সময়ের সাথে কি হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা?
আগের মত এখন আর খবরের কাগজ বাড়িতে আসে না! এখন ওই কাগজের ঠোঙায় করে কিছু কিনে আনার পর, সেটা পাত্রে রেখে সেই ঠোঙার গায়ে লেখা পড়ার চলন হারিয়ে গেছে!
খবরের কাগজের খানিক খবর জেনারেল নলেজ অর্থাৎ ওই সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধির কারণে যতখানি না পড়তাম তার চাইতে নজর থাকতো কমিক্স সেকশন আর ক্রসওর্ড এর দিকে!
কথায় বলে যে দিন চলে যায়, সেটাই শ্রেষ্ঠ! আর আমি বলি যতক্ষণ বেঁচে আছি, ততক্ষণ যদি ভালো অভ্যেস পর প্রজন্মকে উপহারস্বরূপ তুলে দেওয়া যায়, তাহলে যেকোনো সময়ই ভাল সময়!
কেনো এমনটা বলছি জানেন? কারণ, আমরা যারা উপরিউক্ত শিক্ষার হাত ধরে বড় হয়েছি, তারাই বদলে গিয়েছি আধুনিকতার হাত ধরে, সঙ্গে ভুলে গিয়েছি শৈশব শিক্ষা!
এবার কেউ যদি প্রতিবাদী হয়ে আমার কথাকে খন্ডন করতে চান, তাহলে দয়া করে কিছুদিন খবরের চ্যানেল গুলোতে নজর রাখবেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন, মানুষরূপী আমানুষরা ছেয়ে গিয়েছে বিশ্বজুড়ে!
তারাও তো মানুষের অন্তর্ভুক্ত, যেকোনো পজিশনের অধিকারী হোক না কেনো!
এদের মধ্যে অনেকেই আমাদের দুই প্রজন্ম এবং তার অধিক পুরোনো, তাহলে কোথায় হারিয়ে গেল, এদের শৈশব শিক্ষা এবং মূল্যবোধ?
উত্তর যদিও সকলের জানা, তবুও উল্লেখ করতেই হচ্ছে, লোভের কাছে নতি স্বীকার করতে বয়স কিংবা প্রজন্ম কোনো বাধা নয়!
আজ শিক্ষা থেকে শুরু করে খাদ্য তথা শিল্প এমনকি দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবটাই নির্দ্বিধায় নিলামে চড়ছে!
এটাকেই কি উন্নত সমাজ বলে? কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে নৈতিকতা আর মূল্যবোধ আমার জানা নেই!
একটা কথা বারংবার প্রমাণিত হয়েছে, হয়তো ভবিষ্যতেও হবে, আর সেটা হলো, যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ!
অথচ, এই রাবণের পরিণতি কি হয়েছিল, সেটা কি কেউ জানেন? নাকি মনে রাখেন?
অনৈতিক জীবনযাপন বেছে নেবার সময়!
মূল্যবোধ শিকেয় তুলে রেখে পকেট গরম করতে গিয়ে যে তাতে কত পাপ, কত অভিশাপ পরের প্রজন্মের জন্য নিজেদের পকেটে জমা হচ্ছে কর্মের হাত ধরে, সেটা একবারের জন্য চিন্তা করছেন কি?
দিন, রাত যখন এখনো হচ্ছে, তখন বিচার যে সুনিশ্চিত সময়ের সাথে, এটা কি ভুলতে বসেছেন মানুষ?
আজকাল ঘরে ঘরে অরাজকতা! নেই সম্মান, নেই আন্তরিকতা, নেই বিশ্বাসের মর্যাদা!
গতানুগতিক দিন যাপনের মাঝেও আগের মত একসাথে বসে গল্পের প্রচলন এখন শুধু কল্পনা!.
আজ ব্যস্ত সকলেই, যতটা না কাজে তার থেকেও মোবাইল নিয়ে!
বাচ্চার কান্না থামাতে মোবাইল, বাচ্চা খাচ্ছে না?
সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল!
অনেক কাজের শেষে ক্লান্তি কাটাতে মোবাইল!
মন খারাপ মোবাইল, মন ভালো মোবাইল!
মানুষ আর সম্পর্কের জায়গা কোথায়?
চাকরি সূত্রে আমার বাবা বহু জায়গায় গিয়েছেন এবং তাকে সেখানে একলা থাকতে হয়েছে, মাঝেমধ্যে মা গিয়ে থাকলেও, বাবাকে নিজের কাজ সেটা অফিস সহ বাড়ি ফিরে নিজেকেই করতে হয়েছে!
এরপর যখন বাবা ফিরতেন, পরিবার পেয়ে যেনো হাতে চাঁদ পাওয়ার আনন্দ দেখতাম তার সমস্ত মুখ জুড়ে!
কিছুদিন সকাল থেকে রাত বিভিন্ন রান্না নিজেই করতেন, বাজার করা সহ, মা হয়তো, কেটে, বেঁটে দিতেন, সে এক অন্য রকম দিন ছিল!
এক জায়গায় সকলের জমায়েত, সেখানে শুধু আত্মীয় নয়, সাথে পাড়ার লোকজন নিয়ে একেবারে চাঁদের হাট!
আমি নিজেও যখন শিলিগুড়িতে ছিলাম, সেই সময়, প্রতি পুজোয় বিভিন্ন রান্না করে, ফ্ল্যাটের সকলের ঘরে ঘরে দিয়ে আসতাম, এমনকি ফ্ল্যাটের আসে পাশের বাড়িতেও!
এখন কেউ ভাবতে পারবে, বাড়ির বাচ্চা ডাল রান্না না হলে তার কান্না শুনে, প্রতিবেশী হাসতে হাসতে ডাল দিয়ে যাচ্ছে!
মায়ের বকুনি থেকে বাঁচতে প্রতিবেশীর আশ্রিতা হয়ে, একেবারে খেয়ে দেয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরা!
এগুলো, এখন শুধুই ইতিহাস! কারণ, সময়ের সাথে হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা;
এখন আপনে বাঁচলে বাপের নাম! এই প্রবাদেই সকলে বিশ্বাসী, কিন্তু সত্যি কি একলা সবটা পথ অতিক্রম করা সম্ভব, যেখানে নেই নৈতিকতা কিংবা কোনো মূল্যবোধ?
এমন হাজারো প্রশ্ন আজকাল আমার মনের কোণে উঁকি দেয়, আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হাজির হই প্রকৃতির মাঝে!
মন্দির গড়লেই সেখানে ভগবান থাকবেন এমন কিন্তু নয়, কারণ সৃষ্টিকর্তাও নির্ভেজাল কর্মে বিশ্বাসী বলে আমার মনে হয়!
ব্যক্তি বিশেষে অভিমত ভিন্ন হতেই পারে, তবে আমার মনে হয় সময় এসেছে এবার ভাবার, আপনারা কি মনে করেন? পরিবর্তন বাহ্যিক এর চাইতেও অভ্যন্তরীণ এর অধিক প্রয়োজন?