লাইফ স্টাইলঃ চট্টগ্রামে কাটানো মুহূর্তগুলো।

in আমার বাংলা ব্লগ11 months ago

শুভেচ্ছা সবাইকে।

কেমন আছেন সবাই ? আশাকরি ভালো আছেন।প্রত্যাশা করি সবসময় যেনো ভালো থাকেন। আজ ২৯শে শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। ১৩ই আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। আজ একটি লাইফস্টাইল পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

l3.jpg

প্রায় ১০ দিন বাবার বাড়ি চট্টগ্রামে কাটিয়ে গত শুক্রবার ঢাকায় ফিরলাম। প্রায় ১ বছর পর চট্টগ্রাম গেলাম। আসলে নিজের যখন সংসার হয়ে যায় তখন আর হুট হাট করে বাবার বাসায় যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে বিজ্ঞানের কল্যানে মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে সবার সাথেই কথা হয় প্রতিদিন। তাছাড়া এই এক বছরের মধ্যে আমার বড় বোন ও বড় ভাই তার পরিবার নিয়ে ঢাকায় ঘুরে গেছে। তাই তাদের সাথেও দেখা হয়েছে। আর মার সাথেতো প্রতিদিনই কথা হয়।

l1.jpg

তাই গত ২৪ জুলাই যখন বড় ভাইয়া তার কাজে ঢাকায় আসলো।তখনই ঠিক করলাম এবার বড় ভাইয়ার সাথে চট্টগ্রাম যাবো। আপনাদের ভাইয়ার জন্য অপেক্ষা করলে আমার আর যাওয়া হবে না। তার ব্যস্ততার জন্য। তাই ৩০ জুলাই ভাইয়ার সাথেই চট্টগ্রাম রওনা হলাম।

l4.jpg

কিন্তু চট্টগ্রামে স্টেশনেই বৃস্টি আমাদের স্বাগতম জানালো। আর সেই বৃস্টি চল একটানা ৫ দিন।কিছুক্ষনের জন্য বৃস্টি থামলেও আবার শুরু হয়। আর চট্টগ্রামে বর্ষাকালে বৃস্টি মানেই এ সপ্তাহ চলমান থাকবে। অনেক দিন পর চট্টগ্রামে গিয়ে সেই বৃস্টির দেখা পেলাম। তাই যাওয়ার পর থেকেই বাসা বন্ধি জীবন যাপন করলাম। উপর তলা আর নিচ তলা করা ছাড়া উপয়া ছিল না। তবুও ভালো যে আমার ভাইয়ারা সবাই একই বিল্ডিং এ থাকে। মানে বাবার বাসার আলাদা আলাদা ফ্ল্যাটে। তাই সবার সাথেই দেখা হয়ে গেলো। কেবল দেখা হলো না বড় বোনের সাথে। প্রায় ৫ দিন পর বড় বোনের বাসায় যাওয়া সম্ভব হলো।

বৃস্টির কারনে এবার আর কোন বান্ধবীর সাথেও দেখা করা হলো না। আর তাদের সাথে প্ল্যান করে ঘুরতে যাওয়াতো দূরের কথা। যদিও এবার খুব ইচ্ছে ছিল বান্ধবীদের নিয়ে ইউনিভার্সিটি যাবার।কিন্তু তা আর হলো না। ফোনেই কথা বলে এবারের চট্টগ্রামের যাত্রা শেষ করতে হলো।কিন্তু দেখা হয়নি বলে বেশ খারাপ লেগেছিল। আবার কবে দেখা হবে তার ঠিক নেই।দেখা হলে বেশ ভালো লাগতো। তবে এবার চট্টগ্রামের সপ্তাহ ব্যাপি বৃস্টিটা বেশ উপভোগ করেছি। অনেকদিন পর চট্টগ্রামের ছোটবেলার সেই বৃস্টির দেখা পেলাম। চট্টগ্রামের বৃস্টির রুপ যদিও একই রকম আছে কিন্তু চট্টগ্রামে তার পাহাড় ঘেরা সবুজের সৌন্দর্য হারিয়েছে প্ল্যানবিহীন ফ্লাইওভার এর কল্যানে। এখন চট্টগ্রামের সেই সৌন্দর্য বিলীন হতে চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে চট্টগ্রাম তার নিজেস্ব সৌন্দর্য হারাবে অচীরে। এখন চট্টগ্রামে গেলে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে তার সবুজতা হারানোর জন্য। তবুও চট্টগ্রামের জন্য একটা অন্য রকম টান অনুভব করি।সম্ভবত তা জন্মভূমির কারনেই।

l2.jpg

তবে সকল মন খারাপের মধ্যে এবারের ঢাকায় ফেরার ট্রেন যাত্রা ছিল বেশ স্পেশাল। তার কারন এবারের ট্রেন যাত্রার যাত্রী ছিল আমার নাতী সহ ভাগ্না ও ভাগ্না বৌ। আর নাতী হলো আমার বড় বোনের ছেলের ৩ বছরের ছেলে। তাই তার সাথে কথা বলেই আমাদের ট্রেন যাত্রা কাটলো। বেশ ভালো সময় কাটালাম এবারে ট্রেনে। তারা না হলে আমাকে একাই ঢাকায় ফিরতে হতো। ইচ্ছে আছে আশ্বিনে আবার যাওয়ার। যানি না যাওয়া সম্ভব হবে কিনা। আজ এ পর্যন্ত ।আবার দেখা হবে নতুন কোন ব্লগ নিয়ে। শুভ রাত্রি

পোস্ট বিবরণ

শ্রেনীলাইফস্টাইল
ক্যামেরাRedmi Note 5A
পোস্ট তৈরি@selina 75
তারিখ১৩ই আগস্ট, ২০২৫ ইং
লোকেশনঢাকা,বাংলাদেশ

আমার পরিচয়

আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

image.png

image.png

image.png

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.094
BTC 62734.17
ETH 1754.33
USDT 1.00
SBD 0.39