হঠাৎ পিকনিক
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে শনিবার,২১ ডিসেম্বর ২০২৪
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনাদের সবাইকে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করছি আপনারা সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকেও আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছে। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব হঠাৎ পিকনিক এর অনুষ্ঠান নিয়ে। পিকনিক করতে আমাদের সবারই ভীষণ ভালো লাগে। আমার তো ভীষণ ভালো লাগে পিকনিক করতে। বাবার বাসায় আসলেই চেষ্টা করা হয় সবাই মিলে একসাথে পিকনিক করার জন্য। এই ডিসেম্বরে ছুটিতে সবাই তাদের নিজেদের বাড়িতে এসেছে ছুটি কাটানোর জন্য। তাই এই সময় কম বেশি সবাই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান পিকনিক করে থাকে। কেমন করে আমাদের আজকের এই আয়োজন করা হয়েছে খুব ছোট করে। সকালবেলা হঠাৎ করে আমার মেজ আব্বুর মেয়ে এসে বলল চলো আমরা পিকনিক করি। যদিও আগে থেকে কোন ভাবা ছিল না তাই খুব ছোট করে আজকের পিকনিকের আয়োজন। তবে সব মিলিয়ে আজকে সারাটা দিন ব্যস্ততার মধ্যে খুবই সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছি। সেটা এখন আপনাদের সাথে শেয়ার করব।
বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রথমে আমরা পিকনিক করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সেদিন করা হয়নি। তবে সেইদিন পিকনিক করার অনেক আগ্রহ ছিল আর সেই আগ্রহটা নিয়ে আজকে পিকনিক করা । তবে আজকে পিকনিকের আমাদের কোন প্রস্তুতি ছিল না এবং ভেবেছিলাম না যে আজকে পিকনিক করব। তবে সকালবেলা হঠাৎ করে সবার মত যেন কিভাবে এক হয়ে গেল আর পিকনিক করার জন্য অনেক আগ্রহ জেগে উঠলো সবার মনে। যেমন ভাবনা তেমন কাজ তবে আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকার কারণে আমরা আজকে মুরগির মাংস দিয়েই পিকনিক করলাম। পিকনিকের আইটেম ছিল মুরগির মাংস, ডিম দিয়ে ডাল ভুনা ও ভাত। পিকনিক করার জন্য প্রথমে আমরা টাকা তুলে নিলাম। আমরা সবাই দুইশত টাকা করে দিয়েছিলাম মোট সাতজন। এখানে ছিল আমার বড় আব্বুর মেয়ে ও আমার বড় আব্বুর ছেলে। মেজ আব্বুর দুই মেয়ে। আমরা দুই বোন আমাদের সাথে ছিল আমার ছোট আন্টি।
টাকা তোলা সম্পূর্ণ হয়ে গেলে আমরা বাজার থেকে সকল দ্রব্যমূল্য কিনে নিয়ে আসলাম। এরপর বাজার থেকে এসে রান্নার উপকরণ গুলো ভালোভাবে ধুয়ে সবকিছু রান্না করার মত করে তৈরি করে নিলাম। প্রথমে একটি হাঁড়িতে ভাত রান্না করা হলো। তারপর ডিম সিদ্ধ করে নিলাম। এরপর ডালগুলো সিদ্ধ করে নিলাম। তারপর ডিম ও ডাল দিয়ে ভুনা করে নিলাম। অবশ্য এই রেসিপির প্রতিটি ধাপ আপনাদের মাঝে শেয়ার করব রেসিপি আকারে। তারপর মুরগির মাংসগুলো ভালোভাবে রান্না করে নিলাম। ভাতটা আমি রান্না করেছিলাম। ডিম দিয়ে ডালের ভুনা টা আমার মা রান্না করেছিল। এবং সর্বশেষে মাংস আমার বড় আব্বুর মেয়ে রান্না করেছিল। রান্না গুলো সবই বেশ মজার হয়েছিল।
রান্না করার মুহূর্তে আমরা সবাই গোসল ছেড়ে যে যার মত পোশাক পড়ে নিলাম। আমার মেজ আব্বুর মেয়ে শাড়ি পড়েছিল এবং আমার বড় বোনের মেয়েও শাড়ি পড়েছিল। বলতে পারেন দিনটা বেশ আনন্দের মধ্যে দিয়ে গেছে আমাদের। হঠাৎ করে পিকনিক হলেও বেশ সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত হয়েছে।
