জীবনের গল্প || শৈশবের উষ্ণতা
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। দুই দিনের শীতল পরিবেশে দারুণ চঞ্চলতা ফিরে এসেছে আবার শরীরে। যদিও মাঝের দুই দিনের গরমের তীব্রতা নিদারুণ কষ্ট দিয়েছিলো সেটার অভিজ্ঞতার রেশটা এখনো রয়ে গেছে। সত্যি বলতে আমাদের আজকের এই অবস্থা একদিনে তৈরী হয়নি বরং ধীরে ধীরে প্রকৃতি আজকের এই চরম অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। সুতরাং এখন প্রকৃতি নিয়ে আফসোস করে কোন লাভ নেই বরং সেটাকে পূর্বের অবস্থায় কিভাবে ফিরিয়ে নেয়া যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করা উচিত।
হ্যা, শৈশবে আমরাও গরম দেখেছি এবং গরমের তীব্রতা সহ্য করেছি তবে এখনকার গরম সেই সময়ের মতো এতো বেশী যন্ত্রণাদায়ক ছিলো না। তখনও গরম ছিলো, লোডশেডিং হতো এবং আমরা গরমের তীব্রতায় ঘর হতে বাহিরে বের হয়ে আসতাম। তারপর একটা তাল পাখা নিয়ে বাহিরে অবস্থান করতাম। সেই এক তাল পাখার বাতাসে হৃদয় এবং শরীর দুটোই শীতল হয়ে যেতো। তখন অবশ্য প্রায় সকল বাড়িতেই তাল পাখা ছিলো। এছাড়াও ভিন্ন আঙিকে কিংবা ডিজাইনে নানা ধরনের পাখা ব্যবহার করা হতো। আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে আমাদের বাড়িতে দুটোই সুন্দর ডিজাইনের পাখা ছিলো।
সেই হাত পাখা দুটোর ডিজাইন যেমন দারুণ ছিলো ঠিক তেমনি সেগুলোর মাঝেও আমাদের দুই ভাইয়ের নামও ছিলো। আমাদের গ্রাম হতে সেগুলো উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম। সেটার অন্য রকম একটা আনন্দ ছিলো। যা বলতে ছিলাম তখন মানুষের গরমের উষ্ণতা হতে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র হাতিয়ার ছিলো এই তাল পাখা কিংবা ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের নানা ধরনের হাত পাখা। তখনও গরম ছিলো কিন্তু প্রকৃতি সেটাকে সহনীয় করে রাখতো, যাদের পাখা ছিলো না তারা গাছ তলায় গিয়ে বসে থাকতেন। আমি অনেকেই দেখেছি দুপুরের সময় একটা শীতল পাটি বিছিয়ে অনেকেই গাছ তলায় শুয়ে থাকতো।
তাদের কোন পাখা লাগতো না বরং গাছের শীতল পরিবেশে বেশ সুন্দর একটা ঘুম দিতে পারতো, দেখে মনে হতো দারুণ প্রশান্তি ঘুম দিয়েছে। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন সেকাল আর একালের মাঝে কতটা তফাৎ স্পষ্ট হয়ে আছে। তখন চারপাশের প্রকৃতি সবুজ ছিলো, কোন সমস্যা হলেই মানুষ বাহিরে চলে আসতো। রাতে লোডশেডিং হবে এই ভয়ে অনেকেই যেমন বাড়ির উঠানে ঘুমাতো ঠিক তেমনি যাদের উঠোন ছিলো না তারা ফাঁকা জায়গায় কয়েক বাড়ির মানুষ একত্র হয়ে রাত্রি যাপন করতো, কোন ভয় কিংবা চোরের আশংকা তখন ছিলো না। চারপাশের প্রকৃতির মতো মানুষের ব্যবহারও ভালো ছিলো।
আমরা শিক্ষিত হয়েছি, আমাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, চারপাশে আলোকিত লাইটিং ব্যবস্থা এসেছে, বাড়ি বাড়ি এখন আধুনিক ডিজাইনের বিল্ডিংয়ে ছেয়ে গেছে কিন্তু হৃদয়ের সেই প্রশান্তি উড়ে গেছে। ঘরের মাঝেও থেকেও আজ ভীত থাকি কখন জানি বাড়িতে চোর ঢুকে, এসির মাঝে থেকেও ভয়ে থাকি কখন জানি কি হয়ে যায়? আমরা সত্যি উন্নত হয়েছি নাকি আরো বেশী সংশয় ও দ্বিধায় আটকে গেছি? নাকি আরো বেশী অনিরাপদ হয়েছি?
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.