দাবদাহ থেকে খানিক মুক্তি!
বাংলা ক্যালেন্ডার বলছে আজকে আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ! প্রকৃতি তার কথা রেখে প্রাণীকুলকে খানিক স্বস্তি দিতে গতকাল রাত এবং আজকে প্রায় দিনের বেশিরভাগ সময়টা বৃষ্টির ধারা দিয়ে ভরিয়ে রেখেছিল।
বর্ষণমুখর দিনটি শুধু মানুষকেই নয় সমগ্র উদ্ভিদকুল সহ উত্তপ্ত ধরিত্রীকে শীতল করে দিয়েছে।
আজকে অনেকেই এই বর্ষার কারণে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন! বিগত দিনগুলো তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ৪০ ডিগ্রিতে!
সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাড়িতে থাকা যেখানে কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল, সেখানে সেই মানুষগুলো যাদের প্রতিদিন বাসে, ট্রেনে কাজের সূত্রে বাইরে বেরোতে হচ্ছিল, তাদের কষ্ট সত্যি অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।
তবে, এই দুই ক্ষেত্রেই একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা না করলেই নয়, আর সেটা হলো, অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়!
কেনো বললাম? এই যে দাবদাহ, এটা যেমন মানুষের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল, ঠিক তেমনি যদি প্রতিদিন অতি বৃষ্টি হয়, তখন মানুষ সেটা নিয়ে নালিশ শুরু করবে!
রাস্তায় জল জমা, প্রতিদিন কাক ভেজা হয়ে কাজে যাবার সমস্যা, ঘরে কাপড় চোপড় না শুকোনোর ঝামেলা, ইত্যাদি ইত্যাদি!
ঠিক তেমনি অতিরিক্ত শীত পড়লে অনেকের নালিশ থাকে! তবে, এই একটি বিষয় নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো নালিশ নেই, সে যতই ঠান্ডা পড়ুক না কেনো!
আমি বরঞ্চ ঠান্ডা উপভোগ করি, আর এই শীতের প্রতি ভালবাসা আজকের নয়, শুরু থেকেই।
যেটা নিয়ে আলোচনা করছিলাম, সেটা হলো, অতি কোনকিছুই জীবনে সুখকর হয় না!
সেটা এই ঋতুর ক্ষেত্রে হোক, কিংবা জীবনের প্রতি পর্যায়ে!
অতিরিক্ত বিশ্বাস মানুষকে অন্ধ তৈরি করে, অতিরিক্ত ভালোবাসা অবাধ্য এবং প্রত্যাশা বৃদ্ধির মত অসুখ বয়ে নিয়ে আসে!
আরে আরে যাচ্ছেন কোথায়? আরো আছে!
অতিরিক্ত অর্থ (অবশ্যই যদি হঠাৎ করে আসে) মানুষকে অহংকারী করে তোলে, অতিরিক্ত কথা মানুষকে মূল্যহীন করে, অতি শান্ত থাকা স্বভাব মানুষকে অহেতুক সুযোগ নিয়ে অনৈতিক কাজ করতে উস্কানি দিতে সহায়তা করে!
অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মেরুদণ্ড দুর্বল করে, অতিরিক্ত সহায়তা মানুষকে সুযোগ সন্ধানী করে তোলে;
অতিরিক্ত নালিশ মানুষকে বিরক্ত করে তোলে, অতিরিক্ত অবহেলা মানসিক অবসাদ বৃদ্ধি করে!
অনেক বাকি রয়ে গেলো, তবে আজ এইটুকুই থাকুক! সেই জন্যই কি বলে বোবার শত্রু নেই?
গতকাল আর আজকের অর্ধেক বেলার বৃষ্টি তাপমাত্রা খানিক কমিয়ে দিতে সক্ষম হলেও, এই রাজ্যের উত্তরবঙ্গের চেহারাটা বেশ ভয়াবহ!
আজকে সকালে জানালায় দাড়িয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নজরে পড়ল, একটি পাখি বৃষ্টি উপভোগ করছে আমারই মতন একলা একলা!
নিজের সাথে মিল খুঁজে পেয়ে জুম করে দুটি ছবি তুলেছিলাম, সাথে ছোট্ট একটি ভিডিও!
তবে, তার প্রশান্তিতে বিঘ্ন ঘটায়, সে উড়ে গিয়েছিল, কারণ অনেকেই প্রচার বিমুখ, এই পাখিটিও হয়তো সেই দলেই!
ভালো লেগেছিল তার এই একাকী বসে থাকার খানিক সঙ্গী হতে পেরে।
বিকেল গড়িয়ে বেলা যখন ৫ টা বেজে ছয় মিনিট, তখন মেঘের বুক চিরে অস্তমিত সূর্য্য খানিক উঁকি দিয়ে মানুষের প্রশান্তির সাক্ষী হয়ে থাকলো!
কাল কি হবে জানা নেই! তবে, আষাঢ় এর হাত ধরে আজকের বর্ষা দাবদাহ থেকে সকলকে খানিক মুক্তি দিয়েছে এটা অনস্বীকার্য।