লাইফ সটাইল-বিদায় বেলার কিছু মুহূর্ত।
আসসালামু আলাইকুম
আমি @maria47 বাংলাদেশ থেকে। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সকলেই অনেক ভাল আছেন। আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের দোয়া আমিও অনেক ভালো আছি।আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি।আজকে আমি আপনাদের মাঝে বিদায় বেলার কিছু মুহূর্ত শেয়ার করতে যাচ্ছি।আশা করি সকলের কাছে ভালো লাগবে।
বিদায় বেলার কিছু মুহূর্ত
দীর্ঘ দুই মাস বাবার বাসায় কাটানোর পর ঢাকায় আসার সময় এসে পরে।অবশেষে সকল জিনিস পত্র গুছানো হলো।যত বেলা হচ্ছিল তত সময় যেনো যেন ঘনিয়ে আসছিল।সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে বাস ছিল।এর জন্য ৬ টার মধ্যে সকল কাজ কর্ম শেষ করে ৬.১০ মিনিটে বের হয়ে পরি।কারণ আমার বাবার বাসা থেকে বাস কাউন্টারে যেতে সর্বোচ্চ ৫ মিনিট লাগে।

Device-XANON-X20

Device-XANON-X20
যখন ৫ টা বাজে তখন বুকের ভিতরের চীন চিন ব্যথা যেনো আরো বেড়ে যাচ্ছিল। বুকের ভিতর টা শুধু হাহাকার করে উঠছিল।তবুও যে বুকে পাথর বেঁধে সব কষ্ট দূর করে যেতেই হবে।তাই বুকে উপর পাথর বেঁধে কষ্ট গুলো কালো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিলাম।এরপর বাসা থেকে নানা, নানি, দাদির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাস কাউন্টারের উদ্দেশ্যে বের হই।বাবা,মা ছোট বোন সকলেই আসে সাথে।
Device-XANON-X20
আমার বাবা মা সকলেই ভীষণ ভাবে ভেঙ্গে পরে।কিন্তু আমি নিজেকে শক্ত রেখেছিলাম যাতে তাদের সান্তনা দিতে পারি।হাসি মুখে তাদের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম কিন্তু নিজেও মনে মনে কেঁদেই যাচ্ছিলাম।কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।কারণ তাদের দেখলে কষ্ট যে বেড়ে যাচ্ছিল।নিজেকে শক্ত রাখতে পারছিলাম না।কিন্তু আমার মেয়ে কিছুই বুঝতেছিল না সে নানা, নানি ও খালা মনিকে ছেড়ে যাবে।সে ভাবতেছিল তারাও সাথে যাবে।
সে বেশ খুশি সবাই মিলে ঘুরতে যাবে এটা ভেবে।সে নানার কাছে থেকে লিপিস্টিক কিনে নিয়েছিল।সারাদিন তার ভিন্ন রকমের লিপিস্টিক চাই।এরপর একটার পর একটা গাড়ি আসতে থাকে।আর আমার অস্থিরতা বেড়েই যায়।যত সময় যাচ্ছিল তত কান্না আসতেছিল।এরপর যখন আমার বাস চলে আসে নিজেকে আর সামলাতে পারি নি। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরে সাথে সাথে পানি মুছে হাসি মুখে বিদায় নিয়ে বাসে উঠে পরি।কারণ আমার কান্না দেখলে তাদের কষ্ট বেড়ে যাবে এই জন্য হাসি মুখে বিদায় নিয়ে ছিলাম।কিন্তু আমার মেয়ে আর বাবা একদম কান্না করে একাকার। কিছুতেই সে নানাকে ছেড়ে গাড়ি তে উঠবে না।এরপর না চাইলেও সবাই কে বিদায় জানাই।
বিদায় মুহূর্ত গুলো যখন লিখছিলাম সেইদিনের কথা মনে পড়ে খুব খারাপ লাগতেছিল।মানুষ না চাইলেও সব কিছু রেখে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়।বিদায় কথা বলতেও বুক ফেটে যাচ্ছে।এই ছিল আমার আজকের পোস্ট।ধন্যবাদ সবাইকে।
আমি মারিয়া মুক্তি। আমার স্টিমিট আইডির নাম @maria47. আমি রান্না করতে ভালোবাসি। নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে আমার ভালো লাগে। আমি ঘুরতে যেতে অনেক পছন্দ করি।
@tipu curate
Holisss...
--
This is a manual curation from the @tipU Curation Project.
Upvoted 👌 (Mana: 5/8) Get profit votes with @tipU :)
আসলে আপু বিদায় অনেক কষ্টের।আর যত কষ্টের হোক না কেন সবাইকে বিদায় দিতেই হবে।আর মেয়েকে বিদায় দেবার বেলায় বাবার যেমন কষ্ট হয় তেমনি মেয়ের ও কষ্ট হয়। যাইহোক আপু এটাই জীবন আমাদের সব কিছু মেনে নিতেই হবে।ধন্যবাদ আপু।
হ্যাঁ বিদায় বেলায় এত কষ্ট লাগে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।সকল কে বিদায় জানাতে খুবই খারাপ লাগতেছিল।ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
যে কোন বিদায় বেশ কষ্টের। তবে জীবনের তাগিয়ে আমাদের কে অনেক আপন মানুষ রেখে অনেক দূরে যেতে হয়। যদিও পরিবারের সবাই কে ছেড়ে আপনার থাকতে বেশ কষ্ট হবে। দোয়া করি আপনার আগামী জীবন সুখের হউক।
ঠিক বলেছেন আপু জীবনের তাগিতে আমাদের আপন মানুষ গুলোকে রেখে অনেক দূরে যেতে হয়।ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
ছোট থেকে বাবার বাড়িতে থাকা শর্তেও বিয়ের পর বাবার বাড়ির প্রতি একটা আলাদা টান হয়ে যায় প্রতিটা মেয়েরই। আর বেশিদিন যদি থাকা হয় তাহলে ফিরে যাওয়ার সময় কষ্টটাও বেড়ে যায়। আপনাদের এই মুহূর্তটা পড়ে আমার নিজেরই খারাপ লাগছে। আপনার বাবার সাথে আপনার মেয়ের খুনসুটির মুহূর্তগুলো দেখে বেশ ভালো লাগলো আপু।
বিদায় বেলার অনুভূতি ভীষন কষ্টের আপু।আপনার মেয়েটি প্রথমে আনন্দ পেয়েছিল এই ভেবে সবাই মিলে একসাথে যাবে বলে।তবে এর পর যখন একা যেতে হলো তখনই সে বুঝতে পেরে গেলো।কষ্ট হলেও যেতে হয়।ধন্যবাদ আপু অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।