তৃষ্ণা!
সেদিন কোথায় যেন বেশ পড়েছিলাম, ঠিক মনে পড়ছে না! তবে, বেশ লেগেছিল কথাটি জানেন;
কারণ, লেখার আড়ালে ছিল বাস্তবিকতা!
কি বার্তা ছিল সেই লেখায়?
'অর্থ হলো পৃথিবীর নির্মম তৃষ্ণা!'
কত দামী কথা ভাবুন! সত্যিই তো, কাগজের কাছে নতজানু একাধিক আবেগ!
সময়ের সাথে আচ্ছা আচ্ছা সম্পর্কের আবেগ বদলে দিতে সক্ষম এই কাগজ!
কাগজ মানে আমি টাকার কথা বলছি, নয়তো আজকাল আর কেই বা লেখনীর প্রয়োজনে ব্যবহৃত কাগজের কদর করে বলুন!
আজকাল, সবই তো ডিজিটাল! বাংলার স্বনামধন্য গায়ক মান্না দে কবেই গেয়ে গিয়েছেন,
'যদি কাগজে লেখো নাম, কাগজ ছিঁড়ে যাবে!'
সে কথা বর্তমান সমাজ শুনেছে এবং পালন করছে সর্বৈব!
আর্থিক লেনদেন, লেখাপড়া সবটাই এখন ডিজিটাল, কাগজ মূল্যায়িত হয় শুধু অর্থ রূপে!
তবে, যদিও গানটির বার্তায় কিন্তু অনেক আবেগ এর মধ্যে অন্যতম ভালোবাসা কিভাবে ধরে রাখার উচিৎ তার বার্তা ছিল!
অবশ্য সেসবের আজকাল কেউ বিশেষ ধার ধারে না!
ভালবাসা হোক কিংবা সম্মান সবটাই ওই কাগজ, যেটি একেক দেশে একেক নামে প্রচলিত।
যার বাজার দর অপরিসীম!
আর শুধু বাজারদর বলছি কেনো, সটান ঘরের অন্দরমহলে ঢুকে পড়েছে এবং সম্পর্কের বিচ্ছেদ থেকে, কে কতখানি সম্মান পাবার যোগ্য,
এমনকি একজন ব্যাক্তির সামাজিক মর্যাদা নির্ধারণ করে এই কাগজে ছাপা টাকা!
যার যতই থাকুক, এর তৃষ্ণা মেটার নয়! অথচ, অত্যধিক কোনো কিছুই যে সুবিধাজনক নয়, সেটি বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিশেষ করে যদি অনৈতিক পথ ধরে, অন্যের রক্তের গন্ধ থাকে সেই কাগজের মধ্যে!
শৈশবে শিখেছিলাম ফাঁকি দিলে, ফাঁকে পড়তে হয়!
যদিও কথাটি লেখাপড়ায় ফাঁকিবাজি দেবার ক্ষেত্রে উদাহরণস্বরূপ ব্যবহার করতেন আমার মা, তবে আজকাল দেখতে পাচ্ছি ফাঁকি দিয়েও অনেকেই অনেকদূর পর্যন্ত যাচ্ছেন, তবে শেষ রক্ষা হবে কিনা সেটা এত তাড়াতাড়ি বলা কঠিন।
এই ফাঁকি দেখা যায়, সম্পর্কের বিশ্বাসে! টাকা থাকলে গাধাকে বাবা বলেও ডাকা যায়!
আরো প্রবাদ রয়েছে, যেমন ধরুন, 'যে গরু দুধ দেয়, তার লাথি ও সহ্য করতে হয়!'
আমার প্রশ্ন হলো কেনো?
যেখানে সম্মান নেই, যেখানে নেই নিঃশর্ত ভালোবাসা, সেখানে টাকার কাছে আবেগ বিক্রি করে নিজের চোখে চোখ মিলিয়ে তাকানো যায়?
না মানে আমার জানা নেই, কারণ, কিছু ক্ষেত্রে আজও আপোষ করতে শিখিনি, অবশ্য আগামীতে নিজের অবস্থানের পরিবর্তন হবে কি না, সেটা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা জানেন!
কাগজের তৃষ্ণায় আমার আবেগে বিশেষ পরিবর্তন এখনো পর্যন্ত হয়নি, দেবার সময় নিজের ভবিষ্যৎ ভাবিনি, এটাও তখন মনে হয়নি, এই মানুষগুলোর কাছেই সম্পর্কের নাম বদলে যাবে, কাগজের ওজন কমে গেলে!
