আরো একটি বর্ষণমুখর দিন!
বর্ষার হাত ধরে খানিক স্বস্তি নেমে আসে উদ্ভিত তথা প্রাণীকুলে।
এছাড়াও বর্ষার কারণে জমে থাকা ধুলোর প্রলেপ লেগে থাকা সবুজ গাছের পাতা ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়, পশুরা দাবদাহ থেকে স্বস্তি পায়, বর্ষার জলে ভিজে।
এগুলো এতটাই সাধারণ বিষয় যে, প্রায়শঃই আমরা দেখেও এসব বিষয় নিয়ে আলাদা করে ভাবার প্রয়োজন বোধ করি না।
এই বর্ষার হাত ধরে উদ্ভিদ থেকে প্রাণীকুল উপকৃত হয়, এটা যেমন একদিকে উল্লেখ করলাম, তেমনি এই বর্ষা যে বহু দিনের জমা ধুলো ধুয়ে দেবার সামর্থ রাখে সে কথাও উল্লেখ করলাম।
কাজের সুত্রে মানুষকে ঘরের বাইরে বেরোতে হয়, কাজেই একাধারে তারাও এই বৃষ্টির জলে ঘরে ভিজে ফেরে প্রায় সময়!
কিন্তু এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, তারাও কি উদ্ভিদের মত করে নিজেদের উপর জমে থাকা ধুলো ধুয়ে ফেলতে সক্ষম?
অর্থাৎ এই যে কালিমালিপ্ত মানসিকতা সেটা কি এই বর্ষার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলা যায়?
উত্তর হলো, না! যে শিক্ষা, যে আদর্শ উদ্ভীদকুল এবং পশুরা অবলীলায় শিখে ফেলতে পারে, সেটাই এই বুদ্ধিজীবী তকমা পাওয়া মানুষেরা শিখতে অসমর্থ!
আজকের মেঘলা আকাশ আর অনবরত বৃষ্টির ধারা দেখে মনে মনে ভাবছিলাম, সত্যি যদি এই ধারায় ধরণীর পাশাপশি কিছু মানুষের মনের কালিমা ধুয়ে যেতো, সমাজের খানিক উন্নতি হতো বর্ষার হাত ধরে।
তবে, সে হবার নয়! কারণ, জেগে ঘুমোলে যেমন কাউকে জাগানো যায় না, তেমনি কেউ যদি শিখতে না চায়, আবার কারোর আত্ম-অহংকার যদি তার পথ অবরোধ করে, সেক্ষেত্রে সেই কালিমা ধুয়ে ফেলবার সাধ্য প্রকৃতির নেই।
তেলে জলে যেমন মেলে না, জলের উপর যেমন তেল ভেসে থাকে, তেমনি বেশিরভাগ সময় আত্ম-অহংকারের আস্তরণ ঢেকে দেয় প্রকৃত শিক্ষার সুযোগকে।
এই আত্ম-অহংকার কিভাবে পতনের কারণ ডেকে নিয়ে আসে, সেই নিয়ে আজকে একটি পৌরাণিক কাহিনীর উল্লেখ করছি।
যদিও, মহাভারতের কাহিনী অনেকের জানা, কিন্তু এই পৌরাণিক কাহিনীর অনেকাংশ সম্পর্কে হয়তো অনেকের জানা নেই, যদি জানা থাকে মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন অবশ্যই।
গল্পের শুরু পাঞ্চাল রাজ্যের রাজা দ্রুপদ কে নিয়ে।যিনি ছিলেন দ্রৌপদীর পিতা। তাই দ্রৌপদীর আরেক নাম পাঞ্চালি।
রাজা দ্রুপদ যখন ছোট ছিলেন, তখন গুরু গৃহে তিনি শিক্ষা অর্জন করতে যান।
সেখানে তার সাথে পরিচয় হয়, দ্রোনা নামের আরেক বালকের সাথে।
সময়ের সাথে দু'জনের বন্ধুত্ব গাঢ়তর হয়ে ওঠে, এবং দ্রুপদ দ্রোনাকে কথা দেয়, সে যখন বড় হবে, আর নিজের রাজ্যের রাজা হবে, তখন তার বন্ধু দ্রোনাকে নিজের রাজ্যের অর্ধেক দিয়ে দেবে।
সময় কালের স্রোতে বয়ে যায়, আর দুজনেই বড় হয়ে ওঠে। দ্রুপদ পাঞ্চাল রাজ্যের রাজ গদিতে বসেন, আর অন্যদিকে সে ভুলে যায় তার বন্ধুর কথা।
দ্রোনা বড় হয়েছে কিন্তু অভাব তার পিছন ছাড়ার নাম করে না!
