"খারাপ সময়ে সব সমস্যা গুলো একসাথেই ঘিরে ধরে, জীবনের বোধহয় এমনই নিয়ম"

in Incredible India5 hours ago (edited)
IMG_20260610_001330.jpg
"পাহাড়ের মতো করে আমাদের জীবনও মাঝে মধ্যে মন খারাপের মেঘে ঢেকে যায়।"

Hello,

Everyone,

কেমন আছেন আপনারা সকলে? আশা করছি সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের প্রত্যেকের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

গত কয়েকটি পর্ব ধরে আমি আপনাদের সাথে সিকিমে কাটানোর খুব সুন্দর কিছু মুহূর্ত শেয়ার করার চেষ্টা করেছি। আর সত্যি বলতে মুহূর্তগুলোর গল্প আপনাদের সাথে লিখতে গিয়ে, যেন আরও একবার সেই সময়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, যা মনে মনে আমাকেও আরো একবার আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছে।

তবে আজ আর তেমন আনন্দঘন মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে ইচ্ছে করছে না। কারণ মন যখন ভারাক্রান্ত থাকে, তখন যেন আনন্দের সময়গুলো আর মনকে খুশি করতে পারেনা। দুদিন আগের একটা পোস্টে আমি আপনাদের সাথে রাজার মায়ের শারীরিক অবস্থার কথা শেয়ার করেছিলাম।

গত বেশ কয়েক মাস ধরেই তিনি অসুস্থ। লিভার ক্যান্সার একেবারে লাস্ট স্টেজে ধরা পড়েছে, যার আর কোনো ট্রিটমেন্ট এই মুহূর্তে করা সম্ভব নয়। তার মধ্যেই মাঝখানে আবার ব্রেন স্ট্রোক হয়ে, শরীরের বাম পাস অচল হয়ে গেছে। এখন সম্পূর্ণভাবেই তিনি শয্যাশায়ী।

আমার শ্বশুরমশাই মারা যাওয়ার সময়ও অবস্থা এতো খারাপ ছিলো না। এমনকি আমরা যখন সিকিমে ঘুরতে গিয়েছিলাম তখনও অসুস্থ ছিলেন, তবে এমন অবস্থায় ছিলেন না। স্ট্রোক হয়ে এইরকম অবস্থা হওয়ার পর, বেশ আমি দুই/তিন দিন শাশুড়ি মার সাথে, শুভর সাথে গিয়ে দেখে এসেছি।

তবে সামনে থেকে ওনাকে দেখলে অদ্ভুত একটা কষ্ট অনুভব করি। কেমন যেন মায়ের কষ্টের কথা মনে পড়ে। একটা সময় আমার মাও বোনম্যারো ক্যান্সারের কারণে এমন শয্যাশায়ী হয়ে গিয়েছিলেন।

IMG_20260610_001557.jpg
"চারিদিক থেকে সমস্যা যেন আমাদের জীবনকেও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে।"

যাইহোক আজ খবর পেলাম ওর মায়ের হিমোগ্লোবিন একেবারেই কমে গেছে, তাই ওনাকে আবার ব্যারাকপুরের দিকে একটা নার্সিংহোমে ভর্তি করেছে। আসলে ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার সময় ওনাকে বারাসাত হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছিলো এবং সেখানে কয়েক দিন ভর্তি থাকার পর ওরা আর.জি.কর হসপিটালের ট্রান্সফার করেছিলো।

তবে সেই মুহূর্তে ওরা আর.জি.কর পর্যন্ত নিয়ে যায়নি। আসলে হসপিটালে ভর্তি করলেই হয় না। প্রতিদিন সেখানে যাতায়াত করা বা থাকা সবটাই খুব সমস্যার। আর যেহেতু একবার বারাসাত হসপিটাল থেকে ট্রান্সফার করে দিয়েছে, তাই সেখানে নিয়ে গেলে পুনরায় হয়তো আবার ভর্তি নেবে না। এই কারণেই রাজারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যারাকপুরের দিকে একটা ছোট্ট নার্সিংহোমে ভর্তি করাবে ঠিক করেছে।

রাজা এবং রাজার বাবা ছাড়া ওর মাকে দেখার মতন আর কেউ নেই। কারণ রাজার কোনো দিদি বা বোন কেউই নেই। তবে সমস্ত দায়িত্বটা নিয়েছিলো রাজার কাকার ছেলের বউ, যার নাম মাম্পি। যে সম্পর্কে রাজার ভাইয়ের বউ হয়।

রাজা এখনও বিয়ে করেনি। তবে ওর মায়ের সমস্ত শারীরিক সমস্যায় ডাক্তার দেখানো, টেস্ট করতে যাওয়া, ওদের তিনজনের সমস্ত রান্না বান্নার দায়িত্ব নিয়েছিলো মাম্পি। ওর একটা ছোট্ট মেয়ে আছে, কিন্তু তবুও মেয়েটা কি সুন্দর ভাবে এতোগুলো মাস রাজাদের সংসারের দায়িত্ব পালন করছিলো, সেটা দেখে বেশ অবাক হয়েছি আমি নিজেও।

তবে খারাপ সময় যখন আসে তখন চারিদিক থেকে বোধহয় একসাথে ঘিরে ধরে। যেখানে আমাদের ভাবনা চিন্তা সব উলোট পালোট হয়ে যায়। রাজার মাকে আজ ব্যারাকপুরে ভর্তি করা হবে এ কথা তিন চার দিন আগেই ঠিক হয়েছিলো। ওনার হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়াতে ওনাকে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেই অনুযায়ী কথা বলেই ওনাকে সেখানে ভর্তি করানো হয়েছে।

IMG_20260610_001510.jpg
"পাহাড়ের মতো চড়াই উৎরাই আমাদের জীবনেও আছে"

এই খবরটা পর্যন্ত ঠিক ছিলো, কিন্তু এর পরের খবরটার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। রাজার সাথে শুভর কথা হয়েছে, অফিস থেকে ফিরে শুভই জানালো, শুধু রাজার মা কে না আজ মাম্পিকেও ভর্তি করতে হয়েছে হসপিটালে। অসম্ভব পেটে ব্যথার কারণেই ভর্তি হতে হয়েছে এবং সেখানে টেস্ট করে দেখা গেছে ওর কিডনিতে পাথর হয়েছে, পাশাপাশি একটা ছোট্ট টিউমারও দেখা গেছে। এছাড়া কিডনিতে ইনফেকশনও রয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে সমানে সামলে গেছে রাজার মাকে। নিজের শরীরের দিকে হয়তো তেমন ভাবে খেয়ালই করেনি। আজ অসম্ভব যন্ত্রণা হওয়ার কারণেই হয়তো প্রকাশ করেছে। তবে এই মুহূর্তের সব থেকে চিন্তার বিষয় হলো, যদি ওর এইরকম শারীরিক অসুস্থতা থাকে, তাহলে আগামীদিনে রাজার মাকে কে দেখাশোনা ‌করবে।

সত্যি বলতে কখনো কখনো সংসারে অধিক মানুষ থাকলে আমরা বিরক্তবোধ করি, কিন্তু কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মনে হয় মানুষেরও প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া মাম্পির ছোট্ট মেয়েটার কথাও আমার মাথায় আসছে বারবার। মাকে ছাড়া বাচ্চাটাই বা ক'দিন থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে আজ মনটা বেশ খারাপ।

ঈশ্বর যখন কারোর পরীক্ষা নেন, তখন চারিদিক থেকে একসাথেই নিয়ে থাকেন। কিন্তু কি কারণে এটা সত্যিই বুঝতে পারি না। আজ এই খবর দুটো শোনার পর থেকে আমার ফেলে আসা দিনের কথা বারবার মনে পড়ছিলো। যখন আমিও এইরকম সিচুয়েশনে ছিলাম। একদিকে বাবা আইসিউতে ভর্তি ছিলো অন্যদিকে ঠাকুরমা প্রচন্ড অসুস্থ ছিলো।

একটা সময় বাবা যখন মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিলো, সেই সময় ঠাকুরমা মারা গেলেন। কি যে এক কঠিন সময় তখন পার করেছিলাম, তা ভাবলেও আজ ভয় লাগে। কিভাবে সেই সময়টা যে পার হয়েছিলো তা ভাবতেও পারি না।

সেই রকম একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছে রাজারাও। কোথায়, কবে, কিভাবে এর শেষ হবে তা কেউ জানে না। এই প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেকেরই অজানা। তবে এইরকম কঠিন সময় সহজে পার হতে চায় না, এটুকু খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারি।

হয়তো তেমনভাবে কিছুই করে উঠতে পারবো না ওদের জন্যে, তবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন এই খারাপ সময়ের দ্রুত অবসান হয়। ঈশ্বর যেন মাম্পিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দেন, কারণ এই মুহূর্তে রাজার মায়ের বেঁচে থাকা অনেকখানি নির্ভর করে মাম্পির উপস্থিতির উপরে, এটা আমি নিজের চোখে দেখেছি। আর এই কারণেই বোধহয় মনটা আরও বেশি উদ্বিগ্ন হচ্ছে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 61651.23
ETH 1639.18
USDT 1.00
SBD 0.41