সব কিছুর পরেও, আমি হাসি! কেনো জানেন?
প্রতারিত করলে তার পরিণতি এক্ সময় ভোগ করতে হবেই এটি অপরিবর্তিত সত্য জানি আর এখন তো দিকে দিকে দেখছি!
তবে, প্রতারিত হলে, তাকে আর্থিক কষ্টের সন্মুখীন হতে হলেও সময়ের হাত ধরে তার পাশে থাকেন সৃষ্টিকর্তা!
হ্যাঁ! অবশ্যই এটির জন্য প্রতি মুহুর্ত দুর্বিষহ কথার যন্ত্রণা আর অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তবে দিনশেষে অভিজ্ঞতা আর কিছু মানুষের আবেগের আড়ালের নাটক থেকে পর্দা উন্মোচন হয়!
কাগজের তৃষ্ণায় যারা বুঁদ হয়ে আছেন, মানুষকে যারা মানুষ ভাবতে ভুলে যাচ্ছেন এই কাগজের দম্ভে; তাদের কি ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে সময়ের হাত ধরে, তার কিছু নমুনা পৃথিবীর সর্বত্রই নজির রেখেছে।আমি নিজের লড়াইয়ের আড়ালে হাসি ধরে রাখতে পেরেছি কারণ, আমার শিক্ষা এবং নৈতিকতায় কাগজের তৃষ্ণা থাবা বসাতে পারেনি এখনো!
তাই সময়ের সাথে সাথে নিজের অবস্থান খানিক পরিবর্তিত হয়েছে আর খানিক পরিবর্তন করে নিয়েছি, সেই তৃষ্ণার্ত শিক্ষকদের হাত ধরে।
খুব ব্যাক্তিগত একটি ছোট্ট বাস্তবিক উদাহরণ দিলে হয়তো বুঝবেন, আজও সমাজের আনাচে কানাচে স্বল্প হলেও কিছু মানুষ আছেন যারা ক্ষমতার কাছে নতজানু হতে নারাজ।
ঘটনাটি দু'দিন আগের, একজন আমায় ফোন করে জানাল, তাদের বাড়িতে থাকা এক্ ভাড়াটিয়াকে উঠে যাবার কথা বলা হয়েছে।
ঘটনাটি আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ, কিন্তু অন্তরালে রয়েছে অন্য কাহিনী, ওই পরিবারে একটি বাচ্চা ছেলে রয়েছে, এবং একটি কন্যা সন্তান।
এখন ছোট্ট ছেলেটি ওই বিভাজিত পরিবারের একাংশের প্রিয়, সেটা অপরপক্ষের চক্ষুশূল এর অন্যতম কারণ, আবার মেয়েটির কেনাকাটার স্থান তাদের ব্যবসার স্থান না হয়ে অপরপক্ষের হওয়ায় সেটাও বিরক্তির আরেকটি কারণ।
তবে, সভ্য সমাজে থেকে এগুলো বলে তো আর ভাড়া তুলে দেওয়া যায় না, তাই কারণ অন্য কিছু দেখানো হয়েছে!
পরিবারটি ভাড়ার জায়গার কাছাকাছি একটি জমি কিনেছে, খুব শীঘ্রই হয়তো বাড়িতে হাত দেবেন, চাইলেই অনুরোধ করে কিছু সময় চেয়ে নিতেই পারতেন মালিকপক্ষ থেকে!
তবে, বিপরীত স্রোতে সাঁতার কেটে সঙ্গে সঙ্গে ঘর ছেড়ে দেবেন জানিয়ে দেন!
কারণ, ভদ্রলোক ভাড়া থাকলেও মাথা বিকিয়ে দিতে রাজি নন!
এই উদাহরণ তুলে ধরলাম, কারণ আজও অনেকেই ক্ষমতাবান দের(কাগজের ওজনের) কাছে মাথা বিকিয়ে দিতে নারাজ, সংখ্যায় কম হলেও সমাজে বিদ্যমান।
নৈতিকতার ভাষা যখন কাগজের কাছে হার মেনে যায়, তখনই একমাত্র তৃষ্ণার মাত্রা বোঝা সম্ভব; যেখানে আবেগ হার মানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই!
উপরিউক্ত লেখনীর সম্পূর্ণটাই নিজস্ব অভিজ্ঞতার নিরিখে তুলে ধরলাম,সহমতের প্রত্যাশা না রেখেই!
Curated by:@wirngo