আস্থা আর ইতিহাসের সাক্ষী আজও অক্ষুন্ন!
ইতিহাসের সাথে আস্থা শব্দের সংযোজন কেনো করলাম আজকের লেখার শীর্ষকে!
আজকের ছবিগুলোর মধ্যেই এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে।
আজকের ছবিগুলো উত্তরপ্রদেশের বাগনাথ এবং বৈজনাথ মন্দিরের!
আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে, ছবির নিচে নামকরণ করে দেওয়া রয়েছে।
এবার বিষয় হলো উভয় মন্দিরগুলো সমর্পিত করা হয়েছে মহাদেবকে, অর্থাৎ উভয় মন্দির মূলত পরিচিত হলো শিব মন্দির হিসেবে!
আস্থা কেনো? কারণ, আমি এই মুহুর্তে যে সময়কালের কথা আজকের লেখায় উল্লেখ করতে চলেছি সেটির সাথে ভারতের ঐতিহ্যের ইতিহাস যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সৃষ্টিকর্তার সাথে সংযোগের আস্থা।
প্রথম মন্দিরটির নাম বাঘনাথ কিংবা বাগনাথ কেনো?
পুরাণের কথিত অথবা উল্লেখিত কাহিনীর হাত ধরে জানা যায়, ঋষি মার্কণ্ডেয় এই স্থানে শিবের আরাধনা করেন!
ঋষির আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব বাঘের রূপে এবং তাঁর পত্নী পার্বতী গাভীর বেশে ঋষিকে দর্শন দেওয়ার ফলেই মন্দিরটির নামকরণ করা হয় বাঘনাথ মন্দির!
কবে নির্মিত হয়েছিল এই মন্দির? আর কার হাত ধরেই বা মন্দিরটি নির্মাণ হয়েছিল?
লেখার এই পর্যায়ে সেই তথ্য তুলে ধরবার প্রয়াস করছি।
সালটা তখন ১৪৪০-১৪৫০, সমসাময়িক চাঁদ রাজবংশ এর রাজা লক্ষ্মী চাঁদ এর হাত ধরে ঘিরে উঠেছিল এই মন্দিরটি!
সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত, অর্থাৎ সেই গোড়াপত্তন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত টিকে থাকা, এটা তো নিজের মধ্যে একাধিক যুগের পরিবর্তনের সাক্ষী, তাই নয় কি?
আর সেটাই তো বয়ে চলেছে এই স্থাপত্য গুলো!
এবার ক্যালকুলেটর নিয়ে মন্দিরটির বয়স নয়তো নিজেরাই বের করে ফেলতে পারবেন!
তবুও তো খানিক লেখাপড়া করা হবে, আধুনিক নেশাগ্রস্থ রিলের বাইরেও যে দেশের মধ্যে একাধিক রোমহর্ষক কাহিনী লুকিয়ে রয়েছে, সেটা নইলে জানবেন কি ভাবে?
বেশ! এবার লেখার হাত ধরে একটু এগিয়ে দ্বিতীয় ছবি সহ বাকি ছবিগুলো যে মন্দিরের তার বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরা যাক!
যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখিত উভয় মন্দির সমর্পিত মহাদেব কে, তবে এখানে জানানো প্রয়োজন দ্বিতীয় মন্দিরটি অর্থাৎ বৈজনাথ মন্দিরটির গুরুত্ব বেশ উল্লেখযোগ্য।
কি কারণে এটি উল্লেখযোগ্য? যদিও এটির পিছনেও রয়েছে পুরাণের কাহিনী!
কথিত আছে, এখানেই লঙ্কাধিপতি রাবণ শিব ঠাকুরের আরাধনা করেছিলেন!
আর শুধু আরাধনা করেছিলেন এমনটা নয়, তিনি তার তপস্যা দ্বারা শিবলিঙ্গ অর্জন করেছিলেন।
ভাবা যায়! দ্বাদশ শতাব্দীর নির্মিত মন্দির আজও পর্যটকের তথা দর্শনার্থীদের জন্য অব্যাহত রয়েছে!
এখানে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এখানে দশেরা পালিত করা হয় না।
সালটা ১৯০৫ রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা দেখালো ৭.৮ কিন্তু অবাক বিষয় এই মন্দিরটি কিন্তু এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরেও অক্ষত রয়েছে!
এটাকে কে কি নাম দেবেন আমার জন্য নেই, আমি বলবো এটাই আস্থা, এবং এটাই বিশ্বাস!
আর যদি বিজ্ঞানের ভাষায় বলতেই হয়, তাহলে সাধারণ বাংলায় লিখতেই হবে, এই স্থাপত্য গুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ফাঁকিবাজি না করে কিছু নির্মাণ করলে, তার টিকে থাকার মেয়াদ কতখানি।
আশাকরি আজকের লেখা যারাই পড়বেন, তাদের কাছে সামান্য হলেও ভারতের ইতিহাস তথা আস্থার খানিক বার্তা এই লেখার মাধ্যমে পৌঁছবে।
ভ্রমণ প্রেমী হোক কিংবা ইতিহাস প্রেমী পর্যটক এই দেশে আসুক এবং এই স্থাপত্যের সাক্ষী হন, আজকের লেখায় সেটাই মুল উদ্দেশ্য।
Congratulations! This post has been voted through steemcurator09. We support quality posts, good comments anywhere and any tags.
Much appreciated your support @steemcurator09 and @memamun🫰