বাচ্চারা বেশ মজা পায় এ ধরনের রাইগুলোতে চড়তে। আজকাল মাঠ কমে যাওয়াতে বাচ্চারা খেলার সুযোগ পায় না। তাই বাবুল্যান্ড ইনন্ডোর প্লে গ্রাইন্ড এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাবুল্যান্ড এর প্রবেশ ফি
প্রতি বাচ্চার জন্য ৬০০ টাকা ও প্রতিজন এটেন্ডেন্ট এর জন্য প্রবেশ ফি ১৫০ টাকা। আমরা যেহেতু দু'জন গিয়েছিলাম তাই ৯০০ টাকা দিয়ে টিকেট করতে হয়েছি। একজন শিশু কেবল দু'ঘন্টা এনজয় করতে পারবে বিভিন্ন রাইড গুলোতে। দু'ঘন্টা পর যদি থাকতে চান তবে প্রতি ঘন্টার জন্য ১০০ টাকা অতিরিক্ত ফি দিতে হবে। এখানে প্রবেশ করতে পারবে সেই সকল শিশু যাদের উচ্চতা ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি (১৩০সে.মি.)। এবং অবশ্যই সকলকে মোজা পরে ঢুকতে হবে। এটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। তাতে নোংরা হওয়ার সুযোগ কম।
বাবু ল্যান্ডের সাথে একটি ফুড কোর্ট আছে। তাতে বিভিন্ন স্ন্যাক্স কফি বিক্রি করা হয়। এবং বাচ্চার এটেন্ডেন্টরা সেখানে বসে গল্প গুজব করতে পারে। এবং বাচ্চার দিকে নজর রাখতে পারে। যদিও বাবুল্যান্ড এর নিজেস্ব এটেন্ডেন্ট রয়েছে । যারা বাচ্চাদের সাথে বিভিন্ন রাইডের পাশে থাকে, বাচ্চাদের দেখা শুনার জন্য। দেখছিলাম বাচ্চারা বেশ মজা করছিল রাইড গুলোতে চড়ে। আমার ভাইয়ের ছেলেও বেশ মজা করে রাইড গুলোতে চড়ছিলো এবং ইনজয় করছিল। যদিও ওর বয়স ৩ বছর কিন্তু ও সবধরনের রাইডেই চড়ার চেস্টা করছিলো। এবং বেশ মজা করছিলো।
কিন্তু সন্ধ্যার পর মানুষ বাড়ার সাথে সাথে সাফোকেশন হচ্ছিল। কম জায়গা কিন্তু মানুষ বেশি। যদিও এসির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু তাতেও নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই আর বেশিক্ষন না থেকে বের হয়ে এসেছিলাম। এরপর একটি রিক্সা নিয়ে বাসায় ফিরে আসি।
পোস্ট বিবরণ
| পোস্ট | লাইফস্টাইল |
|---|---|
| পোস্ট তৈরি | @selina75 |
| মোবাইল ফটোগ্রাফি | |
| তারিখ | ১৬ই সেপ্টেম্বর,২০২৪ইং |
| লোকেশন | ঢাকা |
আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। বর্তমানে গৃহিনী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম শহরে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি।স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা।এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
https://x.com/selina_akh/status/1835726587482013830
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনি তো দেখছি আপনার ভাইয়ের বাসায় গিয়ে আপনার ভাইয়ের বউ এবং তার বাচ্চার সাথে খুব সুন্দর একটা সময় উপভোগ করেছেন। আসলে এই ধরনের খেলার জায়গাগুলো তৈরি হচ্ছে যেহেতু এখন বাইরে বাচ্চাদের খেলার তেমন কোনো ভালো জায়গা নেই। যদিও এখানে প্রবেশের টিকিট মূল্যটা অনেক বেশি তবু কিন্তু বাচ্চারা এখানে ভালো সময় কাটাতে পারে। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটা পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমারও তাই মনে হয়েছে প্রবেশ মূল্য অনেক বেশি। খোলা মাঠ কমে যাওয়ায় এই ইনডোর পার্ক এর ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ দাদা।
বর্তমানে এই সব ইনডোর প্লে হাউস গুলি বাচ্চাদের জন্য খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বাচ্চাটিকে নিয়ে সকলে মিলে এই প্লে হাউসে গিয়ে নিশ্চয়ই খুব আনন্দ করেছেন আপু। এই কোয়ালিটি সময় গুলো বাচ্চাদের জন্য ভীষণ প্রয়োজন। এতে এদের মানসিক স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়। আজকের যুগে আউটডোর প্লে প্রায় একেবারেই হয় না। ফলের সামাজিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য এই ধরনের ব্যবস্থাপনা খুব কার্যকারী। শুভেচ্ছা নেবেন।
ঠিক বলেছেন সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশ প্রয়োজন খেলাধুলা বেশ প্রয়োজন । খোলা খেলার মাঠ না থাকায় এ ধরনের পার্ক এর ব্যবসা বেশ রমরমা। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ দাদা।
বাচ্চাদেরকে নিয়ে এরকম জায়গা গুলোতে গেলে তারা অনেক বেশি আনন্দ করতে পারে। আমার মেয়ে তো প্রায় সময় বলে এই ধরনের জায়গাগুলোতে তাকে নিয়ে যেতে। আমি তাকে পার্কে নিয়ে যাই আর সে অনেক খেলাধুলা করে। বাবুল্যান্ড এর ভেতরের সৌন্দর্য কিন্তু অনেক বেশি দারুন। মানুষ বেশি হলে এসি থাকলেও ওখানে থাকতে আর ভালো লাগে না এটা ঠিক। ভালোই করেছেন ওখান থেকে চলে এসে। মুহূর্তটা অনেক ভালো কেটেছিল বুঝতে পারছি।
জি আপু বেশ ভালই সময় কাটিয়েছে আমার ভাইস্তা,তার সাথে আমরাও। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপু।
আসলে আপু বাচ্চারা কার্টুন চরিত্রগুলো বেশি পছন্দ করে। এই জন্য প্রত্যেকটি পার্কে দেখা যায় যে কার্টুন চরিত্রের চিত্র অঙ্কন বেশি থাকে। আর এখানে দেখছি অনেক সুন্দর সুন্দর কার্টুনের কিছু চিত্রাংকন।
ঠিক তাই। অনেক কার্টুন চরিত্র আকাঁ ছিল পার্কটিতে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপু।