"গতকাল পালন করলাম -যোগিনী একাদশী"
Hello,.
Everyone,
আশা করি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন, আর আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালোভাবে কাটছে।
গতকাল ছিল "যোগিনী একাদশী ব্রত"। কাল সকালের দিকে আপনাদের সাথে পোস্ট লেখা শেয়ার করেছিলাম, তবে আজ সকাল থেকে একটু কর্ম ব্যস্ততার কারণে সকালের দিকে আর পোস্ট লেখা হয়ে ওঠেনি। তাই দুপুরে লাঞ্চে শেষ করে এখন পোস্ট লিখতে বসলাম।
ভাবলাম গতকাল যেহেতু যোগিনী একাদশী ছিলো, তাই সেই বিষয়েই না হয় আজকের পোস্টে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। যদিও গতকাল শাশুড়ি মা পূজা দিয়েছিলেন। তবে নিয়ম অনুসারে আমি একাদশী ব্রত পালনের উপোস করেছিলাম।
তবে উপোস থেকে পুজো না দিতে পারলে মনটা ভালো লাগে না। তবে কিছু করার নেই। এমন কি আজ সকালেও নিয়ম অনুসারে সময়ের মধ্যে পারণও সম্পন্ন করে নিয়েছি। যাইহোক আজ আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী 'যোগিনী একাদশী' সম্পর্কে আপনাদের সাথে কিছু কথা শেয়ার করি।
প্রতিটি একাদশীরই একটা পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। আর সমস্ত একাদশীর এই পৌরাণিক কাহিনী ও একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য সমন্বয়ের একটি বই আমার কাছে আছে। প্রতি একাদশীতে সেই বই থেকেই আমি একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য ও সেই দিনের পালিত একাদশীর পৌরাণিক কাহিনী পড়ি।
বিভিন্ন একাদশীর নামকরণের পিছনের এই কাহিনীগুলো পড়তে বেশ ভালোই লাগে। আজ ভাবলাম আপনাদের সাথেও যোগিনী একাদশী পালনের পিছনে যে পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে তা শেয়ার করি।
হিন্দু পুরাণ মতে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনায় নিবেদিত এই যোগিনী একাদশী ব্রতটি পালন করলে, সমস্ত পাপ ও শারীরিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এমনকি একথাও প্রচলিত আছে যে, সঠিক নিয়ম অনুসারে এই ব্রত পালন করলে ৮৮,০০০ ব্রাহ্মণকে ভোজন করানোর সমান পুণ্যফল লাভ করা যায়।
|
|---|
অলকানগরীর রাজা ছিলেন কুবের। তিনি শিব ঠাকুরের উপাসক ছিলেন। হেমমালী নামে তার একজন ভৃত্য ছিলো। হেমমালীর কাজ ছিলো মানস সরোবর থেকে ফুল তুলে, সেগুলো শিব ঠাকুরের পূজার জন্য রাজার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
একদিন হেমমালী মানস সরোবর থেকে ফুল নিয়ে ফেরার পরে, তার সুন্দরী স্ত্রী বিশালাক্ষীর প্রতি কামাসক্ত হয়ে পড়েন। আর নিয়মমাফিক রাজার কাছে ফুল পৌঁছে দিতে যেতে ভুলে যান। দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পরেও যখন হেমমালী না আসে তখন রাজা কুবের রেগে গিয়ে দূত পাঠান।
দূতেরা ফিরে এলে তাদের কাছে রাজা আসল সত্য জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। কারন হেমমালীর জন্য তিনি প্রতিদিনের মতো শিব ঠাকুরের পূজা করতে পারেননি। তাই তিনি হেমমালীকে অভিশাপ দেন, সে যেন তার স্ত্রীর বিরহে মর্ত্যলোকে গিয়ে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়।
আর এই অভিশাপের ফলে হেমমালী মর্ত্যে পৌঁছে যায় এবং কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে ভীষণ কষ্ট পেতে থাকেন। ঘুরতে ঘুরতে একথা সে মার্কণ্ডেয় মুনির আশ্রমে পৌঁছায়। তার করুণ অবস্থা ও অনুতাপ দেখে মুনি তাকে আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে 'যোগিনী একাদশী' ব্রত পালন করার কথা বলেন।
মার্কণ্ডেয় মুনির কথামতো হেমমালী পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে যোগিনী একাদশীর উপবাস করেন। আর এই ব্রতের পুণ্য ফল হিসেবে তার সমস্ত পাপ ও কুষ্ঠরোগ দূর হয়। পরে সুস্থ হয়ে পুনরায় তিনি তার স্ত্রীর সাথে সুখী জীবনযাপন করতে শুরু করে।
আর এই কারণেই বলা হয়ে থাকে সঠিক নিয়ম মেনে যোগিনী একাদশী পালন করতে পারলে, আমরাও আমাদের করা পাপ ও বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত হতে পারি। এই ছিলো যোগিনী একাদশীর কাহিনী।
সত্যি কথা বলতে নির্ভুলভাবে ব্রত পালন করার চেষ্টা করি ঠিকই, তবে আমি শুধু আমার কাজটুকু করতে পারি ফলাফল সবটাই ঈশ্বরের কাছে। তাই ফলের আশায় নয়, নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকে এই ব্রত পালন করাতেই আমি বিশ্বাসী।
কাল দুপুরে পুজোর পর শাশুড়ির মা যে প্রসাদ দিয়েছিলেন সেটুকুই খেয়েছিলাম। যদিও শাশুড়ি মা সাবু ভিজিয়েছিলেন কিন্তু গতকাল শরীরটা বেশ খারাপ থাকার আমি আর কোনো কিছুই খাইনি। একেবারে রাতের দিকে গিয়ে একটা আলু সিদ্ধ খেয়ে নিয়েছিলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে সময়ের মধ্যে পারণ সম্পন্ন করে একাদশী নিয়ম সম্পন্ন করেছি। আজ সারাদিন নিরামিষ আহার করবো। আগামীকাল থেকে একই রকম জীবন যাপন।
যাইহোক আজ একটু ভিন্ন ধরনের লেখা শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে, পড়ে কেমন লাগলো সেটা মন্তব্যের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবেন। সকলে ভালো থাকবেন।