লাইফস্টাইল: আমার নিজস্ব ছোট একটা উদ্যোগ।
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে বৃহস্পতিবার ,১৩ ফ্রেব্রুয়ারি ২০২৫
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। কেমন আছেন আপনারা সবাই। আশা করছি আপনারা সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ আগের চেয়েও এখন অনেক ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকে আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। তবে প্রতি সপ্তাহে আমি প্রথমদিকে যেকোনো ধরনের আর্ট অথবা রেসিপি নিয়ে হাজির হয়। কিন্তু আজকে আমি আপনাদের মাঝে সুন্দর কিছু অনুভূতি নিয়ে হাজির হয়েছে। মাঝে মাঝে কথা না বলা অবুঝ প্রাণী গুলো লালন-পালন করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। এরা মানুষদের থেকেও অনেক ভালো। অনেক মানুষ আছে যারা মানুষকে ভালোবাসে এবং ভালোবাসার মধ্যে দিয়েই অনেক বড় আঘাত করে। কিন্তু এই যে কথা না বলা এই প্রাণীগুলো মানুষকে ভালবাসলে তার যে কতটা আপন হয়ে যায় সেটা বলে বোঝানোর মুশকিল। আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব ছোট থেকে হাঁস লালন-পালন করার কিছু মুহূর্ত এবং অনুভূতি। এই প্রাণীগুলো এত মায়ার যারা লালন-পালন করে তারাই বোঝে। যে হাঁস গুলোর ফটোগ্রাফি আমি আপনাদের মাঝে তুলে ধরেছি সেগুলো নিয়েই কিছু কথা আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা নিজের হাতে হাঁস পালন করব। তাই এই ব্যস্ততার মাঝেও কিনে ফেললাম কয়েকটা হাঁস।
আমি আপনাদের মাঝে কিছু হাঁসের ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছি। এই হাঁসগুলোর বয়স ৬ দিন। মানে ৬ দিন আগে আমি এক বিক্রেতার কাছ থেকে এই হাঁস গুলো কিনেছি। এখানে মোট আটটি হাঁস আছে। বিক্রি ছাড়া অনেকগুলো ঝুড়ি নিয়ে আসে এর মধ্যে নর হাঁস এবং নারী হাঁস থাকে। আমি চারটা নর হাঁস এবং চারটা নারী হাঁস কিনেছি। কিছুদিন আগে আপনাদের ভাইয়াকে বলেছিলাম আমি কিছু রাজহাঁসের বাচ্চা কিনব। কিন্তু রাজহাঁসের বাচ্চা কিনলে সেগুলোকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘাস অর্থাৎ সবুজ দুবলা ঘাস বা শাক-সবজি খেতে দিতে হবে। আমরা গ্রামে বসবাস করলেও মাঠের দিকে তেমন একটা যাওয়া হয়ে ওঠে না। আবার বাড়ির পরিবেশের পাশেও তেমন কোন সবুজ ঘাস নেই যেটা প্রতিদিন খাওয়ানো যাবে।। তাই ভাবলাম কিছু হাঁসের বাচ্চা কিনে নিই। এগুলোকে ভাত, রুটি ,ধান, গম ইত্যাদি খাবার দেওয়া যাবে। আবার অল্প জায়গাতেও বড় করে নেয়া যাবে। তবে আমাদের এলাকাতে কাক এবং কুকুরের জন্য এগুলো পালন করা একটু কষ্টকর। যদি একা পাই এদেরকে ছোট অবস্থায় তাহলে কাক একবারে দুইটা নিয়ে চলে যায়। আর বড় হয়ে যাবার পর কুকুরে খেয়ে ফেলার ভয় থাকে। তারপরেও অনেক ইচ্ছা ছিল হাঁস পালনের।
তাই আমি ৬ দিন আগে এগুলো কিনে নিয়েছি। এখানে নর হাঁসের জোড়ার দাম ১০০ এবং নারী হাঁসের জোড়া দাম ১২০ টাকা করে নিয়েছে। যদিও এর আগে আমার এ সম্পর্কে কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে। কেননা আমি সব সময় আমার শাশুড়ি এবং আমার মাকে দেখেছি এগুলো লালন পালন করে বড় করতে। আমিও তাদেরকে সাহায্য করেছি। যেদিন প্রথম তিনি সেদিন আমার শাশুড়ি বলল ওদেরকে কিছু চাল ভাঙ্গা পানির সাথে মিশিয়ে খেতে দাও। কিন্তু ওরা তেমন একটা পছন্দ করছিল না এই খাবারটা। তারপরের দিন থেকে গমের রুটি ছোট ছোট টুকরো করে পানির মধ্যে দিয়ে নরম করে ওদেরকে দিয়ে ওরা বেশ আনন্দের সাথে খায়।গোল গোল নরম এই হাঁসের বাচ্চাদের দেখলে আমার খুবই ভালো লাগে। আর আমার ছেলে দেখলে তো পিছন পিছন দৌড় দিবে হাঁসের বাচ্চার। যদি একবার পাই একদম জোরে চেপে ধরবে। এমনকি এর মধ্যে দুইদিন ধরা হয়ে গেছে। এমনভাবে হাতের মুঠির মধ্যে ধরে ওদেরকে হাতের মুঠির মধ্যে থেকে বের করাই মুশকিল হয়ে যায়।
