আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আমার শহর কলকাতার এক্ টুকরো ইতিহাস!
আগামীকাল আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হবে অন্যান্য জায়গার মত আমার শহরেও। এটা যুব সমাজের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
আমি নিজে যোগাসন এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম, সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতেই পারি এটি সুস্থ্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যেখানে একাধিক ড্রোনের মাধ্যমে কলকাতার খানিক ঐতিহ্য এবং ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
টেলিভিশনের পর্দায় দেখানো সেই আলোকসজ্জার একটি ভিডিও লেখায় উল্লেখ করলাম, জানা নেই কতজন ভিডিওটি দেখতে পারবেন!
তবে, ইতিহাসের নাম উল্লেখ করলেই নিজের ভিতরের একটি কৌতূহলী আমার আমি জেগে ওঠে!
তাই, সেই আলোকসজ্জায় আলোকিত জায়গাটির ছবি এবং তার পাশাপশি দক্ষিণেশ্বর মন্দির যেটি একাধিক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও দাড়িয়ে, আর শুধু দাড়িয়েই আছে বললে সম্পূর্ণ জায়গাটিকে ব্যাখ্যা করা হয় না!
কারণ, তার সাথে জড়িয়ে আছে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, মা সারদা দেবী সহ স্বামী বিবেকানন্দের মত ব্যক্তিত্ব!
এবার, এক্ এক্ করে ছবিতে উল্লেখিত জায়গা সম্পর্কে খানিক বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরছি, তাদের জন্য যারা এগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহল নন।
প্রথম ছবিটি দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের। যেটি, কলকাতাবাসী মোটামুটি সকলেই জানেন রানি রাসমণি কর্তৃক নির্মিত!
এখন যদি এইটুকু দিয়ে একটি মন্দিরের ইতিহাস সম্পূর্ণ কেউ করে দিতে চান, তাহলে আমি সেই দল বহির্ভূত!
এমনটা কেনো বলছি? এই আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েও যেখানে সমাজ তথা নারী সম্প্রদায়, নারী স্বাধীনতা নিয়ে ভাবিত!
সেখানে ১৭৯৩ সালে উত্তর চব্বিশ পরগনার হালিশহরের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এক্ নারীর স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার মানসিকতাকে শুধু তার নামের সাথে একটি মন্দিরকে জড়িয়ে কি শেষ হয়ে যায়?
আমি এটি মানতে নারাজ! পরাধীন দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে, মাত্র এগারো বছর বয়সে বিবাহিত জীবন শুরু করবার পর চার কন্যার জন্ম দেয়!
মাত্র ৪৩ বছর বয়সে স্বামী রাজচন্দ্র দাসের অকাল প্রয়াণে পরে, সন্তানসহ, জানবাজারে তার স্বামীর জমিদারি দক্ষতার সাথে সামলানো কি মুখের কথা?
ভেবে দেখুন একবার, এই যুগে দাঁড়িয়েও বোধকরি এত সাহসিকতা দেখাবার মত নারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! এখনো অনেক জায়গায় নারী জন্ম যেখানে মন খারাপের কারণ, সেখানে এইরকম এক্ নারী তাও যার জন্ম হয়েছিল এমন একটি সময় যখন সমাজের অনেক রীতিনীতি ছিল নারী বিরুদ্ধে!
তবুও তার লড়াই সম্পর্কে পড়লে গায়ে কাঁটা দেবে!
যদিও, এখন অনেক তথ্যই অনলাইন থেকে পাওয়া সম্ভব তবুও কিছু বিষয় পড়ার মধ্যে আর সাময়িক তথ্য সংগ্রহের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য!
এবার লেখার মুল স্রোতে ফেরা যাক! বিধবা হবার পরে সেই সময় বেনারসে শেষ জীবন অতিবাহিত করবার আরেক ইতিহাস রয়েছে, যেটি নিয়ে নয়তো আরেকদিন আলোচনা করা যাবে।
রানী রাসমণি কাশী (বেনারসে অবস্থিত) যাবার
প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কথিত আছে যাত্রার প্রাক্কালে তিনি মা কালীর স্বপ্নাদেশ পান, এবং মা ভবিতারিণীর আদেশানুসারে গঙ্গার তীরে গড়ে ওঠে ২০ একর জমির উপর মা ভবতারিণীর মন্দির যেটি দক্ষিণেশ্বর মন্দির নামে পরিচিত।
স্বপ্নাদেশ মা কালী যে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেটি নিম্নে উল্লেখিত:-
কাশী যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
গঙ্গাতীরেই একটি নয়নাভিরাম
মন্দিরে আমার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা কর।
সেই মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েই
আমি পূজা গ্রহণ করব।
সেই সময় এই মন্দির নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছিল ৯ লক্ষ টাকা, আর সময় লেগেছিল ৮ বছর!
সম্প্রীতির কাহিনীও জড়িয়ে আছে এই মন্দিরের সাথে কারণ, তৎকালীন সময় এতখানি জমি পেতে রানি রাসমণিকে ইংরেজ সাহেব জন হেস্টি কে রাজি করাতে হয়েছিল, সেই সময় এই জায়গাটি সাহেব বাগিচা নামে পরিচিতি ছিল।
এছাড়াও উল্লিখিত রয়েছে, এখানের একটি অংশে ছিল গোরস্থান!
সকলের এই সহযোগিতার কারণে রানি রাসমণি সদাই চেয়েছিলেন এই মন্দিরে যেনো সকল ধর্মাবলম্বী প্রবেশের সুযোগ পায়।
এই মন্দিরে প্রথম পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত হন, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের বড় ভাই রামকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং তার সহকারী পুরোহিত ছিলেন গাদাই অর্থাৎ সেই শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব।
তার দাদার মৃত্যুর পর এই মন্দিরের মুল পুরোহিত হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন।
এরপর ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন দ্বিতীয় হুগলি সেতু, যেটি বিদ্যাসাগর সেতু নামেও পরিচিত।
লেখার শুরুতেই প্রিন্সও ঘাটের উল্লেখ করেছিলাম!
হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত অস্তমিত সূর্যের একটি ছবি লেখার মাঝে তুলে ধরেছি, হাওড়ার সাথে কলকাতার সংযোগস্থল ধরে রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই সেতুটি।
তবে কি জানেন? কোনো নির্মাণের কিংবা উন্নয়নের মাঝে যখন রাজনীতি ঢুকে যায় তখন তার সময়সীমা অনেকখানি দীর্ঘায়িত হয়ে যায়, ঠিক যেমনটি হয়েছিল এই সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে!
২২ টা বছর সময় লেখেছিল ৩৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মাণ করতে!
অথচ, ১৯৮৯-১৯৯২ সাল আসতে আসতে প্রযুক্তি বেশ উন্নত হয়ে গিয়েছিল, যদি উপরিউক্ত মন্দির নির্মাণ কালের সময়সীমার সাথে এই নির্মাণের সময়সীমার তুলনা করা যায়!
নাকি সম্প্রীতির বন্ধন অধিক শক্তিশালী এই আধুনিক রাজনীতির কাছে?
উত্তরগুলো আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।
আগামীকালের আন্তর্জাতিক যোগ দিবস অন্ততঃপক্ষে কিছু মানুষের জীবনে প্রবেশ করুক এই কামনা নিয়ে আজকের লেখায় ইতি টানলাম। ভালো থাকুন এবং সর্বোপরি সুস্থ্য থাকুন। স্বাস্থ্য সম্পদ ভুলে গেলে চলবে না!