"একা থাকার লড়াইটা আজ থেকে আরও কঠিন হবে"
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
গতকাল আপনাদের সাথে প্রথমবার দমদম উৎসবে যাওয়ার অভিজ্ঞতার প্রথম পর্ব শেয়ার করেছিলাম এবং বলেছিলাম পরবর্তী পর্বে আপনাদের সাথে বাকি অংশটুকু শেয়ার করবো। তবে আজ আর সেই অংশটুকু নিয়ে লিখতে ইচ্ছা করছে না।
সেই কারণটা জানানোর জন্যই মূলত এতো রাতে পোস্ট লিখতে বসলাম। রাজার মায়ের মৃত্যুর সংবাদ আমি আপনাদের সাথে আগেই শেয়ার করেছি এবং আজ ছিলো ওর মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের শেষ কাজ, অর্থাৎ খাওয়া দাওয়া।
আমার শ্বশুরমশাই মারা যাওয়ার এক বছর হয়নি বলে, আমরা ওদের বাড়িতে খাবো না এ কথা আগেই ওদের জানিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সম্পর্কটা এমনই আত্মিক যে, সমস্ত কিছু খাওয়া-দাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। পাশে থাকাটাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সেই কারণে গতকালই শুভকে বলেছিলাম আজ অফিস ছুটি নিতে। সোমবার দিন মূলত শ্রাদ্ধের রীতি পালিত হয়েছে। তবে সেদিন শুভ ছুটি নিতে পারেনি, যেহেতু সপ্তাহ শুরুর দিন ছিলো। তাই আমিও আর সেদিন একা যাইনি। সত্যি কথা বলতে এইরকম অনুষ্ঠানে একা যেতে আমার ভালো লাগে না। তাছাড়া বিয়ের পর থেকে এখনও পর্যন্ত শাশুড়ি মা অথবা শুভ কোনো একজনকে সাথে নিয়েই গিয়েছি। তাই সোমবার দিন আর একা যেতে পারিনি।
আজ সকাল থেকে শুভ রাজাদের বাড়িতেই ছিলো, কারণ আমার শ্বশুর মশাইয়ের কাজের দিন রাজা সবসময় শুভর সাথে ছিলো। বাজার থেকে কম বেশি যা কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস আনার ছিলো, সবটাতে হেল্প করেছে। রান্নার জায়গাতে উপস্থিত থেকেছে, এমনটি সকলে যাতে ঠিকঠাক ভাবে খেতে পারে, সেই দিকটাও খেয়াল রেখেছে।
যেহেতু আজ ওর জীবনেও সেই রকমই একটা দিন, তাই শুভর ওর পাশে থাকাটা জরুরী ছিলো। তাই সকাল বেলায় ব্রেকফাস্ট করার পর থেকে ও রাজাদের বাড়িতেই ছিলো। আমি বাড়ির সমস্ত কাজ সেড়ে, স্নান করে, পুজো দিয়ে, তারপর দুপুরের রান্না করা করেছিলাম এবং শুভকে বলেছিলাম দুপুরে ফোন করে ওকে ডাকলে, ও যেন স্নান করে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে যায়। সেই সময় আমিও ওর সাথে যাবো।
এই কারণে মোটামুটি আড়াইটা নাগাদ ওকে ফোন করলাম। ও কিছুক্ষণ বাদে এসে স্নান সেরে নিলো। তারপর দুজনে মিলে লাঞ্চ করে একসাথে রেডি হয়ে পৌঁছালাম রাজাদের বাড়িতে। ঢোকার মুখেই দেখলাম কাকিমার ছবি বসিয়েছে। কাকিমার জন্য রাজা একটা চেয়ার অর্ডার দিয়েছিলো, যদিও তাতে খুব বেশিদিন কাকিমা বসতে পারেননি।
তাই আজ ওর ইচ্ছা অনুযায়ী আজ সেই চেয়ারেই কাকিমার ছবিটি সাজানো হয়েছিল। কাকিমার যে শাড়িটি চেয়ারের উপরে দেওয়া ছিলো, আমার ভীষণ পরিচিত লাগছিলো শাড়িটা। পরে হঠাৎ মনে পড়লো, আমাদের বৌভাতের দিন এই শাড়িটি পড়েই কাকিমা অনুষ্ঠান বাড়িতে গিয়েছিলো।
কি অদ্ভুত মানুষের জীবন তাই না? সেইদিন ভাবিনি সেই একই শাড়িতে কাকিমার ছবি এইভাবে দেখতে হবে। জীবন যে কতখানি অনিশ্চিত তা এইরকমই কিছু মুহূর্ত বারবার মনে করিয়ে দেয়।
রাজদের বাড়িতে যারা মোটামুটি আমায় চেনে সকলের সাথেই কমবেশি দেখা হলো এবং কথা হলো। তবে সবারই একই কথা মানুষটা বড্ড আগে চলে গেলো এবং রাজাদের বাড়িটা আর আগের মতন রইল না।
একথা হয়তো এই মুহূর্তে রাজা ও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছে। কারণ আজ মূলত সমস্ত কাজ শেষ হলো। আগামীকাল থেকে লোকজনের আসা-যাওয়া কমে যাবে, ধীরে ধীরে ওই বাড়িটাতে রাজাকে একা থাকাতেই অভ্যস্ত হতে হবে। কারণ আমরা মুখে যতই বলি না পাশে থাকা উচিত, তবে সব সময় বোধহয় পাশে থাকা যায় না।
মাঝের দিনগুলোতে শুভ অফিস থেকে ফেরার পথে রাজার সাথে দেখা করতে যেতো। কিন্তু সারা বছর, বা বাকি জীবন সেটা কন্টিনিউ করা সত্যিই সম্ভব না। তবে একথাও সত্যি জীবন কখনোই কারোর জন্যেই, কোনো ভাবেই, থেমে থাকে না। তাই যেভাবেই হোক না কেন, রাজার দিনও ঠিক কেটে যাবে।
হ্যাঁ মাকে ছাড়া বাড়িতে থাকা কঠিন, এ কথা সকলেই জানি। কিন্তু যে ছেলেটা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবকিছুতেই মায়ের উপর নির্ভর করতো, এই কঠিনটা তার জন্য আরও একটু বেশি কঠিন হবে, এইটুকুই যা পার্থক্য।
সন্ধ্যার পর ওই বাড়ি থেকে ফিরে এসে আমি আর শুভ একই কথা বলছিলাম। কাজের সূত্রে কাকু নিশ্চয়ই কয়েক দিন বাদে বাইরে চলে যাবে, তখন সম্পূর্ণ বাড়িতে রাজা একাই থাকবে।
এই মুহূর্তে একজন সঙ্গীর সত্যিই দরকার ছিলো, তবে তা উপলব্ধি করলেও বাস্তবায়িত করার সময় বা সুযোগ এখন নেই। তাই শুরুর দিকের এই একা থাকার লড়াইটা রাজাকে একাই লড়তে হবে।
Curated by: @ahsansharif