"রডোডেনড্রন ফুলের মাঝে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্ত"
|
|---|
Hello,
Everyone,
"লাচুং নদীর তীরে প্রথমবার উষ্ণ প্রস্রবণ (Hot Spring) দেখার অভিজ্ঞতা" এই পোস্টের মাধ্যমেই আপনাদের সাথে সিকিম ভ্রমণের গতপর্ব শেষ করেছিলাম, এবং জানিয়েছিলাম পরবর্তী পর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, রডোডেনড্রন ফুল গাছ দেখার অভিজ্ঞতা ও সেখানে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্তের গল্প।
তবে মাঝখানে রাজার মায়ের মৃত্যুর কারণে মনটা এতোই ভারাক্রান্ত ছিলো যে, ব্যক্তিগত অনুভূতি শেয়ার করতে গিয়ে এই পোস্টটা লিখতে কয়েকদিন দেরি হলো। যাইহোক আর অপেক্ষা করাবো না, আপনাদের সাথে আজ শেয়ার করবো পাহাড়ের কোলে রডোডেনড্রন ফুল গাছের মাঝে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্তের গল্প।
|
|---|
উষ্ণ প্রস্রবণ দেখার পর আমরা গাড়িতে করে আবার রওনা করলাম। সত্যি কথা বলতে রাস্তার দু'ধারে অনেকটা জায়গা জুড়ে রডোডেনড্রন ফুল রঙ গাছ দেখা যায়। তবে আমরা এমন একটা জায়গাতে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম, যেখানে সব থেকে বেশি এই ফুল ফুটেছে। যাতে কিছু সুন্দর ছবি আমরা তুলতে পারি। তাই সেইরকমই একটি জায়গায় ড্রাইভার দাদা গাড়ি থামলো, আমরাও গাড়ি থেকে নেমে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।
যতক্ষণ গাড়ির মধ্যে থাকছিলাম ঠান্ডাটা তুলনামূলক অনেক কম লাগছিলো, তবে গাড়ি থেকে নামতেই যেন শীত আবার ঘিরে ধরেছিলো আমাদের। তবে শীতে বেশি ভয় পেলে চলবে না, এই রকম একটা মনোভাব সকাল থেকেই ছিলো। আর সেই কারণেই বোধহয় জিরো পয়েন্টে স্নোফল এর মধ্যেও এতোটা এনজয় করতে পেরেছিলাম।
|
|---|
যাইহোক রডোডেনড্রন ফুল এর পূর্বে কখনো দেখার সুযোগ হয়নি, আর পরবর্তীতেও আর হবে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। তাই ফুলগুলোকে খুব ভালো ভাবে দেখার সুযোগ আমরা কেউই নষ্ট করিনি। যদিও লাল রংয়ের রডোডেনড্রন ফুলে ভর্তি ছিলো সম্পূর্ণ পথ, তবে তার মাঝেও অন্য রঙেরও কিছু কিছু ফুল চোখে পড়েছে।
ফুলগুলো দেখতে এতোটা সুন্দর যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। তবে যতোই ভালো লাগুক না কেন আপনি গাছ থেকে কোনো ফুল পারতে পারবেন না। নিচে অসংখ্য ফুল পড়ে থাকে, চাইলে আপনারা সেখান থেকে ফুল কুড়াতে পারেন। গাড়ি থেকে নামার আগেই আমাদের ড্রাইভার দাদা এই কথাটা আমাদের বারংবার বলে দিয়েছিলেন।
সেখানে বিভিন্ন রঙের ফুলের মাঝে আমরা যেন এক অন্য জগতে পৌঁছে গিয়েছিলাম। প্রত্যেকটা ফুলের আলাদা আলাদা ছবি আমি আপনাদের জন্য তুলেছিলাম, যাতে পোস্টের মাধ্যমে তা শেয়ার করতে পারি। রডোডেনড্রন ফুল ছাড়াও সেখানে আরও কিছু অন্য প্রজাতির ফুল ছিলো।
|
|---|
|
|---|
এমনকি গুরুদংমার লেকের বিখ্যাত বেগুনি রংয়ের ফুলগুলোও এখানে চোখে পড়েছিলো। তাই সেই ফুলেরও একটা ছবি আমি আপনাদের জন্য তুলেছিলাম। সাদা রংয়ের এক থোকা ফুল হঠাৎ করেই চোখে পড়লো, এই ফুলটির নাম যদিও আমার জানা নেই। তবে খেয়াল করে দেখলাম রডোডেনড্রন গাছের মাঝেও এই রকম ভিন্ন প্রজাতির বেশ কয়েকটা ফুল রয়েছে।
|
|---|
|
|---|
এইসব ফুল তোলার পাশাপাশি, আমরা নিজেদের কিছু ছবি তুলে নিলাম। কারণ স্মৃতির পাতায় দৃশ্যগুলো থেকে যাবে একথা সত্যিই। তবে ক্যামেরাবন্দি করে নিয়ে এলে আপনাদের পাশাপাশি বাড়ির সকলকেও তা দেখানোর সুযোগ পাবো। সেই ভেবেই ছবিগুলো তোলা।
আর কয়েক বছর বাদে যখন আমরা নিজেদের এই ছবিগুলো দেখবো, তখন এই ফেলে আসা দিনগুলো আরও একবার উপভোগ করার সুযোগ পাবো। ব্যক্তিগতভাবে আমি অন্তত এইসব ভেবেই বেশিরভাগ সময় ছবি তুলে থাকি।
|
|---|
যাইহোক অনেকটা সময় এই ফুলেদের মাঝে কাটিয়ে তারপর আমরা পুনরায় আবার গাড়িতে উঠে আমাদের হোমস্টের দিকে রওনা করলাম। ফেরার পথে রডোডেনড্রন গাছের নিচ থেকে কয়েকটা ফুল কুড়িয়ে নিয়ে এসেছিলাম। বাড়ি পর্যন্ত ফুলগুলো আনতে পারিনি ঠিকই, তবে হোমস্টেতে সেই ফুলগুলো সেই দিন আমাদেরকে সুন্দর মুহূর্ত গুলো বারংবার মনে করিয়েছে।
যাইহোক বিকেলের মধ্যেই আমরা হোমস্টেতে ফিরলাম। ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করার পরেই সন্ধ্যা বেলার চা দিয়ে দিয়েছিলো। তবে আমাদের মধ্যে থেকে রাখির দাদা আর পিয়ালের হাজব্যান্ড ছাড়া ছাড়া আর কেউই চা খেতে যাইনি। ঠান্ডায় মোটামুটি সকলের অবস্থায় বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। তাই প্রত্যেকেই কম্বলের তলায় ঢুকে গল্প করে সময় কাটাচ্ছিলাম।
|
|---|
একেবারে রাতের খাবারের সময় আমরা সকলে একসাথে ডাইনিং এরিয়ায় গিয়ে খাবার সম্পন্ন করলাম। গরম ভাত, ডাল, বাঁধাকপি দিয়ে তৈরি একটা সবজি এবং ডিমের কারি দিয়ে সেদিন রাতে আমাদের ডিনার কমপ্লিট করেছিলাম।
পরদিন সকালে লাচুংকে বিদায় জানিয়ে আমরা আবার রওনা করেছিলাম গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তী পর্বে আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করবো। রডোডেনড্রন ফুলগাছ দেখার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি সুন্দর ছিল সেই সংক্রান্ত আজকের পোস্ট পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।