অনেক কষ্ট করে দুইদিন হাতের মধ্যে থেকে বের করেছি তারপরেও হাঁসের বাচ্চার গায়ের পশম উঠে পড়েছিল। তাই আর বাবুর সামনে সেভাবে হাঁসের বাচ্চাদের কে খেলা করার সময় দিই না। নিজের হাতে এভাবে হাঁস পালন করে তার থেকে পাওয়া ডিম এবং মাংস খেতে ভীষণ ভালো লাগে। আর এভাবে হাঁস পালন করলে বাড়ির পর্যাপ্ত হাঁসের ডিম এবং মাংসের চাহিদা পূরণ করা যায়। আমার এই উদ্যোগ আপনাদের কেমন লেগেছে সেটা অবশ্যই জানাবেন। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে। আর আপনাদের কাছে এভাবে পশুপাখি পালন করতে কেমন লাগে সেটাও জানাবেন। সবার সুস্থতা কামনা করে আজকে এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আবারো আপনাদের মাঝে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হওয়ার চেষ্টা করব। সবাই ভাল ও সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আমার ছোটবেলাতেও বেশ কিছু হাঁস ছিল আমার দাদার। আপনার লেখা পড়তে পড়তে সেই দিনগুলোর কথাই মনে পড়ে যাচ্ছিল। বাড়িতে হাঁস না মুরগি পুষলে তার ডিম পাওয়া বা সেগুলো খাওয়া যত সহজ হয় নিজের পোষা প্রাণীকে মেরে সেই প্রাণীর মাংস খেতে কিন্তু ততটাই কষ্টকর লাগে। আমরা কখনো পারিনি সবসময়ই বা অন্য কাউকে দিয়ে দিয়েছি। আমার দাদার হাঁস গুলো পাশের বাড়ির লোককে দিয়েছিল মা তাদের বাড়িতে বেশ কিছু দিন ডিম দেওয়ার পর তারা আবার বিক্রি করে দেয়।
এটা আপনি ঠিক বলেছেন আপু পোশাক রানী গুলোকে মেরে সেই মাংস খাওয়াটা একটু কষ্টকর হলেও এগুলো তো ওভাবেই খাওয়া হয় তাই তেমন কিছু মনে হয় না। ধন্যবাদ আপু।
মানুষ থেকে এরকম নির্বাক পশুপাখি গুলো লালন পালন করা খুবই ভালো। কারণ এরা অন্তত মানুষের ক্ষতি করে না।ছোটবেলা থেকে এগুলোকে লালন পালন করছেন আর এগুলোর প্রতি অনেক মায়া জন্মে যাবে। যদিও আমারও ইচ্ছে আছে কিছু মুরগি পালন করার। তবে সেটা ছাদের উপরে। কারণ আশেপাশে জায়গা খুবই সংকুচিত। এর জন্য বাইরে পালন করা সম্ভব হবে না। আপনার এই ছোট উদ্যোগের প্রশংসা করি আপু।
আমরাও তো আপু বাড়িতে মুরগির আলাদা ঘর করে একটি জায়গায় রেখে দিই। কোথাও বেরোতে দেয় না। তবে আমাদের বাড়ির পাশেই একটা পুকুর আছে তাই এই হাঁসের বাচ্চা গুলো কিনেছি । ধন্যবাদ আপু।
পুকুর বা জমি জমা থাকলে সুবিধা। হাঁস গুলো পালন করতে অনেক বেশি ভালো হবে।
আপু এগুলো পালন করতে ভালো লাগে তবে এগুলো একটু বড় হলেই মারা যায়।কয়েক দিন আগে আমি দশটি কিনেছিলাম এখন মাত্র তিনটু আছে আর সবগুলো মারা গিয়েছে। দোয়াকরি আপনার গুলো বেঁচে থাকুক।
ঠিক বলেছেন আপু আমাদের এদিকেও এমন সমস্যা হয়। তাইতো সাহস করে কিনতেই পারি না। তবে এবার আটটা কিনেছি দেখা যাক কি হয়।
গ্রাম অঞ্চলের মেয়েরা এই ধরনের কাজ করে নিজেদেরকে আর্থিকভাবে সচ্ছল রাখে। এজন্য এই ধরনের জিনিস পালন করা খুবই ভালো বলে আমি মনে করি। আশা করি এইগুলো আস্তে আস্তে অনেক বড় হয়ে যাবে আর তখন এগুলো থেকে আপনি আর্থিকভাবে নিজেকে সচ্ছল করে তুলতে পারবেন।
ইনশাআল্লাহ আপনার দোয়া কবুল হোক। আমরা এমন ইচ্ছা আছে এই ছোট ছোট হাঁসগুলো দিয়ে একদিন বড় কিছু হবে।