স্কুলের স্মৃতি।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
কেমন আছেন সবাই ? আশাকরি ভালো আছেন। প্রত্যাশা করি সবাই সবসময় যেনো ভালো থাকেন। আজ ১৪ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শরৎ-কাল। ২৯ শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। আজ একটি লাইফস্টাইল পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
[source[(https://www.pexels.com/photo/teacher-discussing-her-lesson-about-geography-8926556/)
সবার জীবনে স্কুল জীবন বেশ স্মরণীয় । এখনও যখন স্কুলের কথা মনে পরে নিজের অজান্তেই সেই দিনে ফিরে যাই। বেশ সুন্দর সময় ছিল স্কুলের জীবনটি। আমার জন্ম বেড়ে উঠা চট্টগ্রামে। তাই জীবনের বেশিভাগ সময় কাটিয়েছি চট্টগ্রামে।আমাদের স্কুল ছিল মেয়েদের স্কুল। তাই বেশ ভালো সময় কাটিয়েছি। আর স্কুলটি ছিল সরকারী। খুবই সামান্য বেতন ছিল স্কুলের।আজকাল যেখানে প্রাইভেট স্কুলে অতিরিক্ত বেতন নেয়া হয়। মেয়েদের স্কুল হওয়ায় বেশ কড়া শাসনে মধ্যে কাটাতে হতো আমাদের। টিচারা ছিলেন বেশ স্ট্রিকট। বেশ বড় মাঠ ছিল স্কুল এরিয়ায়। আসলে আমরা যখন স্কুলের পরতাম তখন প্রায় সব স্কুলেই বড় মাঠ ছিল। আর এই মাঠগুলো কেবল ব্যবহার করা হতো স্কুলের খেলাধুলার জন্য। আজকাল যেমন বিভিন্ন কাজে স্কুলের মাঠ ভাড়া দেয়া হয়। তেমন কোন কিছুই করা হতো না স্কুলের মাঠে। আর স্কুল এরিয়াতেই ছিল আমাদের হেডমিস্ট্রেস এর বাসা। তিনি তার পরিবার নিয়ে স্কুল এরিয়াতেই থাকতেন। আর বেশ কড়া ছিলেন আমাদের হেড মিস্ট্রেস। খুব ভয় পেতাম আমরা। তবে তিনি স্কুলের সকল ছাত্রীদের বেশ ভালবাসতেন। আসলে ভালোবাসতেন বলেই আমরা তাকে বেশ সম্মানও করতাম। সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত আমি পড়েছি স্কুলটিতে। আসলে স্কুলটি সিক্স থেকে টেন পর্যন্তই ছিল। মেট্রিক পাশ করার পর কলেজে ভর্তি হলাম। এরপর ইউনিভার্সিটি। তবে স্টুডেন্ট লাইফের স্রেষ্ঠ সময় কাটিয়েছি স্কুলেই।
সেই স্কুলের জীবনের একটি ঘটনা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। সম্ভবত জানুয়ারী মাসের দিকে ঘটনাটি ঘটেছিল। সেই সময়টা স্কুলের ক্লাস কম হয়। বার্ষিক খেলাধুলার আয়োজন চলে সেই সময়। আমি সম্ভবত তখন ক্লাস সেভেন এ পড়ি। বিভিন্ন খেলার ট্রায়াল চলছিল। যেহেতু আমি খেলাধুলায় বেশ ভালো ছিলাম। তাই ট্রাইল দিচ্ছিলাম। খেলার ট্রাইল শেষ আমরা বন্ধুরা সবাই বসে গল্প করছিলাম মাঠে বসে। এই সময় এক বান্ধবী বলল যে স্কুলের হল রুমের পিছনে একটা বড়ই গাছে বেশ বড়ই ধরেছে। আর বড়ইগুলো পেকেছেও। কিন্তু আমাদের সেই দিকে যাওয়ার পারমিশন ছিল না। সেই সাথে স্কুল ছুটির সময়ও হয়ে এসেছে। তাই আমরা কেউ সেই দিকে যেতা চাইলাম