লাইস্টাইল পোস্টঃ অনেকদিন পর ডেউয়া ভর্তা খেলাম।

in আমার বাংলা ব্লগlast year

শুভেচ্ছা সবাইকে।

কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি।প্রত্যাশা করি সবাই সবসময় ভালো থাকেন,নিরাপদে থাকেন। আজ ১লা আষাঢ়,বর্ষাকাল ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জুন ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। আজ একটি লাইফস্টাইল পোস্ট শেয়ার করবো আপনাদের সাথে।

l1.jpg

চলছে মধুর মাস জৈষ্ঠ্য। দেশী ফলের আনাগোনা এখন শুরু হয়েছে। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আম,জাম,কাঁঠাল কাচা তাল সহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ফল। দেশী ফল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি। তাই দেশী সিজনাল ফলমূল আমাদের সবার খাওয়া উচিত। তবে আজকাল প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে একটি ফল য়ার তা হচ্ছে ডেউয়া।বন্ধুরা আপনারা নিশ্চয়ই চিনেন এই ফল?দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো। কিন্তু আকারে ছোট। কিন্তু জিঞ্জি প্রজন্মের কাছে অপরিচিত এই ফলটি যেমন পুষ্টিকর তেমনই ঔষধি গুনে ভরপুর । এই ফলে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনস ও মিনারেলস যা আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এই ফল ওজন কমাতে,কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেতে বেশ কার্যকর। সেই সাথে এই ফলে থাকা পটাশিয়াম স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যদিও এই ফল খুব কমই পাওয়া যায়। কিন্তু বেশ পুষ্টিকর এই ফল।

l3.jpg

আমার বেশ পছন্দ এই ফল। তাই আমার হাসবেন্ড যখনই দেখতে পায় এই ফল তখনই নিয়ে আসে। আজ সেই ডেউয়া ফুলের ভর্তা খেলাম অনেক দিন পর। বাজার থেকে যখন এনেছিল তখন কাঁচা ছিল। বিক্রেতা বলেছিল যে বাসায় একদিন রাখলেই পেকে যাবে। তাই আমি যাতে পাঁকা তাই চালের ড্রামে রেখে দিয়েছিলাম। আজ পেকেঁছে কিনা দেখতে যে দেখি পেকে গেছে। তখন তার ভর্তা করে খেলাম।আমি এই ভর্তা করতে ব্যবহার করি লবন,বিট লবন,চিনি,ধনেপাতা মরিচ ও ও সরিষার তে। সরিষার তেল ব্যবহার করার কারনে এই ভর্তা স্বাদ দ্বিগুন হয়। আর খেতেও বেশ ভালো লাগে।অনেকদিন পর আজ এই ডেউয়া ভর্তা খেয়ে বেশ ভালো লাগছিল। আগে প্রায়ই সিজনে এই ভর্তা খাওয়া হতো। আমার বাবা প্রায়ই বাজার থেকে এই ফল নিয়ে আসতেন । আর বলতেন বিদেশি ফলের চেয়ে দেশি ফলই বেশি পুষ্টিকর। তাই বাবা বেঁচে থাকাকালীন অনেক ধরনের দেশি ফল খাওয়া হতো। এখন তেমনটা আর খাওয়া হয় না। তার কারন তেমন পাওয়াও যায় না।

l2.jpg

আগে প্রায় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই এই ডেউয়া গাছ ছিল কিন্তু দিন দিন সেই গাছের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। কিন্তু দেশীয় ফলের বিভিন্ন প্রচারনার কারনে এখন অনেক অপ্রচলিত ফলও আবার নতুন করে চাষ হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করতে অন্ লাইনের বিভিন্ন পেজ। যারা এই ধরনের বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন ফল ও খাবার নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার চেস্টা করে যাচ্ছে। ফলে এই নতুন প্রজন্ম এই ফল যেমন চিনছে তেমনই খাচ্ছেও। আজ আনেকদিন পর এই ভর্তা খেয়ে বেশ ভালো লাগছে। আর টক মিষ্টি হওয়ার কারনে খেতে বেশ মজা লাগছিলো।

কিন্তু গ্রামের এ ঐতিহ্যবাহী ফলটিকে নতুন করে গুরুত্ব না দিলে হয়তো একদিন হারিয়েই যাবে। অথচ এর পুষ্টিগুণ ও ভেষজ উপকারিতা আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখার মতোই মূল্যবান। তাই সিজনে এই ফলটি একবার হলেও সবার খাওয়া দরকার।আজ এ পর্যন্ত। আবার দেখা হবে নতুন কোন ব্লগ নিয়ে। শুভ রাত্রি।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেনীলাইফস্টাইল
পোস্ট তৈরি@selina 75
তারিখ১৫ই জুন, ২০২৫ ইং
মোবাইলRedmi Note 5A
লোকেশনঢাকা,বাংলাদেশ

আমার পরিচয়

আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।

সাথে থাকার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

image.png

image.png

image.png

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 last year 

xp1.png

xp2.png

xp3.png

xp4.png

 last year 

cmc.png

 last year 

ডেউয়া ভর্তা খেতে অনেক মজা লাগে। অনেকদিন ধরেই খাওয়া হয়নি। খুবই লোভনীয় লাগছে দেখতে। মনে হচ্ছে খেতে দারুণ হয়েছিল।

 last year 

এটি ঠিক বলেছেন আপু আগে কিন্তু গ্রামে প্রত্যেকটি বাড়িতে ডেউয়া গাছ ছিল। এখন দিনে দিনে এই গাছগুলো কমে যাচ্ছে। তবে এই ফল খেতে আমার কাছে খুব ভালো লাগে। আপনি দেখছেন মজার ভর্তা করে ডেউয়া খেয়েছেন। আর এই ফল খেলে শরীরের জন্য অনেক ভালো হয়। ধন্যবাদ পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আমাদের মাঝে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.086
BTC 60139.89
ETH 1573.40
USDT 1.00
SBD 0.42