অনেক কষ্ট সহ্যের পর সে সিদ্ধান্ত নেয়, তার বাল্য বন্ধু দ্রুপদের কাছে যাবে, তবে রাজ্যের অর্ধেক চাইতে নয়;
কিছু সাহায্যের আশায়! অন্ততঃপক্ষে সাধারণ জীবনযাপন করতে পারে এমন একটু সাহায্যের ইচ্ছে প্রকাশ করবে বন্ধুর কাছে!
সেইমত দ্রোনা পৌঁছয় পাঞ্চাল রাজ্যে এবং বাল্য বন্ধুকে তার গুরুকূলে দেওয়া কথা মনে করায়;
কিন্তু দ্রুপদ অর্ধেক রাজ্যের কথা দেওয়া তো দুরস্ত দরিদ্র ব্রাহ্মণকে নিজের বন্ধু হিসেবে মানতে নারাজ!
সামান্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার
পরিবর্তে, দ্রুপদ অপমান করে সভা থেকে বের করে দেয় দ্রোনাকে!
সেদিন দ্রোনা প্রতিজ্ঞা করে পাঞ্চাল রাজ্যের অর্ধেক সে নিয়েই ছাড়বে।
এরপর, সে তার শিষ্য অর্জুনকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে পাঠায় পাঞ্চাল রাজ্যে, যেখানে অনেকেই জানেন যারা মহাভারত পড়েছেন, কিভাবে অর্জুন মাছের চোখ তীরবিদ্ধ করে দ্রৌপদী কে বিবাহ করে।
তবে, দ্রোনা অর্জুনকে শিখিয়ে পাঠিয়েছিল, যৌতুক হিসেবে অর্জুন যেনো পাঞ্চাল রাজ্যের অর্ধেক দাবী করে, আর সেটাই হবে দ্রোনা অর্থাৎ গুরু দ্রোণাচার্যের গুরুদক্ষিণা।
এভাবেই দ্রুপদের অহংকারের উচিত জবাব দিয়েছিল গুরু দ্রোণাচার্য।
সময়ের হাত ধরে আবেগে দেওয়া কথা, এমনকি কিছু দায়িত্ব আমরা আত্ম-অহংকারের কারণে ভুলতে বসি!
কিন্তু সময় সকলকেই সমান সুযোগ দেয়, আর ঠিক সেই কারণে একদিন অন্যকে কাঠ গড়ায় দার করানো মানুষগুলোকে নিজেদের দাঁড়াতে হয়, সেই কাঠ গড়ায়।
প্রতিদিন কিছু না কিছু শেখার সুযোগ থাকে, নিজেকে উন্নত করবার অবকাশ দেন সৃষ্টিকর্তা, কিন্তু শেখার আগ্রহ তারাই দেখাতে পারেন, কিংবা শিখতে পারেন, যারা মনে করেন তাদের মধ্যেও ভুল রয়েছে।
যদি কেউ নিজেকে সবদিক থেকে পারফেক্ট ভাবেন, তাকে ঠিক করবার সাধ্য কার আছে বলুন?
পাশাপাশি যারা সকলের মন যুগিয়ে চলতে চায়, এবং সকলের চোখের মণি হয়ে বাঁচতে চায়, চোখ বন্ধ রেখে সত্যকে আড়াল করতে যায়;
এরা ঠেকলেই একমাত্র শিখবে সময়ের সাথে! আমার তাই মনে হয়, আর আপনাদের?
Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
Curated by: @kouba01
Much appreciated your support @steemcurator05 and @kouba01🫰😊