এরপর আমরা সবাই মিলে কিছু ফটোগ্রাফি ধারণ করলাম। তারপর পিকনিকের খাবারগুলো সুন্দরভাবে ভাগ করে খেতে শুরু করলাম। সবাই মিলে একসাথে এভাবে পিকনিকের খাবার খাওয়ার মজাটাই আলাদা। আমার ছেলে তো ভীষণ খুশি হয়েছিল এরকম ভাবে এতসব কিছু দেখে। সব মিলিয়ে হঠাৎ পিকনিকে দারুন অনুভূতি তৈরি হয়েছে। আপনাদের কাছে আমাদের আজকের এই হঠাৎ পিকনিক এর আয়োজনটা কেমন লেগেছে সেটা অবশ্যই জানাবেন। আশা করছি ভালো লাগবে। আজকে এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আবার আপনাদের মাঝে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবার চেষ্টা করব।সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সত্যি আপু বাড়ির সবাই মিলে পিকনিক খাওয়ার মজাই আলাদা। বিশেষ করে শীতকালে পিকনিক বেশ ভালো লাগে। আপনারা সবাই মিলে বেশ সুন্দর একটা আয়োজন করলেন। সুন্দর একটি মুহূর্ত আপনি খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করলেন। আপনার আজকের ব্লগটি পড়ে অনেক ভালো লেগেছে।
সত্যি আপু আপনি একদম ঠিক বলেছেন বাড়ির সবাই মিলে পিকনিক করলে ভীষণ মজা হয়।
একটা সময় ছিল আমরাও বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে পিকনিক করতাম। কিন্তু এখন যেন আর তা হয়ে ওঠে না। বেশ মনে পড়ে গেল অতীতের সেই বিজয় দিবস পালনের স্মৃতিগুলো। যেখানে আমরা বেশ অনেকজন মিলে একসাথে পিকনিকের আয়োজন করতাম।
আমরা বিজয় দিবস উপলক্ষে পিকনিক করতে চেয়েছিলাম কিন্তু সেটা হয়নি পরবর্তীতে করেছি এমনিতেই।
ডিসেম্বর মাসের ছুটিতেই এরকম পিকনিক এর প্রচলন বেশি দেখা যায়।এসময় সবার ছুটি থাকায় পিকনিকে বেশ মজাও হয়।আপনি দারুণ সময় উপভোগ করেছেন দেখেই বুঝতে পেরেছি। খাবার গুলোও সব মজার খাবার।
ডিসেম্বরে ছুটিতে সবাই প্রায় গ্রামের বাড়িতে আছে তাই পিকনিকের আয়োজন বেশি হয়।
আপু আপনারা কত মজা করে পিকনিক করেছেন। ডিসেম্বর মাসে বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে এভাবে পিকনিক করতে পারলে কতই না মজা হতো।সবাই এখন বাড়ি আর আমার এখনো এক্সাম শেষ হয়নি। তিন চার দিন ধরে অনেক বেশি খারাপ লাগছে এখন বাড়ি থাকলে হয়তো আপনাদের মতো মজা করতে পারতাম। সবাই মিলে পিকনিকে দারুন সময় উপভোগ করেছেন। আপনার পোস্ট পড়ে খুব ভালো লাগলো আপু।
ঠিক বলেছেন আপু সবাই মিলে একসাথে থাকলে সত্যি ভীষণ মজা হয়। আশা করছি আপনার পরীক্ষা দ্রুত শেষ হবে আর ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারবেন।
শীতকালে পিকনিক করার মজাই আলাদা। আপু আপনারা বাড়ির সবাই মিলে পিকনিক করেছেন দেখছি। বাড়ির সবাই মিলে পিকনিক করার মজাই অন্যরকম।আপনি বেশ দারুন উপভোগ করেছেন দেখেই বুঝতে পারছি। পিকনিক এর রান্না করা খাবার অনেক লোভনীয় হয়েছে। আসলে পিকনিক এর জন্য রান্না করা যেকোনো খাবার ই অনেক মজা হয়।এত সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
ঠিক বলেছেন আপু পিকনিকের রান্নার খাবার গুলো সত্যিই অনেক মজার হয়।
বাহ দারুন একটি ব্লক শেয়ার করেছেন। এভাবে হুটহাট পিকনিক করলে অনেক ভালো লাগে। শীতের সময় আসলে এই পিকনিক গুলো জমে উঠে। খাওয়া-দাওয়া ভালোই করেছেন। এর থেকে মূল বিষয় হলো আনন্দ করা। ধন্যবাদ।
হঠাৎ করে পিকনিক খাওয়াতে মনে হয়েছিল বেশি মজা হবে না তবে অনেক মজা হয়েছিল। ধন্যবাদ ভাইয়া।
শীতকালে পিকনিক করার মজাই আলাদা। কিছুদিন আগে আমিও পিকনিক করেছিলাম। আর গ্রামের পিকনিকের মজাই আলাদা। সবাই মিলে একসাথে রান্নাবান্না করে বাটি বাটি ভাগ করে খাওয়া-দাওয়ার মজাই অন্যরকম। আপনার পিকনিকের মুহূর্ত দেখে আবারও পিকনিক করতে ইচ্ছে করছে। ধন্যবাদ আপু পিকনিকের সুন্দর মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন আপু ধন্যবাদ।
বেশ মজা করে পিকনিক করলেন আসলে ডিসেম্বর মাস এলেই পিকনিকের ধুম পড়ে যায়।পিকনিকের আনন্দ আমার অনেক ভালো লাগে। আমিও বাড়িতে গেলে সবাই মিলে পিকনিক করার চেষ্টা করি।খাবারের আয়োজনটা বেশ ভাল ছিল এবং খাবার গুলো দেখেও বোঝা যাচ্ছে খুব সুস্বাদু হয়েছিল। ধন্যবাদ আপু পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।