ভক্তিযোগ কি .... ? ? ?

in #life8 years ago

ভক্তিযোগ কি....????ভক্তিযোগ অর্থ হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে সংযোগ সাধন করা। যোগ অর্থ ভগবানের সংগে যুক্ত হওয়া। ভগবদ্গীতায় চারটি যোগের কথা বলা হয়েছে। ১.কর্মযোগ ২. জ্ঞানযোগ ৩. ধ্যানযোগ ৪. ভক্তিযোগ। কর্মযোগ,জ্ঞানযোগ এবং ধ্যানযোগের মাধ্যমে ভগবানকে আংশিক ভাবে জানা যায়।কিন্ত ভগবদ্গীতায় ভগবান বলেছেন- “ভক্ত্যা মামভিজানাতি” অথাৎ ভক্তির দ্বারাই ভগবানকে পূর্ণরূপে জানা যায়। তাই ভক্তিযোগই হচ্ছে ভগবানকে লাভ করারসর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা।শ্রীমদ্ভাগবতে ভগবদ্ ভক্তির নয়টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন -শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, বন্দন,অর্চন, পাদসেবন, দাস্য,সখ্য ও আত্মনিবেদন।নীচে ভক্তির নয়টি পন্থা অনুশীলন করে ভগবানকে লাভ করেছেন তাঁদের দৃষ্টান্ত দেওয়া হলঃ-১. শ্রবণঃ- মহারাজ পরীক্ষিত কেবল শ্রবণের মাধ্যমে ভগবদ্ধাম লাভ করেন। তিনি শ্রীলশুকদেবের নিকট থেকে কেবলমাত্র ৭ (সাত) দিন শ্রীকৃষ্ণ মহিমা শ্রবণ করেছিলেন।২. কীর্তন - শ্রীল শুকদেব গোস্বামী কীর্তনের মাধ্যমে ভগবানকে লাভ করেন। তাঁর পিতা মহান ঋষি ব্যাসদেবের নিকট থেকেলব্দ অপ্রাকৃত সংবাদ- ভগবৎ গুন অবিকৃতভাবে কীর্তনের মাধ্যমে।৩. স্মরণঃ- মহারাজ প্রহ্লাদ ভগবানের শুদ্ধ ভক্ত দেবর্ষি নারদ মুনির উপদেশ অনুসারে সর্বদা ভগবানকে স্মরণের মাধ্যমে পরম গতি প্রাপ্ত হন।৪. বন্দন (স্তব-গান) - কেবল স্তবের দ্বারা ভগবানের বন্দনা করার মাধ্যমে অক্রুর পরম পদ প্রাপ্ত হন।৫. অর্চন (পূজা)- মহারাজ পৃথু কেবল ভগবানের পূজা করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সিদ্ধি প্রাপ্ত হন।৬. পাদসেবন (সেবা)- সৌভাগ্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, লক্ষীদেবী কেবল একস্থানে উপবেশন করে শ্রীনারায়ণের পাদসেবা করে সাফল্য লাভ করেন।৭. দাস্য (আজ্ঞা পালন)- শ্রীরামচন্দ্রের সেবক মহাভক্তহনুমানকেবল ভগবানের আজ্ঞা পালনের মাধ্যমে পরম গতি লাভ করেন।৮. সখ্য ( ভগবানের সঙ্গে সখ্যতা স্থাপন)- মহাবীর অর্জুন ভগবানের সঙ্গেসখ্যতা করার মাধ্যমে পূর্ণ সিদ্ধি অর্জন করেন। অত্যন্ত প্রীত হয়ে ভগবানঅর্জুন ও অর্জুনের ভবিষ্যৎ অনুগামী মানুষদের জন্য ভগবদ্গীতার অমৃতময় জ্ঞান উপদেশ করেন।৯. আত্মনিবেদন- মহারাজ বলি তাঁরযথা সর্বস্ব এমনকি নিজ দেহটিকেও ভগবানকে নিবেদনের মাধ্যমে পূর্ণ সাফল্য প্রাপ্ত হন।অম্বরীষ মহারাজ উপরোক্ত নয়টি ভক্তিরপন্থাই অনুশীলন করতেন এবং এভাবেই তিনিও পরমপদ প্রাপ্ত হন।সকলের হৃদয়ে ভগবানের প্রতি ভক্তি গুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু জড় জাগতিক সঙ্গের প্রভাবে তা জড় কলুষের দ্বারা আবৃত হয়ে রয়েছে। এই জড় কলুষ থেকে আমাদের হৃদয়কে নির্মল করতে হবে। তাহলে সুপ্ত কৃষ্ণ ভক্তি জাগ্রত হবে। সেটিই হচ্ছেভক্তিযোগের পূর্ণ পন্থা। ভক্তিযোগ অনুশীলন করতে হলে সদ্গুরুর তত্ত¡াবধানে কতগুলো বিধিনিষেধ পালন করতে হবে। যেমন- সূর্য উদয়ের পূর্বে খুব সকালেঘুম থেকে উঠা,শ্মান করে আরতি করা, হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ ও কীর্তন করা।ফুল তুলে ভগবানের শ্রীচরণে নিবেদন করা, ভোগ রান্না করে তা ভগবানকেনিবেদন করা, ভক্ত সঙ্গ করা,নিরন্তর শুদ্ধ ভক্তের কাছ থেকে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবন করা, এই ভক্তিযোগ অনুশীলন করলে আমাদের হৃদয়ের কলুষতা দূরীভূত হয়। আমরা কৃষ্ণ ভক্তির স্তরে উন্নীত হতে পারি। তাই সদ্গুরুরতত্ত্বাবধানে বিধিবদ্ধ ভাবে ভক্তিযোগ অবলম্বন করলে অবশ্যই কৃষ্ণ ভক্তি লাভ করা যায়।তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় (২/৪০) বলেছেন-“ নেহাভিক্রমনাশোহস্তি প্রত্যবায়ো ন বিদ্যতে।স্বল্পমপ্যস্য ধর্মস্য ত্রায়তে মহতো ভয়াৎ \”অথাৎ, ভক্তিযোগের অনুশীলন কখনওব্যর্থহয় না এবং তার কোনও ক্ষয় নেই । তার স্বল্প অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠাতাকে সংসাররূপ মহাভয় থেকে পরিত্রাণ করে।

11174818_1666208496923915_8055419111671448992_n.jpg

Sort:  

amke ses koira dia geli bachaia na

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.088
BTC 61466.61
ETH 1662.65
USDT 1.00
SBD 0.38