ডেঙ্গু জ্বরের প্রভাব।
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটি বন্ধুরা
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজ বুধবার ,১৬ জুলাই ২০২৫
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। কেমন আছেন আপনারা সবাই। আশা করছি আপনারা সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন। আমি মোটামুটি ভালো আছি। তবে আমার ছেলে এখনো অনেকটা অসুস্থ আজকে ওকে নিয়ে সারাটা দিন ব্যস্ততার মধ্যে কাটিয়েছি। আপনারা সবাই জানেন এই মাসে আমার এইচএসসি পরীক্ষা চলছে আর এর মধ্যে আমি এবং আমার ছেলে দুজনে অনেক অসুস্থ। আমি এদিকে ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ খাইয়ে মোটামুটি সুস্থ হয়ে গিয়েছি কিন্তু আমার ছেলেকে নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় রয়েছে। গত সাত দিন ধরে টানা একভাবে জ্বর। এলাপ্যাথি ওষুধ খাওয়ানো অনেক কঠিন হয়ে যায় বলে আবু রায়হানকে ছোটবেলা থেকে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ায়। তবে বেশিরভাগ সময় ওর হোমিওপ্যাথি খুব কাজ করে তাই আর এলাপ্যাথির মধ্যে যায় না। কিন্তু এবার যেন কোনোভাবেই এলাপ্যাথি না খাইয়া মনে হচ্ছে জ্বর ছাড়বে না। গতকালকে বিকেলেও গিয়েছিলাম হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের কাছে কিন্তু তেমন কোন কাজ হয়নি ।তাই আজকে সকালে আবু রায়হানের আব্বুর সাথে ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলাম। ছেলের রাতে ভীষণ জ্বর এসেছিল আর আজকে রাতে আবু রায়হান ওর আব্বুর সাথে ছিল তাই বিষয়টা বুঝতে পেরেছে এরপর আর দেরি না করে আজকে সকালে আমরা বেরিয়ে পড়লাম ঔষধের জন্য। সকালে যেহেতু ওনার স্কুল প্রাইভেট তাই একটু দেরী হয়ে গিয়েছিল প্রথমে প্রাইভেট পড়িয়েছে। তারপর নাম প্রেজেন্ট করে একটা ক্লাস করে আমরা বেরিয়ে পড়ি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। এখন যেই ডাক্তারের কাছে যাওয়া হোক না কেন লম্বা সিরিয়াল পরে। আমরা প্রথমে বলেছিলাম শিশু বিশেষজ্ঞ এমবিবিএস ডাক্তার দেখাবো কিন্তু এমবিবিএস ডাক্তার পাইনি কিন্তু শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছিলেন। আমরা একজন শিশু বিশেষজ্ঞ পুরুষ ডাক্তার দেখায় কিন্তু উনি প্রতি সপ্তাহে একদিন অর্থাৎ শনিবারে বসে। কিন্তু শনিবার দেখাতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে এজন্য আমরা ওকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি লম্বা লাইন পড়েছে। আর আমাদের মনমতো শিশু বিশেষজ্ঞ কোন এমবিবিএস ডাক্তার ছিল না। কিছু করালে যেহেতু ছেলের অনেকবার তাই একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখালাম উনি অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তার।
ডাক্তারকে সব বিস্তারিত জানানোর পর উনি তিনটা টেস্ট দিলেন। আমরা টেস্ট গুলো করার জন্য একটা ভালো ক্লিনিকে চলে গেলাম। তারপর ওখানে শুরু হয়ে গেল টেস্ট। বাচ্চার ব্লাড টেস্ট প্রসাব টেস্ট এবং আরেকটা নিউরন নাকি যেন টেস্ট দিয়েছিল। সব থেকে অবাক করা বিষয় হচ্ছে বাবুর রক্ত টেস্ট করার জন্য ওরা একদম সম্পূর্ণ এক ইনজেকশন রক্ত নিয়ে নিয়েছে। বাবু তো সেই কান্না এই অবস্থা দেখে আমিও কান্না করে ফেললে ছিলাম। বলতে গেলে অনেক খারাপ মুহূর্ত পার করছিলাম। এরপর টানা দেড় ঘন্টা পর রিপোর্ট হাতে পাই। ডাক্তারকে আবারো রিপোর্ট দেখানোর জন্য হাসপাতালে চলে গেলাম। ডাক্তার রিপোর্ট দেখে আমি তো ভয়ে শেষ ।ভেবেছিলাম কি হয়েছে আল্লাহ ভালো জানে। এরপর ডাক্তার রিপোর্ট গুলো দেখল তারপরে বলল তেমন কোন সমস্যা নেই তবে বাচ্চার জ্বরের প্রভাব অনেক বেড়ে গিয়েছে ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছে। তাছাড়া আবু রায়হানের অনেক ব্লাড কম। এজন্য অনেকগুলো সিরাপ এবং একটি ট্যাবলেটও দিয়েছে। এক সপ্তাহ এগুলো খাওয়ানোর পর আবার ডাক্তার দেখাতে হবে। রিপোর্টটা ওনাদের কাছে ভয়ের বিষয় না হলে আমাদের কাছে অনেকটা ভয় এবং আতঙ্কের বিষয়। না জানি আর একটু দেরি হয়ে গেলে কি হয়ে যেত। আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। সবার সুস্থতা কামনা করে আজকে আমি এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আবার আপনাদের মাঝে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবার চেষ্টা করব। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপু ডাক্তারের কাজ এটাই। আসলে তারা আগে সব কিছু টেস্ট দেয়।আর এরা সবক্ষেত্রেই সিরিজ ভরে রক্ত নেই। এদের সাথে পারা মুশকিল। যাইহোক রিপোর্ট ভালো হয়েছে দেখে অনেক ভালো লাগলো। আশাকরি তারাতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে।