কষ্ট পোষা মানুষ (দ্বিতীয় পর্ব)
কষ্ট পোষা মানুষ
এইযে আমি এখন রোজ উঠি, কাজকর্ম করি, বই লিখি, গল্প লিখি, এতসব রচনাপর্ব, এত এত আলোচনা আর কথাবার্তা....এই সবই ধুলোর মলাট আমার কাছে। অর্থহীন একদম। নিজেকে মাঝে মাঝে সমৃদ্ধ কাঙাল মনে হয় নিজের কাছে। ব্যাপারটা খুব হাস্যকর কিন্তু সত্যি বটে। ওকে যে এতটা ভালবাসতাম কোনোদিন বলার সুযোগ হয়নি। আমার এখনো মনে পড়ে যেদিন ওকে বলার জন্য নিজেকে তৈরি করেছিলাম সেদিনই জানতে পেরেছিলাম ও একজনকে খুব ভালোবাসে। নিজের প্রিয় মানুষ বানিয়ে নিয়েছে। ভেতরটা সেদিন খালি হয়ে গিয়েছিল। এরপর আর সেই খালি জায়গাটা পূরণ করার সাধ্য হয়নি আমার।
কোনোদিন হবে না আমি জানি। তাই কষ্ট পোষা মানুষ হওয়ার পাশাপাশি আমি একটা অপূর্ণ মানুষও বটে। সেই কলেজ থেকে একসাথে ছিলাম আমরা, খুব ভালো বন্ধু ছিলাম আমরা। আর আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো ছেলে ছিল ও, শুধু আমার কাছে না, আশেপাশে যত মানুষ ছিল সবার কাছে ও ছিল সবচেয়ে ভালো একটা মানুষ। রাস্তার ছোটো ছোটো বাচ্চাগুলো কোনোদিন না খেয়ে থাকতো না ...ওর জন্য। সুযোগ পেলেই পকেটে কয়টা পয়সা নিয়ে ওদের জন্য খাবারের জোগাড় করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়তো, রিকশাওয়ালা মামাগুলো পর্যন্ত ওর তারিফ করতো খুব কারণ চাওয়া ছাড়াই ভাড়াটা বাড়িয়ে দিত ও।
সবার মুখে এক কথা ওকে নিয়ে যে..."এত ভালো কেন তুই?" এত ভালো একটা মানুষ ছিল বলেই হয়তো ও শান্তিতে মরতে পারেনি। কষ্ট পেতে পেতে মরতে হয়েছিল। এত ভালো মানুষ যার খুশির জন্য নিজের ভালোবাসার কথাটা চাপা দিয়েছিলাম তার এইভাবে চলে যাওয়াটা আমরা কেউই নিতে পারিনি। মনে মনে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছিলাম ওকে বলার জন্য, ওর হাতে হাত রেখে সব মন খারাপ আর কান্না একদিন ফানুসের মত উড়িয়ে দেবো বলে ভেবেছিলাম।চোখ পানে একরাশ মুগ্ধতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে এক জীবন পার করে দেয়ার মতন কারও উপস্থিতি জীবনে দরকার ছিল বলে ওর হাতটা ধরতে চেয়েছিলাম। সেটা আর সম্ভব হয়নি।
বিন্তি নামের খুব মিষ্টি একটা মেয়ে ওর বন্ধু ছিল। ওকেই নিজের প্রিয় মানুষ বানিয়ে নিয়েছিল কলরব। আমার আর কলরবকে ভালোবাসি বলা হয়নি। বিন্তি কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। সেটা তখন কোনো সমস্যা না হলেও ওই কারণেই কলরবকে হারাতে হয়েছিল আমাদের। ভার্সিটির প্রথম বর্ষে একটা ব্যার্থ মানুষ হিসেবে নিজের ভালোবাসার কথা চাপা দিয়ে সবকিছু থেকে যখন নিজেকে আমি গুটিয়ে নিচ্ছিলাম তখন কলরব আর বিন্তির প্রেমটা প্রজাপতির মতো উড়ছিল। আমি কিভাবে মেনে নিয়েছিলাম সেটা আমার কাছেই অজানা।হয়তো কলরবকে কথা দিয়েছিলাম বলেই ওর খুশিতে হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছেটা আর হয়নি আমার।
(চলবে..........)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
"কষ্ট পোষা মানুষ" কথাগুলো দারুন লিখেছেন আপু। আসলে আমাদের সবার ভেতরেই হয়তো আমরা কষ্ট পুষে রাখি। প্রিয় মানুষটি অন্য একজনের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সেটা দেখতে হয়তো খুবই কষ্ট হচ্ছিল। তবুও সে চেয়েছিল যাতে কলরব তার ভালোবাসা নিয়ে ভালো থাকে। হয়তো দূর থেকেই ভালোবাসা যায়। হয়তো প্রিয় মানুষটির ভালো থাকার মাঝেও নিজের ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া যায়। আপু আপনার লিখা গল্পটি দারুন হয়েছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আপু আমাদের সবার মাঝেই কষ্ট আছে। আসলে আপু যে কারো প্রিয় মানুষ যদি অন্য কারো হাত ধরে ঘুরে বেড়ায় তাহলে মেনে নেওয়া সত্যি অনেক কষ্টের। কলরব তার ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে তাই সে চেয়েছিল।যাইহোক আপু ব্যার্থ মানুষ হিসেবে নিজের ভালোবাসার কথা চাপা দিয়ে সবকিছু গুটিয়ে নিয়েছিলেন।কলরব আর বিন্তির ভালোবাসা মাঝে ও ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া যায়, যদি ভালোবাসার মানুষ ভালো থাকে।ধন্যবাদ আপু সুন্দর লিখেছেন।
ভালো মানুষ গুলোকে সবাই ভালোবাসে ৷ কলরব ও হয়তো এমনি একজন ছিলো যে , সবাইকে ভালো রাখার চেষ্টা করতো সব সময় ৷ তাই তাকেও সবাই ভালোবাসতো প্রচুর ৷ তবে বিন্তি নামটা হটাৎ করে চলে আসলো গল্পে , আর এই বিন্তির জন্যই কলরব সবাইকে রেখে চলে গেছে জেনে খারাপ লাগলো ৷যাই হোক পরের পর্বের অপেক্ষায়...