না। কিন্তু এক বান্ধবীর আগ্রহে আমরা চারদিকে দেখে মানে আশাপাশে কোন টিচার আছে কিনা দেখে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সেই বড়ই গাছের নিচে গেলাম বড়ই পারতে। উচু গাছ হওয়ায় আমরা ঠিকভাবে বড়ই পারতে পারছিলাম না বড়ই। তাই সবাই ঢিল মেরে মেরে বড়ই পারছিলাম আর দেখছিলাম কোন টিচার বা দাড়োয়ান আসছে কিনা। ছুটির ঘন্টা পরবে তাই শেষ ঢিল গাছে ছুরে মারলাম। আর তখনই ঘটল দুর্ঘটনাটি। আমার এক বান্ধবী চলে গেল গাছের নিচে আর ঢিলটি গিয়ে পরলো তার মাথা। আর সাথে সাথে মাথা ফেটে রক্ত বের হতে শুরু করলো। বেশ ভয়ে গেলাম আমরা সবাই। আর সেই সময় ছুটির ঘন্টা পরলো। কলের নিচে নিয়ে গিয়ে তার রক্ত পরিস্কার করলাম। আর স্কার্ফ দিয়ে ভালোভাবে বেঁধে রক্ত বন্ধ করলাম। সেই বান্ধবীর বাসার কাছেই আরও কয়কজন বান্ধবী থাকতো তারাই রিক্সা দিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে গেলো। টিচাররা জানতেও পারলো না সেই ঘটনা। আর আমার বান্ধবী ভয়ে টিচারদেরও কিছু বলেনি।মাথায় স্কার্ফ বেঁধে সকলের সাথে বেরিয়ে গেলো স্কুল থেকে। পরে কয়েকদিন পর যখন স্কুলে গেলাম তখন বান্ধবীদের কাছে জানতে পারলাম যে ,তার মাথায় সেলাই দিতে হয়েছি। কয়টি সেলাই দিয়েছি তা এখন আর মনে নেই। সেই ঘটনাটির পরে আমি কয়কদিন স্কুলে যাইনি। যদি টিচার জানতে পারেন আর আমাকে শাস্তি দেন সেই ভয়। পরে জেনেছিলাম যে সেই ঘটনাটি আমরা কয়কজন ছাড়া আর কেউ জানতেও পারেনি। সকলে ঘটনাটি চাপা দিয়েছিল। তা না হলে সকলকেই শাস্তি পেতে হতো। সেই ঘটনার পর আর কখনই সেই বড়ই গাছের নিচে যাইনি স্কুল জীবনের বাকীটা সময়। এখন যখন মনে পরে সেই ঘটনা তখন মনে হয় এর চেয়েওতো বড় কোন ঘটনা ঘটতে পারতো। মনে পড়লে আজও শরীর কাঁটা দিয়ে উঠে। এমন অনেক ঘটনাই আমাদের সকলের জীবনে রয়েছে। যা মনে পরলে বেশ আনন্দ যেমন হয় তেমনই ভয়ও লাগে।
আমার স্কুল জীবনে একটি ঘটনা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। যা আমার জীবনের একটি দুঃখময় স্মৃতি। যা মনে পরলে আজও বেশ ভয় লাগে।আজ এ পর্যন্ত আবার দেখা হবে নতুন কোন ব্লগ নিয়ে। শুভ রাত্রি।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেনী | লাইফস্টাইল |
|---|---|
| ক্যামেরা | Redmi Note 5A |
| পোস্ট তৈরি | @selina 75 |
| তারিখ | ২৯ শে আগস্ট, ২০২৫ ইং |
| লোকেশন | ঢাকা,বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
https://x.com/selina_akh/status/1961461770029007273
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Link
https://x.com/selina_akh/status/1961464378013700487
https://x.com/selina_akh/status/1961463830619230673
https://x.com/selina_akh/status/1961465140999594483